
মোঃ ইশারাত আলী :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গৃহবধূ সাজিদা হত্যাকাণ্ডের শোক ও বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন পিতা কেরামত আলী মোল্লা (৭০)। রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মেয়ে কবরস্থ হওয়ার ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ভাই আব্দুল খালেক অভিযোগ করেন, তার বোন সাজিদা খাতুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, এজাহারে শুরুতে ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হলেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে ৩ জনের নাম বাদ দিয়ে মাত্র ২ জনকে আসামি করা হয়েছে। আব্দুল খালেকের দাবি, মামলার মূল আসামিদের আড়াল করতেই রহস্যজনকভাবে এই নাম কর্তন করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাজিদা হত্যাকাণ্ডের মামলায় মূল আসামিদের বাদ দেওয়ার খবরটি শোনার পর থেকেই ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ পিতা কেরামত আলী মোল্লা। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে তিনি আক্ষেপ করে স্বজনদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমার মেয়ে হত্যাকাণ্ডের বিচার আমি পাবো না!” এই মানসিক যন্ত্রণা থেকেই তিনি স্ট্রোক করেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু বরণ করেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৮ মে) রাতে কুশুলিয়া ইউনিয়নের চন্ডীতলা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হয় সাজিদা খাতুনের (৩৫)। নিহত সাজিদা ওই গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতনের জের ধরে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
মেয়ের কবরের মাটি শুকানোর আগেই বাবার মৃত্যুতে রঘুনাথপুর ও চন্ডীতলা গ্রামে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষ এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং সাজিদা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন
প্রতিনিধির নাম 








