
মোঃ ইশারাত আলী :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামে একটি পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে মোঃ গোলাম রসুলের পরিবার। ৩৫ বছর ধরে ব্যবহৃত পথটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে দেয়াল টপকে যাতায়াত করতে হচ্ছে নারী ও বৃদ্ধসহ পরিবারের সদস্যদের।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রঘুরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের অংশে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে বসবাস করছেন গোলাম রসুল। এতদিন বিদ্যালয়ের মাঠই ছিল তাদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। সম্প্রতি স্কুল কর্তৃপক্ষ মাঠের চারপাশ ঘিরে বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণ করলে পরিবারটির যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে তারা পার্শ্ববর্তী ডিআরএম ইউনাইটেড আইডিয়াল কলেজের দক্ষিণ পাশ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলে সেখানেও কলেজ কর্তৃপক্ষ ও কয়েকজন শিক্ষক বাধা দেন এবং বাউন্ডারি দিয়ে পথটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেন।
গত মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে রঘুরামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। গোলাম রসুলের পরিবারের সদস্যরা কয়েকটি ইট উঁচু করে সাজিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রাচীর টপকে যাতায়াত করছেন। ভুক্তভোগী জাহিদ হাসান জানান, দিনের বেলা কলেজের ভেতর দিয়ে কোনোমতে পায়ে হেঁটে যাওয়ার অনুমতি মিললেও কোনো যানবাহন বা জরুরি প্রয়োজনে রোগী বহনের ব্যবস্থা নেই। এছাড়া সন্ধ্যা হলেই স্কুল ও কলেজের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে পুরো পরিবারটি কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়ে।
বৃদ্ধ গোলাম রসুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কি এই দেশের নাগরিক নই? আমাদের যাতায়াতের জন্য এই রাস্তা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। এক বছর ধরে প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। আমরা এখন নিজেদের বাড়িতেই বন্দি।”
এ বিষয়ে ডিআরএম ইউনাইটেড আইডিয়াল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন এবং এ নিয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই। অন্যদিকে, স্কুল কমিটির পক্ষ থেকেও বিকল্প পথের কোনো সুরাহা করা হয়নি।
চলাচলের পথ বন্ধের এই অমানবিক ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, চলাচলের স্বাধীনতা প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। একটি পরিবারকে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল ভুক্তভোগী পরিবারটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় প্রশাসন যেন দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে এই পরিবারটির জন্য একটি স্থায়ী চলাচলের রাস্তা নিশ্চিত করে।
প্রতিনিধির নাম 








