সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি জবরদখলের চেষ্টা, জমির সীমানা পরিবর্তন, বিভিন্ন ফলজ, বনজ গাছপালা কেটে ক্ষতিসাধন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাসুদেব রজক ও রীনা রানী রজক পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেছেন থানায়। পুলিশ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানালেন থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম হাওলাদার।
সরেজমিন ও থানা সূত্রে জানাগেছে, গত ১৫ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের দফাদার সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এলাকার চিহৃিত লাঠিয়ালসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮০-৯০ জনকে সঙ্গে নিয়ে দা, কুড়াল, কোদাল, লোহার শাবল, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংখ্যালঘুদের ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করে জমির আকার ও সীমানা পরিবর্তনের চেষ্টা এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি কেটে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে গোলাম রসুল কারিকর (অবঃ দফাদার)-এর ছেলে সাইফুল ইসলাম (বর্তমান দফাদার) এর নেতৃত্বে আজিবর রহমান, ফারুক হোসেন ওরফে টেক্কা, আব্দুর রহমান ও জামির হোসেন; মৃত ইউসুফ আলী গাজীর ছেলে আলী বাহার; মৃত রজব আলী গাজীর ছেলে হাফিজুর রহমান এবং মো. সুন্নত আলী গাজীর ছেলে মো. বাবু গাজী গং সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮০-৯০ জন দুবৃত্ত রাতের আধারে হীন নেক্কারজনক কর্মকান্ড চালায়। পৃথক দুটি অভিযোগের প্রায় অভিন্ন বক্তব্যে বলা হয়, ফতেপুর মৌজায় অভিযোগকারীদের ভোগদখলীয় ও দলিলসূত্রে প্রাপ্ত জমি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে জানিয়ে বিচারপ্রার্থী হওয়ায় তাদের হয়রানি, ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি দেখে বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তদের কয়েকজন বসতঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে অভিযোগকারীদের অবরুদ্ধ করেন। পরে ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশ ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। কেউ ওই কাজে বাধা দিলে তাকে হত্যা করে জমিতে পুঁতে রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেন।অভিযোগে উল্লেখ করা প্রথম জমিটি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর মৌজায়, জে.এল. নং-২২০, এসএ খতিয়ান নং-৩৩০ ও ৪৫ এবং দাগ নং-৩৭৫। জমির পরিমাণ হিসেবে ০.৬০ শতকের মধ্যে ০.৫০ একর উল্লেখ করা হয়েছে।
এর সীমানায় উত্তরে আনোয়ার গাজী, দক্ষিণে রাস্তা, পূর্বে ফতেপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পশ্চিমে সামছুর গাজীর নাম রয়েছে।দ্বিতীয় অভিযোগে একই মৌজা ও জে.এল. নং-২২০-এর এসএ খতিয়ান নং-২৩০, ২৯, ২৭৬, ৪৩০, ৬৪, ৯, ৩৩০ ও ৯২ এবং দাগ নং-৩৭৫ উল্লেখ করা হয়েছে। জমির পরিমাণ ০.৬০ শতকের মধ্যে ০.১০ একর উল্লেখ রয়েছে। সীমানায় উত্তরে শ্রী অরুন দাস, দক্ষিণে রাস্তা, পূর্বে ফতেপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পশ্চিমে শ্রী অরুন রজকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ও আজিবর রহমান বলেন, “তারা আমাদের জায়গা জোর করে দখল করে রেখেছে। তাই রাতে জমিটি আমরা দখলে নিয়েছি।তাদের বক্তব্যের বিষয়ে অভিযোগকারীদের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীরা জানান, ঘটনার পর থেকে তারা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। জমি নিয়ে যেকোনো সময় সংঘর্ষ বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন। তারা অভিযোগটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন “ পৃথক দুটি অভিযোগ হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধির নাম 

















