
সুকুমার দাশ বাচ্চু, কালিগঞ্জ থেকে :
সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ-শ্যামনগর সড়কের কালিগঞ্জ সদর সংলগ্ন এলাকায় কালভার্ট নির্মাণের ধীরগতি এবং নামমাত্র বাইপাস সড়কের চরম অব্যবস্থাপনায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। সাতক্ষীরা-ভেটখালী সড়কের রহিমপুর ঈদগাহ মোড় থেকে মোসলেমের হাট এলাকা পর্যন্ত সংযোগ সড়কের অবস্থা বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
সাতক্ষীরা ও শ্যামনগরের সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ভায়া বাজার গ্রাম রহিমপুর ঈদগাহ সংলগ্ন কালভার্টটি পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে ধীরগতিতে। বিকল্প হিসেবে পাশে একটি বাইপাস সড়ক তৈরি করা হলেও সেটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বাইপাস সড়কে হাঁটু সমান কাদা ও পানি জমেছে। সড়কের মাঝখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় চালকরা দূর থেকে গভীরতা বুঝতে পারছেন না। ফলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাক কাদার গর্তে আটকে পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করেছে।
সড়কটি দিয়ে যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেল ও শত শত ইজিবাইক চলাচল করে। বর্তমানে মূল সড়ক বন্ধ থাকায় এবং বাইপাস কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলেরও উপায় নেই। বাধ্য হয়ে পথচারীরা পাশের দোকানের বারান্দা দিয়ে যাতায়াত করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুলতলা মোড় থেকে সামান্য সামনে এই নির্মাণাধীন কাজের কোনো তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড বা ঠিকাদারের হদিস নেই।
ভয়াবহ এই জনদুর্ভোগ সত্ত্বেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন কিংবা সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কোনো তদারকি না থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা ঠিকাদারের পক্ষ থেকে কাদা সরানোর বা ইট-খোয়া দিয়ে চলাচলের উপযোগী করার কোনো উদ্যোগ গত কয়েক দিনেও দেখা যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও আটকে পড়া পরিবহনের চালকরা জানান, “বাইপাস সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।”
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতি দ্রুত এই কর্দমাক্ত রাস্তাটি সংস্কার করে যান চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন কালিগঞ্জের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
প্রতিনিধির নাম 








