1. satnews24@satkhiranews24.com : sat24admin :
সাতক্ষীরা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের মাঝে বিনামূল্যে মৌ-বাক্স ও রাণী মৌমাছি বিতরণ তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু ; কালিগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট কালিগঞ্জে মুরগি ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা তেহরানের হুঁশিয়ারি: ‘আঙুল ট্রিগারেই আছে’, তবে স্থায়ী শান্তিতে আগ্রহী ইরান লেবাননে নিহত রেমিট্যান্স যোদ্ধা  নাহিদুলের বাড়িতে ইউএনও শ্রীউলার ভাঙ্গন কবলিত হাজরাখালী ভেড়ী বাঁধ পরিদর্শেন এমপি রবিউল বাশার কালিগঞ্জে ওয়াকফ এস্টেটের জমি জবরদখল ও দোকানঘর ভাঙচুরের অভিযোগ কালিগঞ্জে ভূমিহীনদের হুমকির অভিযোগ; সরকারি খাস জমি জবরদখলের চেষ্টা বিনামূল্যে নলতায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ল্যাবরেটরি টেস্টের উদ্বোধন

খাজাবাড়িয়ায় দাপুটে মহলের ‘রাস্তা দখল’: জনচলাচলের রাস্তা রুদ্ধ, প্রশাসন কি নির্বিকার?

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪১৫ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইশারাত আলী :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের খাজাবাড়িয়া গ্রামে কয়েক দশকের ব্যবহৃত একটি রাস্তা ক্ষমতার দাপটে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের এই পথটি রুদ্ধ হয়ে পড়ায় কয়েকটি পরিবার এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘অবরুদ্ধ’ জীবন যাপন করছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিআরএস ২৫ খতিয়ানের ১৯৯ দাগের গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি এখন চলাচলের অযোগ্য, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের জন্য চরম মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

দীর্ঘদিনের পরিচিত এই রাস্তাটি স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক মোড়ল, মোকছেদ আলী, আব্দুল খালেক মোড়ল, মো. জাহাঙ্গীর মোড়ল, মো. জাকির হোসেন, সেলিনা খাতুন ও শরিফুল ইসলামসহ শত শত মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রভাব খাটিয়ে রাস্তাটি ক্রমাগত কাটতে কাটতে ৫ ফুট থেকে কমিয়ে এখন ২ ফুটেরও নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী বহন কিংবা শিশুদের চলাচল এখন প্রায় অসম্ভব।

ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক মোড়ল ও মোকছেদ আলী জানান, তারা বিবাদ মিটিয়ে জনস্বার্থে পথটি সচল রাখতে চান। তারা বলেন: “আমরা চাই আগের মাপে রাস্তাটি হোক। প্রয়োজনে আমরা রাস্তার জায়গার বিনিময়ে জমি দেব অথবা চলাচলের রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জমি কিনে নিতেও রাজি আছি।”

অভিযুক্ত আব্দুল বারী অস্রাব্য ভাষায় গালাগালী করেন। তবে তার ছেলে বলেন রাস্তা সম্পর্কে কোন অভিযোগের খবর আমরা জানিনা। চেয়ারম্যান আমাদের ফোন করিনি।

জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ খাজরা গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের পুত্র আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে মথুরেশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের নিকট লিখিত আবেদন জমা দেন ৭ জন ভুক্তভোগী। কিন্তু আবেদনের প্রায় এক মাস পার হতে চললেও এখনো মেলেনি স্থায়ী সমাধান।

এব্যাপারে অভিযোগের বিপরীতে সাংবাদিকরা সরেজমিন প্রতিবেদনের জন্য গেলে তারা হুমকীর মুখে পড়ে। বিষয়টি স্থানীয় মথুরেশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, “আমি এক মাস আগে অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে দেখে দ্রুত একটি ব্যবস্থা নেব। জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা আটকানোর অধিকার কারও নেই।”

