1. satnews24@satkhiranews24.com : sat24admin :
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: ২ লাখ ৫৬ হাজার ভোটার, মাঠে সেনাবাহিনী-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কালিগঞ্জে উন্নয়নের নামে অনিয়মের হরিলুট, সড়ক নির্মাণে প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা পিআইও মফিজুর রহমান ও ঠিকাদার হান্নানকে ঘিরে কালিগঞ্জে ডা. শহিদুল আলম শেষ নির্বাচনী জনসভা-নারী ভোটাররাই হয়ে উঠলেন আশার আলো সাতক্ষীরা-৩ ডা. শহিদুল আলমের ফুটবল জনসভায় গণজোয়ার, শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা জাতিসংঘের নির্বাচনী জরিপে সাতক্ষীরা-৩ আসন ধানের শীষের পক্ষে – বললেন কাজী আলাউদ্দীন কালিগঞ্জের নাজিমগঞ্জ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পুড়ে ছাই ৪টি দোকান, ক্ষতি প্রায় ১ কোটি টাকা কালিগঞ্জে চেয়ারম্যান শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, প্রশাসনকে ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা সার সিন্ডিকেট রুখতে শীঘ্রই দেশব্যাপী নতুন ‘সার ডিলার’ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসছে সাতক্ষীরা-৩ আসন কালিগঞ্জ-আশাশুনি, গেম চেঞ্জার নারী ভোটার মরা গাছের নিচে প্রতিদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে কালিগঞ্জের মানুষ

মহেশখালীর সৌন্দর্যে আদিনাথ মন্দির

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ ইশারাত আলী :

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে, কক্সবাজার জেলার বুকে সাগরবেষ্টিত এক অনন্য দ্বীপ মহেশখালী। পাহাড়, সমুদ্র, সবুজ বন আর লোকজ সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই দ্বীপের সবচেয়ে পবিত্র ও দর্শনীয় স্থান হলো মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত আদিনাথ মন্দির।

ভোরের আলোয় যখন মহেশখালীর পথে যাত্রা শুরু হয়, তখন নীল আকাশ আর সাগরের ঢেউ যেন এক অদ্ভুত মায়ায় ডেকে নিয়ে যায়। পাহাড়ি পথ বেয়ে ওপরে উঠতে উঠতে চারপাশে ছড়িয়ে থাকা সবুজ বন, দূরে বিস্তৃত সমুদ্র আর নিচে জনপদের দৃশ্য মনকে করে তোলে প্রশান্ত। মৈনাক পাহাড়ের প্রায় ২৮৮ ফুট উচ্চতায় পৌঁছালে দেখা মেলে প্রাচীন আদিনাথ মন্দিরের—যেন প্রকৃতি আর আধ্যাত্মিকতার এক মহামিলনস্থল।

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, আদিনাথ মন্দিরের প্রচলন ত্রেতাযুগ থেকে। রামায়ণ ও বিভিন্ন পুরাণে এই স্থানের উল্লেখ রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। দেবাদিদেব মহাদেব শিবের নামে উৎসর্গীকৃত এই মন্দির মহেশখালীর নামকরণের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। যদিও বর্তমান কাঠামোর কিছু অংশ ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত, তবুও এর প্রতিটি ইট-পাথরে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস ও আস্থার ছোঁয়া।

মন্দিরটি তিনটি অংশে বিভক্ত। ভেতরে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়ে দুটি পূজা কক্ষ—একটিতে বাণলিঙ্গ শিবমূর্তি এবং অন্যটিতে অষ্টভূজা দুর্গা মূর্তি। স্থাপত্যে তান্ত্রিক প্রভাব স্পষ্ট; পদ্ম, কলস, চক্র ও ত্রিশূলের মতো প্রতীক মন্দিরকে দিয়েছে এক রহস্যময় গাম্ভীর্য।

প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে এখানে বসে ১৩ দিনব্যাপী বিশাল মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থী আসেন আদিনাথের দর্শনে। মেলার সময় পাহাড়জুড়ে উৎসবের রং, ঢাক-ঢোলের শব্দ আর ভক্তদের প্রার্থনায় পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

