1. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
সম্পাদকীয়: রাজনীতির অন্ধ আবেগ, হঠকারী সিদ্ধান্ত ও পরিণতি ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সিজেপির ভাইরাল পোস্ট: ‘তেলাপোকারা জিতেছে, গণতন্ত্র জিতেছে’ কালিগঞ্জে রাতভর বৃষ্টিতে শ্রাবণের জলাবদ্ধতা: ডুবছে ফসল, ভেসে যাচ্ছে মাছের ঘের, দ্বিগুণ সবজির দাম রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ: স্পিকারের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিলেন মো. সাহাবুদ্দিন কালিগঞ্জের ঈদগাহ মোড় থেকে কলেজ মোড় পর্যন্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জোরালো দাবি কালিগঞ্জে মিটারের তার টান দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু কালিগঞ্জে বাল্যবিবাহ, মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জে পাউবোর জমিতে পাল্টা পাল্টি অভিযোগ: জলাশয় ইজারার চেষ্টা কালিগঞ্জে রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে জালিয়াতির অভিযোগ গাজী নজরুল ইসলাম – একাত্তরের রণাঙ্গন থেকে রাজনৈতিক অপমৃত্যু: একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পতন ও ট্র্যাজেডির উপাখ্যান

সম্পাদকীয়: রাজনীতির অন্ধ আবেগ, হঠকারী সিদ্ধান্ত ও পরিণতি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৩২ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ১২২ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতি কেবল কথার লড়াই বা বাহাদুরি প্রদর্শনের মঞ্চ নয়; এটি চরম দায়িত্বশীলতা, পরিপক্বতা ও দূরদর্শিতার খেলা। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রায়ই দেখা যায়, সত্যতা যাচাই না করে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা। না বুঝে কারো ঘাড়ের ওপর লাফিয়ে পড়ার আগে এবং কাদা ছোঁড়ার পূর্বে শতবার ভাবা উচিত—যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা আদতে সত্য নাকি কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফসল। মনে রাখতে হবে, সত্য বা মিথ্যার যেকোনো একটিই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে, কিন্তু হঠকারিতার খেসারত দিতে হয় পুরো সমাজকে। নির্মম হলেও সত্য—রাজনীতিতে অন্ধ আবেগের কোনো স্থান নেই; এখানে জায়গা আছে কেবল নীতি, প্রমাণ এবং প্রজ্ঞার।

আদালতের রায় বা নিরপেক্ষ সত্য উদ্ঘাটনের আগেই যদি তড়িঘড়ি করে কারো ওপর হামলা ও মামলার বুলডোজার চালিয়ে দেওয়া হয়, তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই নির্বিচার হয়রানি ও ধ্বংসলীলার দায়ভার আসলে কার? কেবল আবেগ বা হঠকারিতা নয়, কেন আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা—যেমন পুলিশ, আদালত ও প্রশাসন—রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না, সে বিষয়টি আজ জোরালোভাবে ফুটিয়ে তোলা জরুরি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও দীর্ঘসূত্রিতা কীভাবে সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বা ‘মব জাস্টিস’-এর দিকে উদ্বুদ্ধ করছে, তার কঠোর সমালোচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য না মিথ্যে, তা যাচাই করার আগেই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, সেই মানুষগুলোর জীবনের ক্ষতি কে পূরণ করবে? রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে যখন অন্ধ আবেগ বা ক্ষমতার অপব্যবহার জয়ী হয়, তখন ন্যায়বিচার নির্বাসনে যায়—আর এর চড়া মূল্য দিতে হয় গোটা জাতিকে।

হাজার চেষ্টা করেও সত্যকে চিরকাল ধামাচাপা দিয়ে রাখা যায় না, কারণ সেখানে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই। সমাজে যদি স্থায়ী শান্তি এবং প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে অন্ধ আবেগ বা ব্যক্তিগত আক্রোশ বাদ দিয়ে পরিচয় দিতে হবে দূরদর্শী প্রজ্ঞার।

এই পতনের পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ। নেতার অন্ধ পতনের পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে এক শ্রেণির তোষামোদকারী ও সুবিধাবাদী চামচা। যারা সবসময় নেতার জয়গান গেয়ে তাকে বাস্তবতার বাইরে এক কৃত্রিম ঘোরে আটকে রাখে, তাদের স্বরূপ উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সত্যকে সত্য বলার মানসিকতা কেন কর্মী বা সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয় না, সেই সামাজিক মনস্তত্ত্বের টানাপোড়েনও আমাদের সমাজকে পিছিয়ে দিচ্ছে। অন্ধের মতো অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়, কেবল সত্য ও ন্যায়ের আলোকেই একটি সুস্থ ও সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

