1. satkhiranews24@yahoo.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
ধলবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রচারণায় জিএম ফজলুল হক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি – উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা মানবতার টানে ২৪ বছর ধরে নিবেদিতপ্রাণ: মৌতলা ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখের কাণ্ডারি শেখ জাহাঙ্গীর আলম তবুও আশার আলোয় ভাসছে চাঁচাই বৃক্ষমেলা! নার্শারী মালিকরা ক্ষতির মুখে! ঝুলে আছে ফিতা কাটা উদ্বোধন কালিগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসি সভা অনুষ্ঠিত অর্জুন-দেব মুখোমুখি, লাবনীর ‘ডিভোর্স’, ৮ দিনের মাথায় সাতপাকে নতুন বর কালিগঞ্জে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবায় গ্রাহকদের আস্থা বাড়াচ্ছে ‘দৌড়’ কালিগঞ্জে সাংবাদিকের প্রতিষ্ঠানে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ৭ লাখ টাকার ক্ষতি; প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন শ্যামনগরে কদবেল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে কালিগঞ্জের ব্যবসায়ীর মৃত্যু ধলবাড়িয়ায় গাজী পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ফের চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন শওকাত হোসেন কালিগঞ্জে জুয়েলার্সের শাটার-লকার ভেঙে চুরি, স্বর্ণ-রুপা ও নগদ টাকা খোয়া

কালিগঞ্জে জিরোনগাছা হাটে মিষ্টির ঘ্রাণে বেঁচে আছে পুরোনো দিনের ঐতিহ্য : মিষ্টি খেয়ে তৃপ্ত মোখলেছুর

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইশারাত আলী :

“ভিড়ভাট্টা আর কোলাহল পেরিয়ে জিরোনগাছা হাটের এক কোণায় চোখ আটকে যায় শত বছরের পুরোনো সেই ঘ্রাণে বুঁদ হয়ে আপন মনে বোন্দে, খেজুর আর সন্দেশ মুখে পুরছেন মোখলেছুর রহমান। এক কামড়েই যেন ফিরে পেলেন শেকড়ের সেই হারিয়ে যাওয়া স্বাদ! আধুনিকতার ভিড়েও জিরোনগাছা হাটের মিষ্টি আজও আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় ফেলে আসা সোনালী দিনে।”

কালিগঞ্জের জিরোনগাছা হাটে ঢুকতেই নাকে আসে মিষ্টির মিষ্টি ঘ্রাণ। হাটের কোলাহল, সবজি আর মাছের দোকানের ভিড় পেরিয়ে মিষ্টির দোকানগুলোর সামনে দাঁড়ালেই মনে হয়, সময় যেন কিছুটা থমকে আছে। পুরোনো সেই স্বাদ, পরিচিত মুখ আর মাটির হাটের আবহ এখনো ধরে রেখেছে মিষ্টির ঐতিহ্য।

একসময় কুশলিয়ার পূর্ণ ময়রা কিংবা সন্তোষ ময়রা ছিলেন এ অঞ্চলের মিষ্টির জগতের পরিচিত নাম। তারা আজ নেই। কিন্তু তাঁদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য হারিয়ে যায়নি। পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম সেই কাজটিই ধরে রেখেছে। পুরোনো কারিগরি, স্বাদ আর ক্রেতার সঙ্গে সম্পর্ককে পুঁজি করে এখনো মিষ্টি তৈরি ও বিক্রি করছেন তাঁদের উত্তরসূরিরা।

জিরোনগাছা হাটে এখনো পাঁচ-ছয়টি মিষ্টির দোকান রয়েছে। হাটের দিন এসব দোকানে ভিড় করেন স্থানীয় মানুষ। কেউ বাড়ির জন্য মিষ্টি নিয়ে যান, কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে কিনে নেন, আবার কেউ হাটে এসে বসেই স্বাদ নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব দোকানের মিষ্টির স্বাদে এখনো পুরোনো দিনের একটা আলাদা টান রয়েছে।

এই হাটেরই পরিচিত মুখ মোখলেছুর রহমান। হাটের মধ্যে বসে আপন মনে মিষ্টি খাচ্ছে। বসা এবং খাওয়ার ধরণ দেখেই মনে হলো জিরোনগাছা হাটের মিষ্টির স্বাদ হারায়নি। মোখলেছুরের কাছে মিষ্টি কেনা যেন শুধু কেনাকাটা নয়, জিরোনগাছা হাটের পুরোনো সংস্কৃতিরই একটি অংশ।