একটি রাস্তা কেবল মাটি বা ইটের পথ নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। ক্ষমতার দাপটে জনপথ বন্ধ করা কেবল অন্যায় নয়, বরং চরম অমানবিক অপরাধ। বর্তমানে খাজাবাড়িয়ার এই রাস্তায় অবৈধ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সামান্য পথ পাড়ি দিতে কয়েক গুণ পথ ঘুরে যেতে হওয়ায় সাধারণ মানুষের সময় ও যাতায়াত ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কালিগঞ্জের এই সংকট নিরসনে প্রশাসন কি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, নাকি ক্ষমতার দাপটে খাজাবাড়িয়ার মানুষকে এভাবেই অবরুদ্ধ থাকতে হবে? এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের। অবিলম্বে অবৈধ বাধা অপসারণ করে রাস্তাটি আগের মাপে পুনর্উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

 

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের মাঝে বিনামূল্যে মৌ-বাক্স ও রাণী মৌমাছি বিতরণ

খাজাবাড়িয়ায় দাপুটে মহলের ‘রাস্তা দখল’: জনচলাচলের রাস্তা রুদ্ধ, প্রশাসন কি নির্বিকার?

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের খাজাবাড়িয়া গ্রামে কয়েক দশকের ব্যবহৃত একটি রাস্তা ক্ষমতার দাপটে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের এই পথটি রুদ্ধ হয়ে পড়ায় কয়েকটি পরিবার এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘অবরুদ্ধ’ জীবন যাপন করছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিআরএস ২৫ খতিয়ানের ১৯৯ দাগের গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি এখন চলাচলের অযোগ্য, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের জন্য চরম মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

দীর্ঘদিনের পরিচিত এই রাস্তাটি স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক মোড়ল, মোকছেদ আলী, আব্দুল খালেক মোড়ল, মো. জাহাঙ্গীর মোড়ল, মো. জাকির হোসেন, সেলিনা খাতুন ও শরিফুল ইসলামসহ শত শত মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রভাব খাটিয়ে রাস্তাটি ক্রমাগত কাটতে কাটতে ৫ ফুট থেকে কমিয়ে এখন ২ ফুটেরও নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী বহন কিংবা শিশুদের চলাচল এখন প্রায় অসম্ভব।

ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক মোড়ল ও মোকছেদ আলী জানান, তারা বিবাদ মিটিয়ে জনস্বার্থে পথটি সচল রাখতে চান। তারা বলেন: “আমরা চাই আগের মাপে রাস্তাটি হোক। প্রয়োজনে আমরা রাস্তার জায়গার বিনিময়ে জমি দেব অথবা চলাচলের রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জমি কিনে নিতেও রাজি আছি।”

অভিযুক্ত আব্দুল বারী অস্রাব্য ভাষায় গালাগালী করেন। তবে তার ছেলে বলেন রাস্তা সম্পর্কে কোন অভিযোগের খবর আমরা জানিনা। চেয়ারম্যান আমাদের ফোন করিনি।

জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ খাজরা গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের পুত্র আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে মথুরেশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের নিকট লিখিত আবেদন জমা দেন ৭ জন ভুক্তভোগী। কিন্তু আবেদনের প্রায় এক মাস পার হতে চললেও এখনো মেলেনি স্থায়ী সমাধান।

এব্যাপারে অভিযোগের বিপরীতে সাংবাদিকরা সরেজমিন প্রতিবেদনের জন্য গেলে তারা হুমকীর মুখে পড়ে। বিষয়টি স্থানীয় মথুরেশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, “আমি এক মাস আগে অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে দেখে দ্রুত একটি ব্যবস্থা নেব। জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা আটকানোর অধিকার কারও নেই।”

একটি রাস্তা কেবল মাটি বা ইটের পথ নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। ক্ষমতার দাপটে জনপথ বন্ধ করা কেবল অন্যায় নয়, বরং চরম অমানবিক অপরাধ। বর্তমানে খাজাবাড়িয়ার এই রাস্তায় অবৈধ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সামান্য পথ পাড়ি দিতে কয়েক গুণ পথ ঘুরে যেতে হওয়ায় সাধারণ মানুষের সময় ও যাতায়াত ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কালিগঞ্জের এই সংকট নিরসনে প্রশাসন কি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, নাকি ক্ষমতার দাপটে খাজাবাড়িয়ার মানুষকে এভাবেই অবরুদ্ধ থাকতে হবে? এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের। অবিলম্বে অবৈধ বাধা অপসারণ করে রাস্তাটি আগের মাপে পুনর্উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।