রাজনীতির মাঠে একজন নেতার একটিমাত্র ভুল সিদ্ধান্ত তার গোটা জীবনের অর্জিত অর্জনকে নিমেষেই ধূলিসাৎ করে দিতে পারে; যার খেসারত তাঁকে দিতে হয় আজীবন। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, অতীতে যারা ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে একই ভুল করেছেন এবং এক সময় ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন, তাদের পরিণতি আজ স্পষ্ট। ভুল স্বীকার না করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মানসিকতা কীভাবে পতনকে আরও ত্বরান্বিত করে, তার বহু ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক সত্য হলো—যখন বড় কোনো বিপদে নেতা একা হয়ে পড়েন, তখন তাঁর মুখের ওপর সহমর্মিতা দেখালেও কাছের অনেক সহকর্মী বা অনুসারী সুযোগের অপেক্ষায় মিটিমিটি হাসেন। কখন একটু দুর্বলতা পাওয়া যাবে আর কখন তাঁকে চিরতরে শেষ করে দেওয়া যাবে, সেই ওঁৎ পেতে থাকা রাজনৈতিক শিকারী ও মুখোশধারীদের চক্রান্ত থেকে বাঁচতে হলে চরম সতর্কতা ও দূরদর্শিতার বিকল্প নেই।

রাজনীতির জটিল সমীকরণে পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা বা সঠিক বিচারবুদ্ধি যদি কারো ভেতরে না থাকে, তবে সময়ের নির্মম স্রোতে তাকে ছিটকে পড়তেই হয়। নিজের হাতে করা ভুল আজ স্পষ্ট ও দৃশ্যমান, অথচ সেই ভুলের দায় বা মাশুল নেওয়ার মতো বিশ্বস্ত কেউ আজ পাশে নেই।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তা আজ সর্বগ্রাসী। অন্ধ দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে কীভাবে তরুণ প্রজন্মকে নীতি ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির দিকে ধাবিত করা যায়, তার একটি ইতিবাচক রূপরেখা বা দিকনির্দেশনা এখনই তৈরি করতে হবে। যখন আত্মঘাতী ভুলগুলো একে একে প্রকাশ পায়, তখন অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর কোনো সুযোগ থাকে না—নিজের করা সেই ভুলের পেনাল্টি শেষ পর্যন্ত তাঁকেই একাই পরিশোধ করতে হয়।

পরিশেষে বলা যায়, রাজনীতির লেবাস গায়ে জড়িয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অতীতে যে অপকর্ম বা লুটপাটের মহোৎসব চালানো হয়েছে, আজ তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষী—অনৈতিক উপায়ে অর্জিত ক্ষমতার মেয়াদ ফুরোলে হিসাবের খাতা ঠিকই সামনে চলে আসে। ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে অতীতে কতটুকু অবৈধ সুবিধা নেওয়া হয়েছিল, আর আজ তার বিনিময়ে কত চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে—তা ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখার সময় এখনই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগে হিসাব মিলিয়ে দেখা উচিত—এই বিশাল মাশুল বা খেসারত দেওয়ার সামর্থ্য আদৌ কারো আছে কি না।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদকীয়: রাজনীতির অন্ধ আবেগ, হঠকারী সিদ্ধান্ত ও পরিণতি

সম্পাদকীয়: রাজনীতির অন্ধ আবেগ, হঠকারী সিদ্ধান্ত ও পরিণতি

আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৩২ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

রাজনীতি কেবল কথার লড়াই বা বাহাদুরি প্রদর্শনের মঞ্চ নয়; এটি চরম দায়িত্বশীলতা, পরিপক্বতা ও দূরদর্শিতার খেলা। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রায়ই দেখা যায়, সত্যতা যাচাই না করে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা। না বুঝে কারো ঘাড়ের ওপর লাফিয়ে পড়ার আগে এবং কাদা ছোঁড়ার পূর্বে শতবার ভাবা উচিত—যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা আদতে সত্য নাকি কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফসল। মনে রাখতে হবে, সত্য বা মিথ্যার যেকোনো একটিই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে, কিন্তু হঠকারিতার খেসারত দিতে হয় পুরো সমাজকে। নির্মম হলেও সত্য—রাজনীতিতে অন্ধ আবেগের কোনো স্থান নেই; এখানে জায়গা আছে কেবল নীতি, প্রমাণ এবং প্রজ্ঞার।

আদালতের রায় বা নিরপেক্ষ সত্য উদ্ঘাটনের আগেই যদি তড়িঘড়ি করে কারো ওপর হামলা ও মামলার বুলডোজার চালিয়ে দেওয়া হয়, তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই নির্বিচার হয়রানি ও ধ্বংসলীলার দায়ভার আসলে কার? কেবল আবেগ বা হঠকারিতা নয়, কেন আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা—যেমন পুলিশ, আদালত ও প্রশাসন—রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না, সে বিষয়টি আজ জোরালোভাবে ফুটিয়ে তোলা জরুরি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও দীর্ঘসূত্রিতা কীভাবে সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বা ‘মব জাস্টিস’-এর দিকে উদ্বুদ্ধ করছে, তার কঠোর সমালোচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য না মিথ্যে, তা যাচাই করার আগেই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, সেই মানুষগুলোর জীবনের ক্ষতি কে পূরণ করবে? রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে যখন অন্ধ আবেগ বা ক্ষমতার অপব্যবহার জয়ী হয়, তখন ন্যায়বিচার নির্বাসনে যায়—আর এর চড়া মূল্য দিতে হয় গোটা জাতিকে।

