মোঃ ইশারাত আলী :
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই জ্বলে ওঠা আগুনের লেলিহান শিখা কেড়ে নিল খেটে খাওয়া ও পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী এক সংবাদকর্মীর সব স্বপ্ন। মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ‘শাস্তি’ হিসেবে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে এক সাংবাদিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। মুহূর্তেই ভস্মীভূত হয়ে গেছে প্রায় সাত লাখ টাকার মালামাল। একের পর এক হুমকি, হামলা এবং থানায় একাধিক অভিযোগ দেওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক ২টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর বাজারে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘এস কে এন্টারপ্রাইজ’, যেখান থেকে নেট, পলিথিন ও জিও শিটসহ বিভিন্ন পণ্য পাইকারি বিক্রি করা হতো। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী শেখ ফিরোজ আহমেদ স্থানীয় দৈনিক সাতনদী পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত আছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিক শেখ ফিরোজ আহমেদ অভিযোগ করেন, রাতের কোনো এক সময় চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা দোকানের পেছনের অংশ দিয়ে পেট্রোলজাতীয় দাহ্য পদার্থ ঢেলে সুকৌশলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন পুরো প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ মূল্যবান মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
শেখ ফিরোজ আহমেদের ওপর এই হামলার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের পূর্বপরিকল্পিত শত্রুতার একটি ধারাবাহিকতা মাত্র। তাঁর ভাষ্যমতে – আওয়ামী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই একটি চক্র তাঁর পরিবারকে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত আগস্ট মাসে কালিগঞ্জ থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। এ ছাড়া পরবর্তীতে সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনায় থানায় তিনটি এজাহার বা অভিযোগ দাখিল করা হয়। তার পরেও গত ২১ আগস্ট ২০২৬ গভীর রাতে ওই সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ছোট ভাই সাংবাদিক ফেরদাউস আহমেদ, চাচা হারুন অর রশীদ এবং ভাগ্নে আরাফাত হোসেনের ওপর পৈশাচিক হামলা চালিয়ে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেয়। এমনকি তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়িতেও সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের আক্ষেপ, আগের হামলা ও হুমকিগুলোর সময়মতো এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে সর্বশেষ এই অগ্নিসংযোগের মর্মান্তিক ঘটনা হয়তো এড়ানো সম্ভব হতো। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, প্রশাসন কোনো অনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে কালক্ষেপণ করছে।
এদিকে, প্রকাশ্য বাজারে এ ধরনের ভয়াবহ নাশকতামূলক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রতনপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে সংবাদকর্মীদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিক শেখ ফিরোজ আহমেদ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, অগ্নিসংযোগে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাঁর পরিবারের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিনিধির নাম 








