সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী কালিন্দী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পিয়ার আলী গাজী (৮৪) নামে এক প্রবীণ জেলে নিখোঁজ হওয়ার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ বৃদ্ধকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে মথুরেশপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর ওয়াপদা পাড় সংলগ্ন কালিন্দী নদীতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ পিয়ার আলী গাজী বসন্তপুর গ্রামের মৃত ছফেদ আলী গাজীর ছেলে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালেও জীবিকার তাগিদে সীমান্তবর্তী কালিন্দী নদীতে জাল নিয়ে মাছ ধরতে যান পিয়ার আলী গাজী। দুপুরের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজনের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়। পরবর্তীতে স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী নদীতে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করেন। একপর্যায়ে নদীর তীর বা ঘটনাস্থলের কাছ থেকে তাঁর ব্যবহৃত একটি গামছা উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়।
নিখোঁজ জেলের ছেলে আব্দুস সবুর গাজী জানান, “আমার বাবা প্রতিদিনের ন্যায় সকালেই নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। দুপুরের পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান না পেয়ে আমরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি।”
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই কালিগঞ্জ থানা পুলিশ, বিজিবি সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রমের রূপরেখা তৈরি করেন।
বসন্তপুর বিজিবি ক্যাম্পের টহলদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তবর্তী নদী হওয়ায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় করা হচ্ছে। এদিকে, শুক্রবার সকাল থেকে খুলনা ফায়ার সার্ভিসের লিডার সাঈদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ডুবুরি দল কালিন্দী নদীতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে নদীর তীব্র স্রোত ও অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে উদ্ধার কাজে মাঝে মাঝে বিঘ্ন ঘটছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (শুক্রবার বিকেল নাগাদ) ৩৬ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় নিখোঁজ জেলে পিয়ার আলী গাজীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নদীর গভীর জলে দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে তিনি তলিয়ে গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুরো বসন্তপুর এলাক জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মোঃ ইশারাত আলী 