হাজার চেষ্টা করেও সত্যকে চিরকাল ধামাচাপা দিয়ে রাখা যায় না, কারণ সেখানে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই। সমাজে যদি স্থায়ী শান্তি এবং প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে অন্ধ আবেগ বা ব্যক্তিগত আক্রোশ বাদ দিয়ে পরিচয় দিতে হবে দূরদর্শী প্রজ্ঞার।

এই পতনের পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ। নেতার অন্ধ পতনের পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে এক শ্রেণির তোষামোদকারী ও সুবিধাবাদী চামচা। যারা সবসময় নেতার জয়গান গেয়ে তাকে বাস্তবতার বাইরে এক কৃত্রিম ঘোরে আটকে রাখে, তাদের স্বরূপ উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সত্যকে সত্য বলার মানসিকতা কেন কর্মী বা সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয় না, সেই সামাজিক মনস্তত্ত্বের টানাপোড়েনও আমাদের সমাজকে পিছিয়ে দিচ্ছে। অন্ধের মতো অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়, কেবল সত্য ও ন্যায়ের আলোকেই একটি সুস্থ ও সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

রাজনীতির মাঠে একজন নেতার একটিমাত্র ভুল সিদ্ধান্ত তার গোটা জীবনের অর্জিত অর্জনকে নিমেষেই ধূলিসাৎ করে দিতে পারে; যার খেসারত তাঁকে দিতে হয় আজীবন। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, অতীতে যারা ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে একই ভুল করেছেন এবং এক সময় ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন, তাদের পরিণতি আজ স্পষ্ট। ভুল স্বীকার না করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মানসিকতা কীভাবে পতনকে আরও ত্বরান্বিত করে, তার বহু ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক সত্য হলো—যখন বড় কোনো বিপদে নেতা একা হয়ে পড়েন, তখন তাঁর মুখের ওপর সহমর্মিতা দেখালেও কাছের অনেক সহকর্মী বা অনুসারী সুযোগের অপেক্ষায় মিটিমিটি হাসেন। কখন একটু দুর্বলতা পাওয়া যাবে আর কখন তাঁকে চিরতরে শেষ করে দেওয়া যাবে, সেই ওঁৎ পেতে থাকা রাজনৈতিক শিকারী ও মুখোশধারীদের চক্রান্ত থেকে বাঁচতে হলে চরম সতর্কতা ও দূরদর্শিতার বিকল্প নেই।

রাজনীতির জটিল সমীকরণে পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা বা সঠিক বিচারবুদ্ধি যদি কারো ভেতরে না থাকে, তবে সময়ের নির্মম স্রোতে তাকে ছিটকে পড়তেই হয়। নিজের হাতে করা ভুল আজ স্পষ্ট ও দৃশ্যমান, অথচ সেই ভুলের দায় বা মাশুল নেওয়ার মতো বিশ্বস্ত কেউ আজ পাশে নেই।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তা আজ সর্বগ্রাসী। অন্ধ দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে কীভাবে তরুণ প্রজন্মকে নীতি ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির দিকে ধাবিত করা যায়, তার একটি ইতিবাচক রূপরেখা বা দিকনির্দেশনা এখনই তৈরি করতে হবে। যখন আত্মঘাতী ভুলগুলো একে একে প্রকাশ পায়, তখন অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর কোনো সুযোগ থাকে না—নিজের করা সেই ভুলের পেনাল্টি শেষ পর্যন্ত তাঁকেই একাই পরিশোধ করতে হয়।

পরিশেষে বলা যায়, রাজনীতির লেবাস গায়ে জড়িয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অতীতে যে অপকর্ম বা লুটপাটের মহোৎসব চালানো হয়েছে, আজ তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষী—অনৈতিক উপায়ে অর্জিত ক্ষমতার মেয়াদ ফুরোলে হিসাবের খাতা ঠিকই সামনে চলে আসে। ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে অতীতে কতটুকু অবৈধ সুবিধা নেওয়া হয়েছিল, আর আজ তার বিনিময়ে কত চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে—তা ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখার সময় এখনই। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগে হিসাব মিলিয়ে দেখা উচিত—এই বিশাল মাশুল বা খেসারত দেওয়ার সামর্থ্য আদৌ কারো আছে কি না।