1. satnews24@satkhiranews24.com : sat24admin :
সাতক্ষীরা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের মাঝে বিনামূল্যে মৌ-বাক্স ও রাণী মৌমাছি বিতরণ তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু ; কালিগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট কালিগঞ্জে মুরগি ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা তেহরানের হুঁশিয়ারি: ‘আঙুল ট্রিগারেই আছে’, তবে স্থায়ী শান্তিতে আগ্রহী ইরান লেবাননে নিহত রেমিট্যান্স যোদ্ধা  নাহিদুলের বাড়িতে ইউএনও শ্রীউলার ভাঙ্গন কবলিত হাজরাখালী ভেড়ী বাঁধ পরিদর্শেন এমপি রবিউল বাশার কালিগঞ্জে ওয়াকফ এস্টেটের জমি জবরদখল ও দোকানঘর ভাঙচুরের অভিযোগ কালিগঞ্জে ভূমিহীনদের হুমকির অভিযোগ; সরকারি খাস জমি জবরদখলের চেষ্টা বিনামূল্যে নলতায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ল্যাবরেটরি টেস্টের উদ্বোধন

মহেশখালীর সৌন্দর্যে আদিনাথ মন্দির

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮৩৫ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইশারাত আলী :

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে, কক্সবাজার জেলার বুকে সাগরবেষ্টিত এক অনন্য দ্বীপ মহেশখালী। পাহাড়, সমুদ্র, সবুজ বন আর লোকজ সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই দ্বীপের সবচেয়ে পবিত্র ও দর্শনীয় স্থান হলো মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত আদিনাথ মন্দির।

ভোরের আলোয় যখন মহেশখালীর পথে যাত্রা শুরু হয়, তখন নীল আকাশ আর সাগরের ঢেউ যেন এক অদ্ভুত মায়ায় ডেকে নিয়ে যায়। পাহাড়ি পথ বেয়ে ওপরে উঠতে উঠতে চারপাশে ছড়িয়ে থাকা সবুজ বন, দূরে বিস্তৃত সমুদ্র আর নিচে জনপদের দৃশ্য মনকে করে তোলে প্রশান্ত। মৈনাক পাহাড়ের প্রায় ২৮৮ ফুট উচ্চতায় পৌঁছালে দেখা মেলে প্রাচীন আদিনাথ মন্দিরের—যেন প্রকৃতি আর আধ্যাত্মিকতার এক মহামিলনস্থল।

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, আদিনাথ মন্দিরের প্রচলন ত্রেতাযুগ থেকে। রামায়ণ ও বিভিন্ন পুরাণে এই স্থানের উল্লেখ রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। দেবাদিদেব মহাদেব শিবের নামে উৎসর্গীকৃত এই মন্দির মহেশখালীর নামকরণের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। যদিও বর্তমান কাঠামোর কিছু অংশ ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত, তবুও এর প্রতিটি ইট-পাথরে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস ও আস্থার ছোঁয়া।

মন্দিরটি তিনটি অংশে বিভক্ত। ভেতরে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়ে দুটি পূজা কক্ষ—একটিতে বাণলিঙ্গ শিবমূর্তি এবং অন্যটিতে অষ্টভূজা দুর্গা মূর্তি। স্থাপত্যে তান্ত্রিক প্রভাব স্পষ্ট; পদ্ম, কলস, চক্র ও ত্রিশূলের মতো প্রতীক মন্দিরকে দিয়েছে এক রহস্যময় গাম্ভীর্য।

প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে এখানে বসে ১৩ দিনব্যাপী বিশাল মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থী আসেন আদিনাথের দর্শনে। মেলার সময় পাহাড়জুড়ে উৎসবের রং, ঢাক-ঢোলের শব্দ আর ভক্তদের প্রার্থনায় পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

আদিনাথ মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়; এটি মহেশখালীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, পৌরাণিক কাহিনি ও মানুষের বিশ্বাসের এক অনন্য প্রতীক। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সাগরের দিকে তাকালে মনে হয়—এখানে সময় থেমে গেছে, আর যুগ যুগ ধরে মানুষের আস্থা এই মন্দিরকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে।

