1. satkhiranews24@yahoo.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে পিরোজপুর পথকলি স্কুলেও দুঃসাহসিক চুরি, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ কালিগঞ্জে কাপড়ের দোকানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ, ২৩ বস্তা মালামাল উদ্ধার কালিগঞ্জে ড্রিংকিং ওয়াটার প্ল্যান্ট মালিক সমিতির সভা, নতুন কমিটি গঠন ও চারা বিতরণ কালিগঞ্জে প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে সচেতনতামূলক সংলাপ অনুষ্ঠিত প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পটেকর, গোয়ার বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ৭৫ বছর বয়সে সম্পাদকীয় : সারের ডিলারশিপ ও রাজনৈতিক আধিপত্য: বদলাচ্ছে শুধু ব্যানার, কৃষকের ভাগ্য কি বদলাবে? চাঁচাই বৃক্ষমেলা: অনুমোদনহীন আয়োজন ও ব্যবসায়ীদের লোকসান-দায় কার? কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে মৎস্যজীবী দলের কর্মী সম্মেলন ও নতুন কমিটি ঘোষণা কালিগঞ্জে ডাচ-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট আউটলেটের স্বচ্ছতা ও অঙ্গীকার নিয়ে গ্রাহক সমাবেশ শিক্ষক দিবসে প্রশ্ন—শিক্ষককে কতটা শিক্ষক থাকতে দিচ্ছি?

মার্কিন-ইরান যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা: চীন কি হবে নতুন ‘গ্যারান্টর’?

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪০:২৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • ৮৯৩ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেক্স :

মধ্যপ্রাচ্যে মাসব্যাপী চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ থামাতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে তুলেছে পাকিস্তান। এরই ধারাবাহিকতায়, অসুস্থতা ও শারীরিক আঘাত উপেক্ষা করে জরুরি সফরে বেইজিং পৌঁছেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।

ইসলামাবাদে তুরস্ক, মিশর এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক চতুর্ভুজ (Quadrilateral) বৈঠকের পরপরই দারের এই চীন সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত ২৭ মার্চ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাথে ফোনালাপে পাকিস্তান ও চীন পাঁচটি মূল নীতির ভিত্তিতে কাজ করতে একমত হয়েছে। নীতিগুলো হলো অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, পুনরায় আলোচনা শুরু, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতিসংঘ সনদের অনুসরণ। বিশ্লেষকদের মতে, ইসহাক দারের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো চীনকে শুধু মৌখিক সমর্থনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আলোচনার টেবিলে একটি ‘শক্তিশালী পক্ষ’ হিসেবে হাজির করা।

সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও ইরান বিশেষজ্ঞ ভ্যালি নাসর-এর মতে, ইরান যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে শক্তিশালী কোনো দেশের পক্ষ থেকে ‘গ্যারান্টি’ বা নিশ্চয়তা চাইছে। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তান চীনকে সেই ‘গ্যারান্টর’ বা জামিনদার হিসেবে রাজি করানোর চেষ্টা করছে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, চীন সামরিক বা রাজনৈতিকভাবে এতটা ঝুঁকি নেবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।

চীনের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইরান থেকে। এছাড়া চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে যাতায়াত করে, যা বর্তমানে যুদ্ধবস্থায় চরম ঝুঁকির মুখে। ইরানে চীনের ২৫ বছর মেয়াদী কৌশলগত চুক্তির আওতায় প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই বিশাল বিনিয়োগ ভেস্তে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI) এবং ‘চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর’ (CPEC)-এর স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যেমন কূটনীতির কথা বলছেন, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকিও দিচ্ছেন। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠকই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে যে, পাকিস্তান-নেতৃত্বাধীন এই শান্তি প্রচেষ্টা সফল হবে কি না।

উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার কাঁধের চোট নিয়েও বেইজিংয়ে ওয়াং ই-র সাথে বৈঠকে বসেছেন। এখন দেখার বিষয়, চীন কি কেবল শান্তির বাণী শুনিয়েই ক্ষান্ত হবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং মার্কিন-ইরান সংকট নিরসনে সরাসরি কোনো বড় ভূমিকা পালন করবে।


ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে পিরোজপুর পথকলি স্কুলেও দুঃসাহসিক চুরি, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ

মার্কিন-ইরান যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা: চীন কি হবে নতুন ‘গ্যারান্টর’?

আপডেট সময় : ০৯:৪০:২৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

নিউজ ডেক্স :

মধ্যপ্রাচ্যে মাসব্যাপী চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ থামাতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে তুলেছে পাকিস্তান। এরই ধারাবাহিকতায়, অসুস্থতা ও শারীরিক আঘাত উপেক্ষা করে জরুরি সফরে বেইজিং পৌঁছেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।

ইসলামাবাদে তুরস্ক, মিশর এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক চতুর্ভুজ (Quadrilateral) বৈঠকের পরপরই দারের এই চীন সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত ২৭ মার্চ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাথে ফোনালাপে পাকিস্তান ও চীন পাঁচটি মূল নীতির ভিত্তিতে কাজ করতে একমত হয়েছে। নীতিগুলো হলো অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, পুনরায় আলোচনা শুরু, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতিসংঘ সনদের অনুসরণ। বিশ্লেষকদের মতে, ইসহাক দারের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো চীনকে শুধু মৌখিক সমর্থনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আলোচনার টেবিলে একটি ‘শক্তিশালী পক্ষ’ হিসেবে হাজির করা।

সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও ইরান বিশেষজ্ঞ ভ্যালি নাসর-এর মতে, ইরান যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে শক্তিশালী কোনো দেশের পক্ষ থেকে ‘গ্যারান্টি’ বা নিশ্চয়তা চাইছে। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তান চীনকে সেই ‘গ্যারান্টর’ বা জামিনদার হিসেবে রাজি করানোর চেষ্টা করছে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, চীন সামরিক বা রাজনৈতিকভাবে এতটা ঝুঁকি নেবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।

চীনের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইরান থেকে। এছাড়া চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে যাতায়াত করে, যা বর্তমানে যুদ্ধবস্থায় চরম ঝুঁকির মুখে। ইরানে চীনের ২৫ বছর মেয়াদী কৌশলগত চুক্তির আওতায় প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই বিশাল বিনিয়োগ ভেস্তে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI) এবং ‘চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর’ (CPEC)-এর স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যেমন কূটনীতির কথা বলছেন, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকিও দিচ্ছেন। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠকই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে যে, পাকিস্তান-নেতৃত্বাধীন এই শান্তি প্রচেষ্টা সফল হবে কি না।

উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার কাঁধের চোট নিয়েও বেইজিংয়ে ওয়াং ই-র সাথে বৈঠকে বসেছেন। এখন দেখার বিষয়, চীন কি কেবল শান্তির বাণী শুনিয়েই ক্ষান্ত হবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং মার্কিন-ইরান সংকট নিরসনে সরাসরি কোনো বড় ভূমিকা পালন করবে।