1. satkhiranews24@yahoo.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে পিরোজপুর পথকলি স্কুলেও দুঃসাহসিক চুরি, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ কালিগঞ্জে কাপড়ের দোকানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ, ২৩ বস্তা মালামাল উদ্ধার কালিগঞ্জে ড্রিংকিং ওয়াটার প্ল্যান্ট মালিক সমিতির সভা, নতুন কমিটি গঠন ও চারা বিতরণ কালিগঞ্জে প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে সচেতনতামূলক সংলাপ অনুষ্ঠিত প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পটেকর, গোয়ার বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ৭৫ বছর বয়সে সম্পাদকীয় : সারের ডিলারশিপ ও রাজনৈতিক আধিপত্য: বদলাচ্ছে শুধু ব্যানার, কৃষকের ভাগ্য কি বদলাবে? চাঁচাই বৃক্ষমেলা: অনুমোদনহীন আয়োজন ও ব্যবসায়ীদের লোকসান-দায় কার? কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে মৎস্যজীবী দলের কর্মী সম্মেলন ও নতুন কমিটি ঘোষণা কালিগঞ্জে ডাচ-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট আউটলেটের স্বচ্ছতা ও অঙ্গীকার নিয়ে গ্রাহক সমাবেশ শিক্ষক দিবসে প্রশ্ন—শিক্ষককে কতটা শিক্ষক থাকতে দিচ্ছি?

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: চুক্তিতে না এলে ইরানে হবে ‘ভয়াবহ ও উচ্চপর্যায়ের’ হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এক চরম নাটকীয় মোড় নিয়েছে। আজ বুধবার (৬ মে, ২০২৬), মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এক চূড়ান্ত সময়সীমা (Ultimatum) বেঁধে দিয়েছেন। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা—ইরান যদি প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তিতে সই না করে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে দেশটিতে এর আগে পরিচালিত ‘এপিক ফিউরি’ (Epic Fury) অভিযানের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক বোমা হামলা চালানো হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লিখেছেন: “ধরে নিচ্ছি ইরান সমঝোতায় আসতে রাজি হবে, যদিও এটি একটি বড় অনুমান। যদি তারা একমত হয়, তবে আমাদের কিংবদন্তি ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের সমাপ্তি ঘটবে। কিন্তু যদি তারা রাজি না হয়, তবে পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরু হবে-যা হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি উচ্চপর্যায়ের (higher level) এবং তীব্র।”

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এবং তেহরান একটি ১৪ দফা সংবলিত সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার পথ সুগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তান ও তুরস্ক এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে।

উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত হিসেবে ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীর ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ (Project Freedom) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল মার্কিন পাহারায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জোরপূর্বক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। পাকিস্তানসহ কয়েকটি মিত্র দেশের অনুরোধে আলোচনার সুযোগ দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, “কাউকে আমাদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করতে দেওয়া হবে না।” এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইরান এখন একটি ‘সুপারপাওয়ার’ এবং তারা ভারতের মতো বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করছে। তবে চীনের পক্ষ থেকে ইরানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এবং যুদ্ধের শঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আজ ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম কিছুটা কমলেও (প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৩ ডলার) যুদ্ধের উত্তেজনা পুনরায় বাড়লে এটি আরও আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী কয়েক ঘণ্টা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের এই ‘মরণকামড়’ বা চূড়ান্ত হুমকির মুখে ইরান পিছু হটে চুক্তিতে আসবে, নাকি অঞ্চলটি আরও বড় কোনো অগ্নিকাণ্ডের দিকে ধাবিত হবে-তা এখন দেখার বিষয়।


ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে পিরোজপুর পথকলি স্কুলেও দুঃসাহসিক চুরি, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: চুক্তিতে না এলে ইরানে হবে ‘ভয়াবহ ও উচ্চপর্যায়ের’ হামলা

আপডেট সময় : ০৯:০৬:৫৬ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এক চরম নাটকীয় মোড় নিয়েছে। আজ বুধবার (৬ মে, ২০২৬), মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এক চূড়ান্ত সময়সীমা (Ultimatum) বেঁধে দিয়েছেন। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা—ইরান যদি প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তিতে সই না করে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে দেশটিতে এর আগে পরিচালিত ‘এপিক ফিউরি’ (Epic Fury) অভিযানের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক বোমা হামলা চালানো হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লিখেছেন: “ধরে নিচ্ছি ইরান সমঝোতায় আসতে রাজি হবে, যদিও এটি একটি বড় অনুমান। যদি তারা একমত হয়, তবে আমাদের কিংবদন্তি ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের সমাপ্তি ঘটবে। কিন্তু যদি তারা রাজি না হয়, তবে পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরু হবে-যা হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি উচ্চপর্যায়ের (higher level) এবং তীব্র।”

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এবং তেহরান একটি ১৪ দফা সংবলিত সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার পথ সুগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তান ও তুরস্ক এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে।

উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত হিসেবে ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীর ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ (Project Freedom) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল মার্কিন পাহারায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জোরপূর্বক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। পাকিস্তানসহ কয়েকটি মিত্র দেশের অনুরোধে আলোচনার সুযোগ দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, “কাউকে আমাদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করতে দেওয়া হবে না।” এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইরান এখন একটি ‘সুপারপাওয়ার’ এবং তারা ভারতের মতো বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করছে। তবে চীনের পক্ষ থেকে ইরানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এবং যুদ্ধের শঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আজ ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম কিছুটা কমলেও (প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৩ ডলার) যুদ্ধের উত্তেজনা পুনরায় বাড়লে এটি আরও আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী কয়েক ঘণ্টা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের এই ‘মরণকামড়’ বা চূড়ান্ত হুমকির মুখে ইরান পিছু হটে চুক্তিতে আসবে, নাকি অঞ্চলটি আরও বড় কোনো অগ্নিকাণ্ডের দিকে ধাবিত হবে-তা এখন দেখার বিষয়।