1. satkhiranews24@yahoo.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে কাপড়ের দোকানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ, ২৩ বস্তা মালামাল উদ্ধার কালিগঞ্জে ড্রিংকিং ওয়াটার প্ল্যান্ট মালিক সমিতির সভা, নতুন কমিটি গঠন ও চারা বিতরণ কালিগঞ্জে প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে সচেতনতামূলক সংলাপ অনুষ্ঠিত প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পটেকর, গোয়ার বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ৭৫ বছর বয়সে সম্পাদকীয় : সারের ডিলারশিপ ও রাজনৈতিক আধিপত্য: বদলাচ্ছে শুধু ব্যানার, কৃষকের ভাগ্য কি বদলাবে? চাঁচাই বৃক্ষমেলা: অনুমোদনহীন আয়োজন ও ব্যবসায়ীদের লোকসান-দায় কার? কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে মৎস্যজীবী দলের কর্মী সম্মেলন ও নতুন কমিটি ঘোষণা কালিগঞ্জে ডাচ-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট আউটলেটের স্বচ্ছতা ও অঙ্গীকার নিয়ে গ্রাহক সমাবেশ শিক্ষক দিবসে প্রশ্ন—শিক্ষককে কতটা শিক্ষক থাকতে দিচ্ছি? খতিয়ানের মারপ্যাঁচ ও গ্রামীণ রাজনীতির শিকার: কালিগঞ্জের ভূমি বিরোধ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নেপথ্য চিত্র

কালিগঞ্জে জিরোনগাছা হাটে মিষ্টির ঘ্রাণে বেঁচে আছে পুরোনো দিনের ঐতিহ্য : মিষ্টি খেয়ে তৃপ্ত মোখলেছুর

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭১ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইশারাত আলী :

“ভিড়ভাট্টা আর কোলাহল পেরিয়ে জিরোনগাছা হাটের এক কোণায় চোখ আটকে যায় শত বছরের পুরোনো সেই ঘ্রাণে বুঁদ হয়ে আপন মনে বোন্দে, খেজুর আর সন্দেশ মুখে পুরছেন মোখলেছুর রহমান। এক কামড়েই যেন ফিরে পেলেন শেকড়ের সেই হারিয়ে যাওয়া স্বাদ! আধুনিকতার ভিড়েও জিরোনগাছা হাটের মিষ্টি আজও আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় ফেলে আসা সোনালী দিনে।”

কালিগঞ্জের জিরোনগাছা হাটে ঢুকতেই নাকে আসে মিষ্টির মিষ্টি ঘ্রাণ। হাটের কোলাহল, সবজি আর মাছের দোকানের ভিড় পেরিয়ে মিষ্টির দোকানগুলোর সামনে দাঁড়ালেই মনে হয়, সময় যেন কিছুটা থমকে আছে। পুরোনো সেই স্বাদ, পরিচিত মুখ আর মাটির হাটের আবহ এখনো ধরে রেখেছে মিষ্টির ঐতিহ্য।

একসময় কুশলিয়ার পূর্ণ ময়রা কিংবা সন্তোষ ময়রা ছিলেন এ অঞ্চলের মিষ্টির জগতের পরিচিত নাম। তারা আজ নেই। কিন্তু তাঁদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য হারিয়ে যায়নি। পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম সেই কাজটিই ধরে রেখেছে। পুরোনো কারিগরি, স্বাদ আর ক্রেতার সঙ্গে সম্পর্ককে পুঁজি করে এখনো মিষ্টি তৈরি ও বিক্রি করছেন তাঁদের উত্তরসূরিরা।

জিরোনগাছা হাটে এখনো পাঁচ-ছয়টি মিষ্টির দোকান রয়েছে। হাটের দিন এসব দোকানে ভিড় করেন স্থানীয় মানুষ। কেউ বাড়ির জন্য মিষ্টি নিয়ে যান, কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে কিনে নেন, আবার কেউ হাটে এসে বসেই স্বাদ নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব দোকানের মিষ্টির স্বাদে এখনো পুরোনো দিনের একটা আলাদা টান রয়েছে।

এই হাটেরই পরিচিত মুখ মোখলেছুর রহমান। হাটের মধ্যে বসে আপন মনে মিষ্টি খাচ্ছে। বসা এবং খাওয়ার ধরণ দেখেই মনে হলো জিরোনগাছা হাটের মিষ্টির স্বাদ হারায়নি। মোখলেছুরের কাছে মিষ্টি কেনা যেন শুধু কেনাকাটা নয়, জিরোনগাছা হাটের পুরোনো সংস্কৃতিরই একটি অংশ।

