মোঃ ইশারাত আলী :
মাটির সোঁদা গন্ধ আর সাধারণ মানুষের খেটে খাওয়া মুখগুলোই যার জীবনের আসল প্রশান্তি, এমন একজন মানুষের নাম শেখ জাহাঙ্গীর আলম। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ১২ নম্বর মৌতলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কৃতী সন্তান, মরহুম আনোয়ার হোসেনের এই সুযোগ্য পুত্র আজ কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং গোটা এলাকার মানুষের আস্থার এক বিশাল প্রতীক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট পদ থেকে দীর্ঘ ২৪ বছর আগে চাকরি ছেড়ে তিনি ফিরে আসেন নিজের শেকড়ে। উদ্দেশ্য একটাই—সারাজীবন মানুষের পাশে থাকা, তাদের মুখে হাসি ফোটানো এবং সমাজটাকে একটু সুন্দর করে গড়ে তোলা।
২০১৩ সালে তিনি ব্যবসার সাথে যুক্ত হন। কিন্তু ব্যবসা কখনোই তার কাছে মুনাফা অর্জনের মাধ্যম ছিল না; বরং মানুষের বিপদে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এক বিশাল ক্ষেত্র হয়ে ওঠে তার ব্যবসায়িক জীবন। প্রতিদিন ভোর হতে না হতেই তার বাড়ির দরজা খুলে যায় সাধারণ মানুষের জন্য। কেউ আসেন চিকিৎসার খরচের জন্য, কেউ মেয়ের বিয়ের সহায়তায়, আবার কেউ নিছক সান্ত্বনা পেতে। আর তিনি? সাধ্যমতো সবার মুখে হাসি ফুটিয়ে তবেই যেন স্বস্তি পান।
সেনাবাহিনীর কঠোর শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম এবং মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা—এই তিনটি গুণের অনন্য সমন্বয় ঘটেছে শেখ জাহাঙ্গীর আলমের চরিত্রে। দীর্ঘ চাকরিজীবন শেষে যখন তিনি ঘরে ফিরে আসেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো অবসর জীবন উপভোগ করবেন। কিন্তু তিনি বেছে নিলেন আরও কঠিন এক পথ—জনসেবার দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ রাস্তা।
সেনাবাহিনীর চাকরি ছাড়ার পর থেকেই তিনি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সঁপে দিয়েছেন মৌতলা ইউনিয়নের মাটির মানুষের তরে। তার এই দীর্ঘ যাত্রার পেছনে কাজ করেছে শৈশব থেকে ধারণ করা মানবপ্রেম। মরহুম পিতা আনোয়ার হোসেনের আদর্শ তাকে শিখিয়েছে কীভাবে মানুষের বিপদে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যেতে হয়। আজ তার সেই নীতিই তাকে পরিণত করেছে এলাকার মানুষের পরম আপনজনে।
মৌতলা ইউনিয়নের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে প্রতিদিন ঘুরে বেড়ানোই এখন শেখ জাহাঙ্গীর আলমের মূল রুটিন। ঘুম থেকে শুরু করে রাতের গভীর পর্যন্ত তিনি সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাজির হন। কার ঘরে চাল নেই, কার অসুস্থ মা ওষুধের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন, কিংবা কোন শিক্ষার্থীর পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে—সব খবরই থাকে তার নখদর্পণে।
গ্রামের কোনো মেঠো পথে হেঁটে যাওয়ার সময় কোনো বৃদ্ধ মা কিংবা কষ্টে থাকা মানুষ দেখলে তিনি নিজের গাড়ি থামিয়ে কথা বলেন। তাদের মলিন মুখে একটুখানি হাসির রেখা দেখতে পারলেই তার চোখ জুড়িয়ে যায়। এলাকার রিকশাচালক, দিনমজুর, ভ্যানচালক থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া প্রতিটি মানুষের কাছে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য অভিভাবক। মানুষ তাকে শুধু একজন নেতা হিসেবে নয়, বরং নিজের পরিবারের একজন স্বজন হিসেবে ভালোবাসে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সমাজ ব্যবস্থার সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হলো অসাম্প্রদায়িক চেতনা। মৌতলা ইউনিয়নে এই চেতনাকে পরম যত্নে টিকিয়ে রেখেছেন শেখ জাহাঙ্গীর আলম। দলমত, জাতি বা ধর্ম নির্বিশেষে তিনি সবাইকে আপন করে নিয়েছেন।
তার এই মানবিক হৃদয়ের অনন্য এক বহিঃপ্রকাশ হলো এলাকার প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সহযোগিতা প্রদান। মৌতলা ইউনিয়নের প্রতিটি মসজিদ এবং মন্দিরে তিনি নিয়মিত ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করে আসছেন। কোনো ধর্মীয় ভেদাভেদ বা পক্ষপাতিত্ব তাকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি। হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই—এই স্লোগানকে তিনি কেবল মুখে বলেন না, নিজের আচরণ ও কর্মকাণ্ড দিয়ে তা বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। ঈদ হোক কিংবা পূজা—সব উৎসবেই তিনি সবার পাশে সমানভাবে উপস্থিত থাকেন।
কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়েই নয়, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক কাঠামোর মধ্য দিয়েও সমাজকে বদলে দেওয়ার ব্রত নিয়ে কাজ করছেন শেখ জাহাঙ্গীর আলম। এলাকার বহু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে। তার নেতৃত্বে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো আজ সমাজের আলোর দিশারী হয়ে উঠেছে।
