সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের সেকেন্দার নগর গ্রামের রায়ের হাটখোলা সংলগ্ন আব্দুল করিমের বাড়ি থেকে অধ্যাপক জি. এম. পিয়ার আহম্মেদের বাড়ির সামনে দিয়ে আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ি পর্যন্ত মাত্র ৩০০ গজ কাঁচা রাস্তা বছরের পর বছর পাকাকরণ না হওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কটির অবশিষ্ট অংশটুকু পাকা করতে বারবার আবেদন জানানো হলেও মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি। তাঁর এই চরম অনীহা ও উদাসীনতার কারণে সামান্য একটি কাজের অভাবে প্রতিদিন মানবেতর জীবন পার করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী ও সাধারণ পথচারীরা।
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, সেকেন্দার নগর চৌমুহনী থেকে ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ এবং ঐতিহ্যবাহী ধুলিয়াপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গামী এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মাত্র ৩০০ গজ অংশ কাঁচা পড়ে আছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটিতে হাঁটুসমান কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে করে মোটরসাইকেল, ভ্যান, জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়। সবচেয়ে বেশি মর্মান্তিক পরিস্থিতির শিকার হন স্কুল-কলেজগামী কোমলমতি শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিবর্গ।
ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই অল্প একটু অংশ পাকাকরণ করা হলে যাতায়াতে অন্তত এক কিলোমিটার পথ কমে আসত। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সময়, পরিবহন ব্যয় এবং দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেত। অথচ দীর্ঘদিন ধরে বারবার আবেদন-নিবেদন করার পরও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে এখন চরম অসক্ষোভের আগুন জ্বলছে।
হতাশা প্রকাশ করে স্থানীয় অধ্যাপক জি. এম. পিয়ার আহম্মেদ বলেন, “আমরা একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। তাই এখন আমরা সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্যের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”
স্থানীয় সচেতন মহলের কড়া প্রশ্ন, মাত্র ৩০০ গজ রাস্তা পাকাকরণেই যখন হাজারো মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগ চিরতরে দূর করা সম্ভব, তখন বছরের পর বছর সেটি ফাইলবন্দী করে রাখার বা বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ কী? জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা পরিষদের কর্তাব্যক্তিরা কেন বারবার আবেদন পাওয়ার পরও চোখ বন্ধ করে রইলেন এবং কোন অদৃশ্য কারণে প্রকল্প থেকে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বাদ পড়ল-তার সুষ্ঠু ও সদুত্তর দাবি করেছেন এলাকার ক্ষুব্ধ জনতা। তাদের জোরালো অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের অন্য অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হলেও এই সড়কটির প্রতি চেয়ারম্যানের অবহেলা ক্ষমার অযোগ্য।
অবিলম্বে এই অনিয়ম ও স্থবিরতার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকার সচেতন মহল। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আকুল আহ্বান জানিয়ে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, “মাত্র ৩০০ গজ রাস্তার জন্য হাজারো মানুষ বছরের পর বছর কষ্ট করবে, এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সংসদ সদস্য মহোদয় দ্রুত হস্তক্ষেপ করলেই কেবল এই দীর্ঘদিনের নরকীয় দুর্ভোগের অবসান হতে পারে। মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের এমন জনবিরোধী খামখেয়ালিপনার কারণে তাঁর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে দায় এড়ানোর সুরে মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হাসান বলেন, “রাস্তাটি আগে প্রকল্পের তালিকায় ছিল। পরে কোনো কারণে সেটি বাদ পড়ে যায়। আমরা আবারও এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।”
মোঃ ইশারাত আলী 















