মোঃ ইশারাত আলী :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দাপ্তরিক কার্যক্রম ও বেতন প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোঃ রাশেদুল ইসলাম খানের দাবি, কর্মস্থলে যোগদানের পর আইবাস++ ব্যবস্থায় বেতন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তিনি টানা তিন মাস বেতন-ভাতা পাননি। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মোঃ মহসিন কবিরের দাপ্তরিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), খুলনা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগের পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজন নাগরিকও সেবা গ্রহণে অনিয়ম ও হয়রানির বিষয়ে আবেদন করেছেন। বিষয়গুলো তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাশেদুল ইসলাম খানকে কালিগঞ্জের ধলবাড়ীয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পদায়ন করেন। তিনি ১ আগস্ট দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ২ আগস্ট কালিগঞ্জে যোগদান করেন। ৮ আগস্ট পূর্ববর্তী কর্মস্থল থেকে তাঁর শেষ বেতনপত্র (এলপিসি) পাঠানো হয়।
রাশেদুল ইসলামের অভিযোগ, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর আইবাস++ ব্যবস্থায় তাঁর বেতন সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ ও প্রয়োজনীয় কোড এন্ট্রির ক্ষেত্রে ভুল হয়। পরে সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁকে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে যেতে হয়। তাঁর দাবি, হিসাব দপ্তরের যাচাইয়ে কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য এন্ট্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ত্রুটির বিষয়টি উঠে আসে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অনলাইন রেকর্ড ও দাপ্তরিক নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চিকিৎসকের ভাষ্য, বেতন না পাওয়ায় তিনি পরিবার নিয়ে আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। এ বিষয়ে ২৯ অক্টোবর খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) বরাবর লিখিত আবেদন করে বেতন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং প্রধান সহকারীর ভূমিকা তদন্তের অনুরোধ জানান।
এদিকে, নারায়ণপুর গ্রামের আঃ মজিদ, আব্দুল মালেক, সাগর রহিম, আলমগীর, শাহানারা, হোসনেয়ারা, মনিরা ও বাবু তরফদারসহ কয়েকজন নাগরিক প্রধান সহকারী মহসিন কবিরের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক সেবা গ্রহণে অনিয়ম, হয়রানি ও ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে যৌথ আবেদন করেছেন। তবে আবেদনকারীদের অভিযোগের নির্দিষ্ট ঘটনা, প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট বক্তব্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ৩১ অক্টোবরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২ নভেম্বর সকাল ১১টায় কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিন তদন্ত ও গণশুনানির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযোগকারী, অভিযুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের উপস্থিতিতে নথিপত্র পর্যালোচনার কথা রয়েছে।
প্রধান সহকারী মহসিন কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন রাশেদুল ইসলাম ভাই অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্তকারী অফিসাররা জানে। আম কিছু জানিনা।
স্বাক্ষরিত চিঠির ভিত্তিতে জানা যায়, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), খুলনা মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে তদন্তের জন্য একটি সমন্বিত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে গঠিত কমিটির গঠন এবং তাদের অর্পিত প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকছেন-
| নাম ও পদবি | মূল দপ্তর / প্রতিষ্ঠান | তদন্ত কমিটিতে অর্পিত প্রশাসনিক দায়িত্ব |
| ডাঃ মোঃ জিয়াউর রহমান | উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, শ্যামনগর | তদন্ত কমিটির প্রধান ও সমন্বয়কারী |
| ডাঃ জয়ন্ত সরকার | মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ), সিভিল সার্জন অফিস, সাতক্ষীরা | তদন্ত কমিটির বিশেষজ্ঞ সদস্য |
| জনাব মাসুম বিল্লাহ | প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক, সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা | তদন্ত কমিটির সচিবালয় সহকারী (Secretarial Assistant) |
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের আদেশ অনুযায়ী (স্মারক নং- উস্বাক/শ্যাম/সাত/২৬/১৩৮৯৯), তদন্ত কমিটি ০২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ সোমবার বেলা ১১:০০ ঘটিকায় কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে তদন্ত সম্পাদন করবে। তদন্ত কার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্ধারিত কক্ষ প্রস্তুত রাখা এবং নারায়ণপুর গ্রামের অভিযোগকারী নাগরিকবৃন্দসহ অভিযুক্ত মহসিন কবিরকে স্বশরীরে উপস্থিত নিশ্চিত করার প্রশাসনিক অনুশাসন প্রদান করা হয়েছে।

প্রতিনিধির নাম 