তিনি রওজাতুল বাকি মসজিদ (মৌতলা বাস স্ট্যান্ড): এই পবিত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে তিনি মসজিদটির সার্বিক উন্নয়ন এবং মুসল্লিদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
মৌতলা বাস স্ট্যান্ড ব্যবসায়িক সমিতি ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষা এবং এলাকার বাণিজ্যিক পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখতে তিনি সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন।
জামিউল কুরআন হাফিজিয়া এতিমখানা জামে মসজিদ (মৌতলা) এতিম ও কোরআনের হাফেজ শিশুদের ভালোবাসায় আগলে রাখতে এবং এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন পরম যত্নে।
লুমিনাস মডেল স্কুল (মৌতলা) এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আধুনিক ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার লক্ষ্যে এই বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে শিক্ষার মানোন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রাখছেন।
যুবসমাজ যখন মাদকের ভয়াল গ্রাসে ধ্বংসের মুখে পড়ছে, তখন মৌতলা ইউনিয়নের তরুণদের বাঁচাতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন শেখ জাহাঙ্গীর আলম। মাদকের বিরুদ্ধে তার অবস্থান অত্যন্ত কঠোর—একদম জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন তিনি। তার মতে, যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে একটি জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। তাই মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি তিনি তরুণদের ভালো পথে ফিরিয়ে আনার কাজ করছেন।
পাশাপাশি সমাজের আরেকটি নীরব অভিশাপ হলো বাল্যবিয়ে। অনেক দরিদ্র পরিবার অজ্ঞতার কারণে তাদের নাবালক কন্যাদের বিয়ে দিয়ে দেয়। শেখ জাহাঙ্গীর আলম এ বিষয়ে অত্যন্ত সোচ্চার। তিনি নিজে এবং তার টিম নিয়ে বাল্যবিয়ের খবর পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে উপস্থিত হন, অভিভাবকদের বোঝান এবং আইনি সহায়তার মাধ্যমে মেয়েগুলোর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
“সুস্থ দেহ, সুস্থ মন—খেলাধুলাই গড়ে তোলে জীবন”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। মৌতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় যুবকদের জন্য ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, টুর্নামেন্টের আয়োজন এবং খেলার মাঠগুলোর সংস্কারে তিনি নিয়মিত সহায়তা করে যাচ্ছেন।
তার বিশ্বাস, যুবসমাজ যদি বিকেলে খেলার মাঠে ব্যস্ত থাকে, তবে তাদের মনে কোনো কুচিন্তা বা মাদকের নেশা আসবে না। তরুণদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধনের জন্য তিনি সবসময় তাদের পাশে থেকে উৎসাহ জুগিয়ে চলেছেন।
জনগণের চরম ভালোবাসার মুখে এবার মৌতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শেখ জাহাঙ্গীর আলম। সাধারণ মানুষের একটাই কথা—যিনি সারাজীবন আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন, তাকেই আমরা আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের কাণ্ডারি হিসেবে দেখতে চাই।
আগামী দিনে নির্বাচিত হলে তার সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য রয়েছে, যা তিনি বাস্তবায়ন করতে চান।
তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা উৎকোচ ছাড়া নাগরিক সেবা পায়, তা নিশ্চিত করবেন।
পুরো মৌতলা ইউনিয়নকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং মাদকমুক্ত গড়তে কাজ করবেন।
রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন করে মানুষের যাতায়াত সহজ করার লক্ষে কাজ করবেন।
নারী নির্যাতন ও বাল্যবিয়ে চিরতরে বন্ধ করে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার জন্য বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া।
বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সরকারি সহায়তাগুলো প্রকৃত ও অসহায় মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া।
দিনশেষে রাজনীতি বা চেয়ার নয়, মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই শেখ জাহাঙ্গীর আলমের জীবনের একমাত্র ব্রত। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত যার প্রতিটি মুহূর্ত ব্যয় হয় সাধারণ মানুষের কল্যাণে, তিনি যখন মৌতলা ইউনিয়নের মাটির পথে হেঁটে যান, তখন বাতাসে ভেসে বেড়ায় এক আন্তরিকতার সুবাস।
একজন সৎ, নির্ভীক, অভিজ্ঞ এবং পুরোপুরি মানবিক হৃদয়ের মানুষ হিসেবে শেখ জাহাঙ্গীর আলম আজ মৌতলা ইউনিয়নের প্রতিটি ঘরে ঘরে আশার আলো জ্বালিয়েছেন। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ আজ একতাবদ্ধ হয়েছে এমন একজন নেতার পক্ষে, যিনি কথা কম বলেন, কাজে বিশ্বাসী। মৌতলা ইউনিয়নের আগামী দিনের পথচলা হোক আরও সমৃদ্ধ, আর তার কান্ডারি হোক মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া এই মানবিক মানুষটিই।
প্রতিনিধির নাম 