বছরের পর বছর ধরে এখানকার মিষ্টি খেয়ে আসছেন স্থানীয় মানুষ। অনেক ক্রেতার কাছে হাটে আসা মানেই বাজারের অন্য কেনাকাটার পাশাপাশি মিষ্টি নেওয়া।

সময়ের সঙ্গে বদলেছে মানুষের রুচি, বদলেছে বাজারের ধরন, এসেছে আধুনিক মিষ্টির দোকানও। কিন্তু জিরোনগাছা হাটের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকানগুলো এখনো টিকে আছে মানুষের ভালোবাসায়। স্থানীয়রা বলছেন, পুরোনো ময়রাদের তৈরি করা ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এসব দোকানের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ধলবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রচারণায় জিএম ফজলুল হক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি – উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা

কালিগঞ্জে জিরোনগাছা হাটে মিষ্টির ঘ্রাণে বেঁচে আছে পুরোনো দিনের ঐতিহ্য : মিষ্টি খেয়ে তৃপ্ত মোখলেছুর

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী :

“ভিড়ভাট্টা আর কোলাহল পেরিয়ে জিরোনগাছা হাটের এক কোণায় চোখ আটকে যায় শত বছরের পুরোনো সেই ঘ্রাণে বুঁদ হয়ে আপন মনে বোন্দে, খেজুর আর সন্দেশ মুখে পুরছেন মোখলেছুর রহমান। এক কামড়েই যেন ফিরে পেলেন শেকড়ের সেই হারিয়ে যাওয়া স্বাদ! আধুনিকতার ভিড়েও জিরোনগাছা হাটের মিষ্টি আজও আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় ফেলে আসা সোনালী দিনে।”

কালিগঞ্জের জিরোনগাছা হাটে ঢুকতেই নাকে আসে মিষ্টির মিষ্টি ঘ্রাণ। হাটের কোলাহল, সবজি আর মাছের দোকানের ভিড় পেরিয়ে মিষ্টির দোকানগুলোর সামনে দাঁড়ালেই মনে হয়, সময় যেন কিছুটা থমকে আছে। পুরোনো সেই স্বাদ, পরিচিত মুখ আর মাটির হাটের আবহ এখনো ধরে রেখেছে মিষ্টির ঐতিহ্য।

একসময় কুশলিয়ার পূর্ণ ময়রা কিংবা সন্তোষ ময়রা ছিলেন এ অঞ্চলের মিষ্টির জগতের পরিচিত নাম। তারা আজ নেই। কিন্তু তাঁদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য হারিয়ে যায়নি। পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম সেই কাজটিই ধরে রেখেছে। পুরোনো কারিগরি, স্বাদ আর ক্রেতার সঙ্গে সম্পর্ককে পুঁজি করে এখনো মিষ্টি তৈরি ও বিক্রি করছেন তাঁদের উত্তরসূরিরা।

জিরোনগাছা হাটে এখনো পাঁচ-ছয়টি মিষ্টির দোকান রয়েছে। হাটের দিন এসব দোকানে ভিড় করেন স্থানীয় মানুষ। কেউ বাড়ির জন্য মিষ্টি নিয়ে যান, কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে কিনে নেন, আবার কেউ হাটে এসে বসেই স্বাদ নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব দোকানের মিষ্টির স্বাদে এখনো পুরোনো দিনের একটা আলাদা টান রয়েছে।

এই হাটেরই পরিচিত মুখ মোখলেছুর রহমান। হাটের মধ্যে বসে আপন মনে মিষ্টি খাচ্ছে। বসা এবং খাওয়ার ধরণ দেখেই মনে হলো জিরোনগাছা হাটের মিষ্টির স্বাদ হারায়নি। মোখলেছুরের কাছে মিষ্টি কেনা যেন শুধু কেনাকাটা নয়, জিরোনগাছা হাটের পুরোনো সংস্কৃতিরই একটি অংশ।

বছরের পর বছর ধরে এখানকার মিষ্টি খেয়ে আসছেন স্থানীয় মানুষ। অনেক ক্রেতার কাছে হাটে আসা মানেই বাজারের অন্য কেনাকাটার পাশাপাশি মিষ্টি নেওয়া।

সময়ের সঙ্গে বদলেছে মানুষের রুচি, বদলেছে বাজারের ধরন, এসেছে আধুনিক মিষ্টির দোকানও। কিন্তু জিরোনগাছা হাটের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকানগুলো এখনো টিকে আছে মানুষের ভালোবাসায়। স্থানীয়রা বলছেন, পুরোনো ময়রাদের তৈরি করা ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এসব দোকানের সবচেয়ে বড় পরিচয়।