
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কালিগঞ্জ-বিষ্ণুপুর সড়কটি এখন জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা নয়, বরং প্রভাবশালী এক বালু সিন্ডিকেটের ব্যক্তিগত বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। উপজেলার বিষ্ণুপুর চৌমাথা এলাকা দখল করে চলছে বালুর রমরমা ও বেপরোয়া ব্যবসা। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী উৎপল দেবনাথ ও মামুন সিন্ডিকেট করে ১০ চাকার অতি ভারী ট্রাকে বালু এনে সরাসরি মূল সড়কের ওপরই আনলোড (খালাস) করছেন। গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়ক আইন অমান্য করে এই প্রকাশ্য দাপটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন মারাত্মক ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে। আর এর খেসারত দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তি ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ পথচারীরা।
শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টায় বিষ্ণুপুর চৌমাথা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক ভয়ঙ্কর চিত্র। কালিগঞ্জ-বাঁশতলা সড়কের বিষ্ণুপুর চৌমাথা এলাকায় ব্যবসায়ী উৎপল দেবনাথ ও মামুন সম্পূর্ণ গায়ের জোরে সড়কের পাশ এবং মূল পিচের অংশ দখল করে বালু ও ইটের স্তূপ সাজিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ১০ চাকার বিশাল ও ভারী ট্রাক দিয়ে প্রকাশ্যে ব্যস্ত সড়কের ওপর বালু আনলোড করায় ওই এলাকায় সাধারণ যানবাহন ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে। বাতাসে ওড়ানো বালুর গুঁড়োয় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনদুর্ভোগের এই চিত্র দেখে একাধিকবার উৎপল ও মামুনকে সড়কের ওপর বালু রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা কারও কথাই শুনছেন না; বরং উল্টো হুমকি-ধমকি দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলো যেখানে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭ টনের বেশি লোড নেওয়ার উপযোগী নয়, সেখানে ১০ চাকার ২০ থেকে ৩০ টনের ভারী যানবাহন চলায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে ও দেবে গিয়ে ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে এবং সড়কের ওপর বালু রাখার বৈধতা জানতে ব্যবসায়ী উৎপল দেবনাথের মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করা হলে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে এবং প্রশ্নের মুখে পড়ার ভয়ে উৎপল দেবনাথ কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তার এই পলায়নপর ভূমিকাই প্রমাণ করে যে, আইনের তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এই জনবিরোধী বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। তীব্র ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, একটি ইউনিয়নের অভিভাবক খোদ ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম যেখানে এই সিন্ডিকেটের কাছে অসহায়ত্ব প্রকাশ করছেন, সেখানে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। চেয়ারম্যানের বারবার নিষেধ সত্ত্বেও কীভাবে এই সিন্ডিকেট বুক ফুলিয়ে সরকারি সড়ক দখল করে রাখে, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র গুঞ্জন চলছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন-জনসাধারণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত সড়ক ধ্বংসকারী এই উৎপল ও মামুনের খুঁটির জোর কোথায়?
ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও ভুক্তভোগীরা আর কোনো মৌখিক আশ্বাস বা লোকদেখানো নিষেধাজ্ঞা চান না। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ বালুর স্তূপ উচ্ছেদ, ১০ চাকার ভারী ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ এবং সড়ক ধ্বংসকারী উৎপল ও মামুনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। প্রশাসন যদি এখনই এই বেপরোয়া বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ বা কঠোর অ্যাকশনে না যায়, তবে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কালিগঞ্জ-বিষ্ণুপুর সড়কটি অচিরেই সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।
প্রতিনিধির নাম 

