মহেশখালী ভ্রমণ যেন আদিনাথ মন্দির দর্শন ছাড়া অসম্পূর্ণ। প্রকৃতি, ইতিহাস আর আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে যারা বেরিয়ে পড়েন, তাদের জন্য আদিনাথ মন্দির নিঃসন্দেহে এক অনন্য গন্তব্য

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের মাঝে বিনামূল্যে মৌ-বাক্স ও রাণী মৌমাছি বিতরণ

মহেশখালীর সৌন্দর্যে আদিনাথ মন্দির

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী :

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে, কক্সবাজার জেলার বুকে সাগরবেষ্টিত এক অনন্য দ্বীপ মহেশখালী। পাহাড়, সমুদ্র, সবুজ বন আর লোকজ সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই দ্বীপের সবচেয়ে পবিত্র ও দর্শনীয় স্থান হলো মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত আদিনাথ মন্দির।

ভোরের আলোয় যখন মহেশখালীর পথে যাত্রা শুরু হয়, তখন নীল আকাশ আর সাগরের ঢেউ যেন এক অদ্ভুত মায়ায় ডেকে নিয়ে যায়। পাহাড়ি পথ বেয়ে ওপরে উঠতে উঠতে চারপাশে ছড়িয়ে থাকা সবুজ বন, দূরে বিস্তৃত সমুদ্র আর নিচে জনপদের দৃশ্য মনকে করে তোলে প্রশান্ত। মৈনাক পাহাড়ের প্রায় ২৮৮ ফুট উচ্চতায় পৌঁছালে দেখা মেলে প্রাচীন আদিনাথ মন্দিরের—যেন প্রকৃতি আর আধ্যাত্মিকতার এক মহামিলনস্থল।

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, আদিনাথ মন্দিরের প্রচলন ত্রেতাযুগ থেকে। রামায়ণ ও বিভিন্ন পুরাণে এই স্থানের উল্লেখ রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। দেবাদিদেব মহাদেব শিবের নামে উৎসর্গীকৃত এই মন্দির মহেশখালীর নামকরণের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। যদিও বর্তমান কাঠামোর কিছু অংশ ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত, তবুও এর প্রতিটি ইট-পাথরে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস ও আস্থার ছোঁয়া।

মন্দিরটি তিনটি অংশে বিভক্ত। ভেতরে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়ে দুটি পূজা কক্ষ—একটিতে বাণলিঙ্গ শিবমূর্তি এবং অন্যটিতে অষ্টভূজা দুর্গা মূর্তি। স্থাপত্যে তান্ত্রিক প্রভাব স্পষ্ট; পদ্ম, কলস, চক্র ও ত্রিশূলের মতো প্রতীক মন্দিরকে দিয়েছে এক রহস্যময় গাম্ভীর্য।

প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে এখানে বসে ১৩ দিনব্যাপী বিশাল মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থী আসেন আদিনাথের দর্শনে। মেলার সময় পাহাড়জুড়ে উৎসবের রং, ঢাক-ঢোলের শব্দ আর ভক্তদের প্রার্থনায় পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

আদিনাথ মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়; এটি মহেশখালীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, পৌরাণিক কাহিনি ও মানুষের বিশ্বাসের এক অনন্য প্রতীক। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সাগরের দিকে তাকালে মনে হয়—এখানে সময় থেমে গেছে, আর যুগ যুগ ধরে মানুষের আস্থা এই মন্দিরকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে।

মহেশখালী ভ্রমণ যেন আদিনাথ মন্দির দর্শন ছাড়া অসম্পূর্ণ। প্রকৃতি, ইতিহাস আর আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে যারা বেরিয়ে পড়েন, তাদের জন্য আদিনাথ মন্দির নিঃসন্দেহে এক অনন্য গন্তব্য