আদিনাথ মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়; এটি মহেশখালীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, পৌরাণিক কাহিনি ও মানুষের বিশ্বাসের এক অনন্য প্রতীক। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সাগরের দিকে তাকালে মনে হয়—এখানে সময় থেমে গেছে, আর যুগ যুগ ধরে মানুষের আস্থা এই মন্দিরকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে।

মহেশখালী ভ্রমণ যেন আদিনাথ মন্দির দর্শন ছাড়া অসম্পূর্ণ। প্রকৃতি, ইতিহাস আর আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে যারা বেরিয়ে পড়েন, তাদের জন্য আদিনাথ মন্দির নিঃসন্দেহে এক অনন্য গন্তব্য

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৩০৬ বার পড়া হয়েছে
Logo
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় : সময় সূর্যাস্ত : সময়

মহেশখালীর সৌন্দর্যে আদিনাথ মন্দির

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী :

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে, কক্সবাজার জেলার বুকে সাগরবেষ্টিত এক অনন্য দ্বীপ মহেশখালী। পাহাড়, সমুদ্র, সবুজ বন আর লোকজ সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই দ্বীপের সবচেয়ে পবিত্র ও দর্শনীয় স্থান হলো মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত আদিনাথ মন্দির।

ভোরের আলোয় যখন মহেশখালীর পথে যাত্রা শুরু হয়, তখন নীল আকাশ আর সাগরের ঢেউ যেন এক অদ্ভুত মায়ায় ডেকে নিয়ে যায়। পাহাড়ি পথ বেয়ে ওপরে উঠতে উঠতে চারপাশে ছড়িয়ে থাকা সবুজ বন, দূরে বিস্তৃত সমুদ্র আর নিচে জনপদের দৃশ্য মনকে করে তোলে প্রশান্ত। মৈনাক পাহাড়ের প্রায় ২৮৮ ফুট উচ্চতায় পৌঁছালে দেখা মেলে প্রাচীন আদিনাথ মন্দিরের—যেন প্রকৃতি আর আধ্যাত্মিকতার এক মহামিলনস্থল।

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, আদিনাথ মন্দিরের প্রচলন ত্রেতাযুগ থেকে। রামায়ণ ও বিভিন্ন পুরাণে এই স্থানের উল্লেখ রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। দেবাদিদেব মহাদেব শিবের নামে উৎসর্গীকৃত এই মন্দির মহেশখালীর নামকরণের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। যদিও বর্তমান কাঠামোর কিছু অংশ ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত, তবুও এর প্রতিটি ইট-পাথরে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস ও আস্থার ছোঁয়া।

মন্দিরটি তিনটি অংশে বিভক্ত। ভেতরে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়ে দুটি পূজা কক্ষ—একটিতে বাণলিঙ্গ শিবমূর্তি এবং অন্যটিতে অষ্টভূজা দুর্গা মূর্তি। স্থাপত্যে তান্ত্রিক প্রভাব স্পষ্ট; পদ্ম, কলস, চক্র ও ত্রিশূলের মতো প্রতীক মন্দিরকে দিয়েছে এক রহস্যময় গাম্ভীর্য।

প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে এখানে বসে ১৩ দিনব্যাপী বিশাল মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থী আসেন আদিনাথের দর্শনে। মেলার সময় পাহাড়জুড়ে উৎসবের রং, ঢাক-ঢোলের শব্দ আর ভক্তদের প্রার্থনায় পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

আদিনাথ মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়; এটি মহেশখালীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, পৌরাণিক কাহিনি ও মানুষের বিশ্বাসের এক অনন্য প্রতীক। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সাগরের দিকে তাকালে মনে হয়—এখানে সময় থেমে গেছে, আর যুগ যুগ ধরে মানুষের আস্থা এই মন্দিরকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে।

মহেশখালী ভ্রমণ যেন আদিনাথ মন্দির দর্শন ছাড়া অসম্পূর্ণ। প্রকৃতি, ইতিহাস আর আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে যারা বেরিয়ে পড়েন, তাদের জন্য আদিনাথ মন্দির নিঃসন্দেহে এক অনন্য গন্তব্য