
নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গৃহবধূ সাজিদা খাতুন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় প্রশাসনের দিকে। হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা ও স্বামী মনিরুজ্জামানের ফাঁসি এবং এজাহার গ্রহণে গড়িমশির অভিযোগে কালিগঞ্জ থানার ওসি ও সার্কেল অফিসারের অপসারণ দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে মোল্লার হাট খোলা।
সোমবার বিকেলে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মোল্লার হাট খোলায় আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতিত্ব’ ও ‘গড়িমশির’ বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন। তাদের দাবি, পুলিশ এখনো এজাহারভুক্ত সকল আসামিকে আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে, যা ভুক্তভোগী পরিবারকে চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বক্তাদের মতে, সাজিদা খাতুনের মৃত্যু কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং একটি পরিবারের ধ্বংসের সূচনা। তারা অভিযোগ করেন স্বামী ও যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামানের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান সাজিদা। কন্যা হত্যার বিচার না পেয়ে এবং মানসিক চাপে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান পিতা কেরামত আলী। বক্তারা একে ‘বিচারহীনতার বলি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
মানববন্ধন থেকে সরাসরি কালিগঞ্জ থানার ওসি জুয়েল হোসেন এবং সার্কেল কর্মকর্তা রাজিবের অপসারণ দাবি করা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই কর্মকর্তাদের রহস্যজনক ভূমিকার কারণেই মামলার তদন্ত থমকে আছে এবং অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। “প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার অসহযোগিতা বিচারপ্রক্রিয়াকে গলা টিপে ধরছে। অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবো।” – বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল ফারুকের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে দলমত নির্বিশেষে মানুষ অংশ নেয়। বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল মাহমুদ ছোট্টু, মাওলানা আবুল হায়াত, যুবদলের সভাপতি আমিনুর রহমান এবং নিহত সাজিদার দুই ভাই আব্দুল খালেক ও আব্দুল মালেক।
বক্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ না মনিরুজ্জামানের ফাঁসি এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ রাজপথ ছাড়বে না সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো উপজেলা।
প্রতিনিধির নাম 











