1. satnews24@satkhiranews24.com : sat24admin :
সাতক্ষীরা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালী নিয়ে সংঘাতের অবসান? চুক্তির খুব কাছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: চুক্তিতে না এলে ইরানে হবে ‘ভয়াবহ ও উচ্চপর্যায়ের’ হামলা কালিগঞ্জে অবরুদ্ধ এক পরিবার: চলাচলের পথ বন্ধ করে প্রাচীর, কয়েক বছর ধরে মানবেতর জীবন ইরান বলছে-যুক্তরাষ্ট্র সামনে মাত্র দুটি পথ খোলা আছে কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস পালিত : সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান কালিগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে মহান মে দিবস পালিত: শ্রমিক ঐক্যের বিকল্প নেই কালিগঞ্জের খাজাবাড়িয়ায় চলাচ‌লের রাস্তা নি‌য়ে বিরোধে কোদালের কোপে নারীসহ ৫ জন রক্তাক্ত জখম কালিগঞ্জে থানা সংস্কারের নামে নাজিমগঞ্জ বাজারে ‘চাঁদা’ আদায় : তোলপাড় কালিগঞ্জে সিন্ডিকেটের কবলে কৃষকের ৭৫ কোটি টাকা-রক্তচোষা অফিসার, সার ডিলার ও সুদে মহাজনের হালখাতার উল্লাস কালিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: চুক্তিতে না এলে ইরানে হবে ‘ভয়াবহ ও উচ্চপর্যায়ের’ হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এক চরম নাটকীয় মোড় নিয়েছে। আজ বুধবার (৬ মে, ২০২৬), মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এক চূড়ান্ত সময়সীমা (Ultimatum) বেঁধে দিয়েছেন। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা—ইরান যদি প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তিতে সই না করে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে দেশটিতে এর আগে পরিচালিত ‘এপিক ফিউরি’ (Epic Fury) অভিযানের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক বোমা হামলা চালানো হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লিখেছেন: “ধরে নিচ্ছি ইরান সমঝোতায় আসতে রাজি হবে, যদিও এটি একটি বড় অনুমান। যদি তারা একমত হয়, তবে আমাদের কিংবদন্তি ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের সমাপ্তি ঘটবে। কিন্তু যদি তারা রাজি না হয়, তবে পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরু হবে-যা হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি উচ্চপর্যায়ের (higher level) এবং তীব্র।”

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এবং তেহরান একটি ১৪ দফা সংবলিত সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার পথ সুগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তান ও তুরস্ক এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে।

উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত হিসেবে ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীর ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ (Project Freedom) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল মার্কিন পাহারায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জোরপূর্বক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। পাকিস্তানসহ কয়েকটি মিত্র দেশের অনুরোধে আলোচনার সুযোগ দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, “কাউকে আমাদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করতে দেওয়া হবে না।” এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইরান এখন একটি ‘সুপারপাওয়ার’ এবং তারা ভারতের মতো বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করছে। তবে চীনের পক্ষ থেকে ইরানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এবং যুদ্ধের শঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আজ ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম কিছুটা কমলেও (প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৩ ডলার) যুদ্ধের উত্তেজনা পুনরায় বাড়লে এটি আরও আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী কয়েক ঘণ্টা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের এই ‘মরণকামড়’ বা চূড়ান্ত হুমকির মুখে ইরান পিছু হটে চুক্তিতে আসবে, নাকি অঞ্চলটি আরও বড় কোনো অগ্নিকাণ্ডের দিকে ধাবিত হবে-তা এখন দেখার বিষয়।


ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হরমুজ প্রণালী নিয়ে সংঘাতের অবসান? চুক্তির খুব কাছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: চুক্তিতে না এলে ইরানে হবে ‘ভয়াবহ ও উচ্চপর্যায়ের’ হামলা

আপডেট সময় : ০৯:০৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এক চরম নাটকীয় মোড় নিয়েছে। আজ বুধবার (৬ মে, ২০২৬), মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এক চূড়ান্ত সময়সীমা (Ultimatum) বেঁধে দিয়েছেন। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা—ইরান যদি প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তিতে সই না করে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে দেশটিতে এর আগে পরিচালিত ‘এপিক ফিউরি’ (Epic Fury) অভিযানের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক বোমা হামলা চালানো হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লিখেছেন: “ধরে নিচ্ছি ইরান সমঝোতায় আসতে রাজি হবে, যদিও এটি একটি বড় অনুমান। যদি তারা একমত হয়, তবে আমাদের কিংবদন্তি ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের সমাপ্তি ঘটবে। কিন্তু যদি তারা রাজি না হয়, তবে পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরু হবে-যা হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি উচ্চপর্যায়ের (higher level) এবং তীব্র।”

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এবং তেহরান একটি ১৪ দফা সংবলিত সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার পথ সুগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তান ও তুরস্ক এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে।

উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত হিসেবে ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীর ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ (Project Freedom) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল মার্কিন পাহারায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জোরপূর্বক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। পাকিস্তানসহ কয়েকটি মিত্র দেশের অনুরোধে আলোচনার সুযোগ দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, “কাউকে আমাদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করতে দেওয়া হবে না।” এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইরান এখন একটি ‘সুপারপাওয়ার’ এবং তারা ভারতের মতো বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করছে। তবে চীনের পক্ষ থেকে ইরানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এবং যুদ্ধের শঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আজ ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম কিছুটা কমলেও (প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৩ ডলার) যুদ্ধের উত্তেজনা পুনরায় বাড়লে এটি আরও আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী কয়েক ঘণ্টা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের এই ‘মরণকামড়’ বা চূড়ান্ত হুমকির মুখে ইরান পিছু হটে চুক্তিতে আসবে, নাকি অঞ্চলটি আরও বড় কোনো অগ্নিকাণ্ডের দিকে ধাবিত হবে-তা এখন দেখার বিষয়।