বছরের পর বছর ধরে এখানকার মিষ্টি খেয়ে আসছেন স্থানীয় মানুষ। অনেক ক্রেতার কাছে হাটে আসা মানেই বাজারের অন্য কেনাকাটার পাশাপাশি মিষ্টি নেওয়া।

সময়ের সঙ্গে বদলেছে মানুষের রুচি, বদলেছে বাজারের ধরন, এসেছে আধুনিক মিষ্টির দোকানও। কিন্তু জিরোনগাছা হাটের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকানগুলো এখনো টিকে আছে মানুষের ভালোবাসায়। স্থানীয়রা বলছেন, পুরোনো ময়রাদের তৈরি করা ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এসব দোকানের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে কাপড়ের দোকানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ, ২৩ বস্তা মালামাল উদ্ধার

কালিগঞ্জে জিরোনগাছা হাটে মিষ্টির ঘ্রাণে বেঁচে আছে পুরোনো দিনের ঐতিহ্য : মিষ্টি খেয়ে তৃপ্ত মোখলেছুর

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী :

“ভিড়ভাট্টা আর কোলাহল পেরিয়ে জিরোনগাছা হাটের এক কোণায় চোখ আটকে যায় শত বছরের পুরোনো সেই ঘ্রাণে বুঁদ হয়ে আপন মনে বোন্দে, খেজুর আর সন্দেশ মুখে পুরছেন মোখলেছুর রহমান। এক কামড়েই যেন ফিরে পেলেন শেকড়ের সেই হারিয়ে যাওয়া স্বাদ! আধুনিকতার ভিড়েও জিরোনগাছা হাটের মিষ্টি আজও আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় ফেলে আসা সোনালী দিনে।”

কালিগঞ্জের জিরোনগাছা হাটে ঢুকতেই নাকে আসে মিষ্টির মিষ্টি ঘ্রাণ। হাটের কোলাহল, সবজি আর মাছের দোকানের ভিড় পেরিয়ে মিষ্টির দোকানগুলোর সামনে দাঁড়ালেই মনে হয়, সময় যেন কিছুটা থমকে আছে। পুরোনো সেই স্বাদ, পরিচিত মুখ আর মাটির হাটের আবহ এখনো ধরে রেখেছে মিষ্টির ঐতিহ্য।

একসময় কুশলিয়ার পূর্ণ ময়রা কিংবা সন্তোষ ময়রা ছিলেন এ অঞ্চলের মিষ্টির জগতের পরিচিত নাম। তারা আজ নেই। কিন্তু তাঁদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য হারিয়ে যায়নি। পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম সেই কাজটিই ধরে রেখেছে। পুরোনো কারিগরি, স্বাদ আর ক্রেতার সঙ্গে সম্পর্ককে পুঁজি করে এখনো মিষ্টি তৈরি ও বিক্রি করছেন তাঁদের উত্তরসূরিরা।

জিরোনগাছা হাটে এখনো পাঁচ-ছয়টি মিষ্টির দোকান রয়েছে। হাটের দিন এসব দোকানে ভিড় করেন স্থানীয় মানুষ। কেউ বাড়ির জন্য মিষ্টি নিয়ে যান, কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে কিনে নেন, আবার কেউ হাটে এসে বসেই স্বাদ নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব দোকানের মিষ্টির স্বাদে এখনো পুরোনো দিনের একটা আলাদা টান রয়েছে।

এই হাটেরই পরিচিত মুখ মোখলেছুর রহমান। হাটের মধ্যে বসে আপন মনে মিষ্টি খাচ্ছে। বসা এবং খাওয়ার ধরণ দেখেই মনে হলো জিরোনগাছা হাটের মিষ্টির স্বাদ হারায়নি। মোখলেছুরের কাছে মিষ্টি কেনা যেন শুধু কেনাকাটা নয়, জিরোনগাছা হাটের পুরোনো সংস্কৃতিরই একটি অংশ।

বছরের পর বছর ধরে এখানকার মিষ্টি খেয়ে আসছেন স্থানীয় মানুষ। অনেক ক্রেতার কাছে হাটে আসা মানেই বাজারের অন্য কেনাকাটার পাশাপাশি মিষ্টি নেওয়া।

সময়ের সঙ্গে বদলেছে মানুষের রুচি, বদলেছে বাজারের ধরন, এসেছে আধুনিক মিষ্টির দোকানও। কিন্তু জিরোনগাছা হাটের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকানগুলো এখনো টিকে আছে মানুষের ভালোবাসায়। স্থানীয়রা বলছেন, পুরোনো ময়রাদের তৈরি করা ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এসব দোকানের সবচেয়ে বড় পরিচয়।