
আন্তর্জার্তিক নিউজ ডেক্স :
দীর্ঘ সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অবরোধের পর হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি বড় ধরনের সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আজ বুধবার পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি ‘এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ পাহারার বিশেষ সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ (Project Freedom) সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ইরানের সাথে আলোচনায় “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরান সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে যে, একটি চূড়ান্ত চুক্তি হলে তারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেবে। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ সতর্ক করেছেন যে, ওই অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতি স্থায়ীভাবে কমিয়ে আনতে হবে।
কূটনৈতিক সূত্রমতে, এই চুক্তির মূল শর্ত হলো ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং জব্দ করা কয়েক বিলিয়ন ডলার অর্থ ছাড় দেবে। দুই দেশের মধ্যে বরফ গলার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন দেখা গেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম সংকটে পড়ে এবং তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। গত কয়েক দিন ধরে পাকিস্তান ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় এই অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা চলছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টা এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক মাসের ভয়াবহ সংঘাতের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটাতে পারে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন যে, চুক্তি সফল না হলে এবং হরমুজ প্রণালীতে আবারও হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘ধ্বংসাত্মক’ জবাব দিতে প্রস্তুত।
প্রতিনিধির নাম 








