1. satkhiranews24@yahoo.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে বিএনপির ঘরেই বিরোধ, সেই ফাঁকে জামায়াতের বাজীমাত: রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ, ভোটের মাঠে কার লাভ? নিজ বিদ্যাপীঠ পরিদর্শনে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফাতিমা তুজ জোহরা কালিগঞ্জে নবমীর শারদীয় উৎসবে মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতা রোকনুজ্জামান রোকন কালিগঞ্জে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা দিলেন বিএনপি নেতা ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু কালিগঞ্জে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণের শাড়ি বিতরণ করলেন এমপি রবিউল বাশার কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে ৮ দুর্গামন্দিরে অনুদানের চেক বিতরণ করলেন ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম কালিগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলার একমাত্র নারী চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীন মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার মিশনে সদ্য বিদায়ী প্রতিমন্ত্রী: দৃষ্টান্ত, দায়বদ্ধতা ও অসমাপ্ত লড়াই কা‌লিগ‌ঞ্জের কৃষ্ণনগরে তোহা বাজার রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কালিগঞ্জে দুর্গাপূজায় বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার মুকুল : মণ্ডপ পরিদর্শন ও অর্থ সহায়তা

মাদ্রাসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: কালিগঞ্জে তোলপাড়, ২৬ ছাত্রীকে নিয়ে গেলেন অভিভাবকরা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৪:২২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ১২১১ বার পড়া হয়েছে
১২৯০

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে একটি মহিলা মাদ্রাসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্থানীয় অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত দুই দিনে ২৬ জন শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন আতঙ্কিত অভিভাবকরা। ঘটনাটি উপজেলার ধলবাড়িয়া হাটখোলা সংলগ্ন ‘ধলবাড়িয়া দারুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’-এর।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ৫১ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত এবং তাদের তত্ত্বাবধানে একজন মুহতামিম ও ৪ জন শিক্ষিকা (আলেমা) রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গভীর রাতে মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদ এক ছাত্রীকে নির্জনে ডেকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। ওই সময় আরও কয়েকজন ছাত্রী ঘটনাটি দেখে ফেললে মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি পুরো এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক আল মামুন, আবুল হোসেন, মনিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ও কাইয়ুমসহ অন্তত ২০-২৫ জন জানান, এই মাদ্রাসার আড়ালে অতীতেও বিভিন্ন সময় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুঞ্জন শোনা গেছে। সন্তানদের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত মুহতামিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়ভাবে বৈঠক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অন্তত ৩০ জন ছাত্রীকে তাদের অভিভাবকরা মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি এটিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে বলেন, “মাদ্রাসা-বিরোধী একটি চক্র আমার ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার জন্য মিথ্যা রটনা ছড়াচ্ছে।” তবে গত দুই দিনে ২৬ জন শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন এবং মাদ্রাসাটিকে টিকিয়ে রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

বর্তমানে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার স্থানীয় সচেতন মহল। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে বিএনপির ঘরেই বিরোধ, সেই ফাঁকে জামায়াতের বাজীমাত: রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ, ভোটের মাঠে কার লাভ?

মাদ্রাসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: কালিগঞ্জে তোলপাড়, ২৬ ছাত্রীকে নিয়ে গেলেন অভিভাবকরা

আপডেট সময় : ১১:১৪:২২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬






১২৯০











কালিগঞ্জ প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে একটি মহিলা মাদ্রাসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্থানীয় অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত দুই দিনে ২৬ জন শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন আতঙ্কিত অভিভাবকরা। ঘটনাটি উপজেলার ধলবাড়িয়া হাটখোলা সংলগ্ন ‘ধলবাড়িয়া দারুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’-এর।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ৫১ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত এবং তাদের তত্ত্বাবধানে একজন মুহতামিম ও ৪ জন শিক্ষিকা (আলেমা) রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গভীর রাতে মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদ এক ছাত্রীকে নির্জনে ডেকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। ওই সময় আরও কয়েকজন ছাত্রী ঘটনাটি দেখে ফেললে মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি পুরো এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক আল মামুন, আবুল হোসেন, মনিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ও কাইয়ুমসহ অন্তত ২০-২৫ জন জানান, এই মাদ্রাসার আড়ালে অতীতেও বিভিন্ন সময় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুঞ্জন শোনা গেছে। সন্তানদের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত মুহতামিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়ভাবে বৈঠক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অন্তত ৩০ জন ছাত্রীকে তাদের অভিভাবকরা মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি এটিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে বলেন, “মাদ্রাসা-বিরোধী একটি চক্র আমার ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার জন্য মিথ্যা রটনা ছড়াচ্ছে।” তবে গত দুই দিনে ২৬ জন শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন এবং মাদ্রাসাটিকে টিকিয়ে রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

বর্তমানে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার স্থানীয় সচেতন মহল। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।