1. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল নিক্ষেপ: আহত ১, অবিস্ফোরিত দুটি বোমা উদ্ধার কালিগঞ্জে সংখ্যালঘুর জমি গভীর রাতে দখলের চেষ্টা ও গাছ কাটার অভিযোগ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ভ্যানযাত্রী নিহত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্মরণে জামাত আলী গাজীর শোকবার্তা কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে কালিগঞ্জে পূজা উদযাপন পরিষদের প্রস্তুতির সভা বুশরাগ্রুপে নিজের ৪ লাখ টাকা জমা, তবু নবজাতকের হাসপাতাল বিল দিতে ধার! ‘তারল্য সংকট’ দেখিয়ে গ্রাহকের টাকা আটকে: বুশরা গ্রুপে তীব্র ক্ষোভ! কালিগঞ্জে ড্রিংকিং ওয়াটার প্ল্যান্ট মালিকদের মতবিনিময় সভা

মাদ্রাসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: কালিগঞ্জে তোলপাড়, ২৬ ছাত্রীকে নিয়ে গেলেন অভিভাবকরা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৪:২২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ১০৬২ বার পড়া হয়েছে
১১২৪

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে একটি মহিলা মাদ্রাসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্থানীয় অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত দুই দিনে ২৬ জন শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন আতঙ্কিত অভিভাবকরা। ঘটনাটি উপজেলার ধলবাড়িয়া হাটখোলা সংলগ্ন ‘ধলবাড়িয়া দারুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’-এর।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ৫১ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত এবং তাদের তত্ত্বাবধানে একজন মুহতামিম ও ৪ জন শিক্ষিকা (আলেমা) রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গভীর রাতে মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদ এক ছাত্রীকে নির্জনে ডেকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। ওই সময় আরও কয়েকজন ছাত্রী ঘটনাটি দেখে ফেললে মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি পুরো এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক আল মামুন, আবুল হোসেন, মনিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ও কাইয়ুমসহ অন্তত ২০-২৫ জন জানান, এই মাদ্রাসার আড়ালে অতীতেও বিভিন্ন সময় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুঞ্জন শোনা গেছে। সন্তানদের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত মুহতামিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়ভাবে বৈঠক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অন্তত ৩০ জন ছাত্রীকে তাদের অভিভাবকরা মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি এটিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে বলেন, “মাদ্রাসা-বিরোধী একটি চক্র আমার ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার জন্য মিথ্যা রটনা ছড়াচ্ছে।” তবে গত দুই দিনে ২৬ জন শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন এবং মাদ্রাসাটিকে টিকিয়ে রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

বর্তমানে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার স্থানীয় সচেতন মহল। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল নিক্ষেপ: আহত ১, অবিস্ফোরিত দুটি বোমা উদ্ধার

মাদ্রাসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: কালিগঞ্জে তোলপাড়, ২৬ ছাত্রীকে নিয়ে গেলেন অভিভাবকরা

আপডেট সময় : ১১:১৪:২২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬






১১২৪











কালিগঞ্জ প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে একটি মহিলা মাদ্রাসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্থানীয় অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত দুই দিনে ২৬ জন শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন আতঙ্কিত অভিভাবকরা। ঘটনাটি উপজেলার ধলবাড়িয়া হাটখোলা সংলগ্ন ‘ধলবাড়িয়া দারুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’-এর।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ৫১ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত এবং তাদের তত্ত্বাবধানে একজন মুহতামিম ও ৪ জন শিক্ষিকা (আলেমা) রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গভীর রাতে মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদ এক ছাত্রীকে নির্জনে ডেকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। ওই সময় আরও কয়েকজন ছাত্রী ঘটনাটি দেখে ফেললে মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি পুরো এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক আল মামুন, আবুল হোসেন, মনিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ও কাইয়ুমসহ অন্তত ২০-২৫ জন জানান, এই মাদ্রাসার আড়ালে অতীতেও বিভিন্ন সময় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুঞ্জন শোনা গেছে। সন্তানদের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত মুহতামিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়ভাবে বৈঠক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অন্তত ৩০ জন ছাত্রীকে তাদের অভিভাবকরা মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি এটিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে বলেন, “মাদ্রাসা-বিরোধী একটি চক্র আমার ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার জন্য মিথ্যা রটনা ছড়াচ্ছে।” তবে গত দুই দিনে ২৬ জন শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন এবং মাদ্রাসাটিকে টিকিয়ে রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

বর্তমানে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার স্থানীয় সচেতন মহল। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।