
মোঃ ইশারাত আলী, কালিগঞ্জ থেকে :
সরকারি ‘বীর নিবাস’ (বাড়ি) বরাদ্দ দেওয়া এবং বন্ধ থাকা ভাতা পুনরায় চালু করে দেওয়ার নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে। শেষ সম্বল হারিয়ে ভুক্তভোগী ওই মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে জরাজীর্ণ এক কুঁড়েঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামের মৃত নেদু গাজীর ছেলে।
গত সোমবার (১৮ মে) বিকেলে সরেজমিনে মুকুন্দপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন ও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একটি ভাঙাচোরা কুঁড়েঘরে অসুস্থ অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
আলাপকালে আবুল হোসেন জানান, তিনি একসময় ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু ২০২২ সালে কোনো এক অজানা কারণে হঠাৎ করেই তার সরকারি ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। কেন বা কী কারণে তার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তা তিনি আজও জানতে পারেননি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভাতা বন্ধ হওয়ার পর তার সরলতার সুযোগ নেন কালিগঞ্জের সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম। পুনরায় মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা এবং সরকারি ‘বীর নিবাস’ পাইয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়ে সাবেক কমান্ডার আব্দুল হাকিম কয়েক দফায় তার কাছ থেকে নগদ প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা গ্রহণ করেন।
টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও আবুল হোসেন ঘর পাননি, চালু হয়নি তার আজীবনের সম্মানী ভাতাও। উল্টো জমানো সব টাকা খুইয়ে আজ তিনি নিঃস্ব। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা বলেন,
“ঘর কিংবা মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম না উঠলে মরেও শান্তি পাবো না। টাকা দিলাম, আশ্বাস পেলাম, কিন্তু কিছুই হলো না। এখন এই ভাঙা ঘরে মৃত্যুর অপেক্ষায় আছি।”
এদিকে এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সাবেক কমান্ডার আব্দুল হাকিমের এই আর্থিক লেনদেনের শিকার কেবল আবুল হোসেন একাই নন। কালিগঞ্জ উপজেলার আরও অনেক প্রান্তিক ও সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবার ভাতা চালু ও সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ও সরকারি অনুদান নিয়ে অনিয়ম করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল দাবি করেন।
স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ জীবন কেন এমন নির্মম অবহেলা আর প্রতারণার মধ্যে কাটবে-এই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধার টাকা আত্মসাতকারী সাবেক কমান্ডার আব্দুল হাকিমসহ এই চক্রের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।#
প্রতিনিধির নাম 

















