জীবন্ত গাছের সবুজ পাতার ঘ্রাণে মুখরিত হওয়ার কথা ছিল যে মাঠ, আজ সেখানে কেবলই অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী চাঁচাই বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত না হলেও, মেলা আয়োজন ঘিরে উদ্যোক্তা ও স্থানীয়দের উৎসাহে এতটুকুও ভাটা পড়েনি। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় মেলার উদ্বোধনের দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহা. রবিউল বাশারের ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে মেলাটির শুভসূচনা করা সম্ভব হয়নি।
তবে আয়োজকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—“উদ্বোধন পিছিয়েছে, মেলা বন্ধ বা বাতিল হয়নি।” মেলা কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম জানিয়েছেন, মাননীয় সংসদ সদস্যের সময় না পাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। তবে হাত গুটিয়ে বসে নেই আয়োজকরা। বিকল্প কোনো বিশিষ্ট অতিথি বা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে কার্যক্রম চালুর জোর প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে মেলা প্রাঙ্গণ ইতোমধ্যে পুরোপুরি প্রস্তুত। স্টল নির্মাণ, সুদৃশ্য সাজসজ্জা এবং ব্যবসায়ীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও উদ্বোধন বিলম্বিত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট নার্সারি মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন মাঠ প্রস্তুত রেখে মেলা শুরু না হলে জীবন্ত গাছগুলোর যত্ন এবং অতিরিক্ত স্টল খরচের বোঝা টানা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিগত আট বছরের ধারাবাহিক সফল আয়োজনের ইতিহাস সাক্ষী—এই বৃক্ষমেলা কেবল কিছু কেনাবেচার চৌহদ্দি নয়; এটি এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষক, নার্সারি ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর এক মোক্ষম সুযোগ।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক নেতা, আইনপ্রণেতা ও প্রশাসনের সদিচ্ছার সঠিক প্রতিফলনই পারে এই আয়োজনকে সফল করতে। স্থানীয়দের আরও অভিমত, এই মেলা যথাসময়ে চালু না হলে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন অসৎ ও সুবিধাভোগী মহল ফায়দা লোটার সুযোগ পেতে পারে। তাই দ্রুত একটি বিকল্প উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়ে সকল দীর্ঘসূত্রিতা ও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো এখন সময়ের দাবি।
সাময়িক এই জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত মেলার স্বাভাবিক কার্যক্রম দেখতে মুখিয়ে আছেন কালিগঞ্জবাসী। সবার একটাই চাওয়া—দ্রুত বিকল্প উদ্বোধকের নাম ঘোষণা করা হোক এবং মেলার জমজমাট কার্যক্রম শুরু হোক।
শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে চাঁচাই বৃক্ষমেলার উদ্বোধনের ফিতা? এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে আয়োজকদের পরবর্তী অফিসিয়াল ঘোষণাতেই। তবে আপাতত স্বস্তির খবর একটাই—উদ্বোধনের শিডিউল পিছালেও প্রাণ হারায়নি চাঁচাই বৃক্ষমেলা, মেলা চালুর বিষয়ে সবাই এখনো শতভাগ আশাবাদী।
প্রতিনিধির নাম 








