
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দল। আজ শনিবার দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সাথে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সিনিয়র অ্যাডভাইজার জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষে ৭০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে গতকালই ইসলামাবাদ পৌঁছেছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।
গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী রূপ দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একমত হওয়া। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়েও আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান এই সংলাপ আয়োজন করছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এই আলোচনাকে “মেক অর ব্রেক” (হয় জয়, না হয় পরাজয়) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন একটি ধাপ।
ইরান শর্ত দিয়েছে যে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে হবে এবং তাদের ফ্রিজ করা তহবিল ফেরত দিতে হবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়াকে আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে রেখেছেন।
সংলাপকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আলোচনার ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত সেরেনা হোটেল অভিমুখে সকল রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ভারী অস্ত্রধারী নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারের জ্বালানি তেলের দাম এই আলোচনার ফলাফলের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। যদি হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
প্রতিনিধির নাম 








