1. satkhiranews24@yahoo.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে কাপড়ের দোকানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ, ২৩ বস্তা মালামাল উদ্ধার কালিগঞ্জে ড্রিংকিং ওয়াটার প্ল্যান্ট মালিক সমিতির সভা, নতুন কমিটি গঠন ও চারা বিতরণ কালিগঞ্জে প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে সচেতনতামূলক সংলাপ অনুষ্ঠিত প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পটেকর, গোয়ার বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ৭৫ বছর বয়সে সম্পাদকীয় : সারের ডিলারশিপ ও রাজনৈতিক আধিপত্য: বদলাচ্ছে শুধু ব্যানার, কৃষকের ভাগ্য কি বদলাবে? চাঁচাই বৃক্ষমেলা: অনুমোদনহীন আয়োজন ও ব্যবসায়ীদের লোকসান-দায় কার? কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে মৎস্যজীবী দলের কর্মী সম্মেলন ও নতুন কমিটি ঘোষণা কালিগঞ্জে ডাচ-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট আউটলেটের স্বচ্ছতা ও অঙ্গীকার নিয়ে গ্রাহক সমাবেশ শিক্ষক দিবসে প্রশ্ন—শিক্ষককে কতটা শিক্ষক থাকতে দিচ্ছি? খতিয়ানের মারপ্যাঁচ ও গ্রামীণ রাজনীতির শিকার: কালিগঞ্জের ভূমি বিরোধ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নেপথ্য চিত্র

সাধারণ পুলে বৃত্তি পেল গুনজা দত্ত, আরিজপুরে বইছে আনন্দের হাওয়া

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১৬ বার পড়া হয়েছে

শ্রীধরকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী গুনজা দত্তের সাফল্যে পরিবার ও শিক্ষকদের মুখে হাসি

ছোট্ট বয়সেই মেধা, অধ্যবসায় আর স্বপ্নকে সঙ্গী করে সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের আরিজপুর গ্রামের মেয়ে গুনজা দত্ত। ১০৬ নম্বর শ্রীধরকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই মেধাবী ছাত্রী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সাধারণ পুলে বৃত্তি অর্জন করেছে। তার এই সাফল্যে পরিবার, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।

গুনজা দত্ত আরিজপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা গোবিন্দ কুমার দত্ত এবং মা রজনী মন্ডল। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী গুনজা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা, শিক্ষকদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নিজের পড়া নিজে অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ভালো ফলাফলের দিকে এগিয়ে যায়।

বৃত্তির ফল প্রকাশের পর গুনজার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে অভিনন্দন জানাতে বাড়িতে ছুটে আসেন। মেয়ের এই অর্জনে বাবা-মায়ের চোখেমুখেও ফুটে ওঠে গর্ব ও আনন্দের ছাপ।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গুনজার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। সুযোগ পেলে বই নিয়ে বসে পড়া, বিদ্যালয়ের পড়া নিয়মিত শেষ করা এবং পরীক্ষার আগে বাড়তি মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল তার অভ্যাস। তার এই ধারাবাহিক পরিশ্রমই বৃত্তির ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

গুনজার পরিবারের সঙ্গে শিক্ষার একটি দীর্ঘ সম্পর্কও রয়েছে। তার দাদু বিমল কৃষ্ণ মন্ডল সাবেক উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন কাটিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে গুনজার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ প্রত্যাশাও রয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, গুনজা শান্ত, ভদ্র ও মনোযোগী ছাত্রী। শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণের পাশাপাশি বাড়ির কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করার চেষ্টা করে সে। তার এই অর্জন শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, বিদ্যালয়ের জন্যও আনন্দের ও গর্বের।

বৃত্তি পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে গুনজা জানায়, এই সাফল্যে সে খুবই আনন্দিত। ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করে বড় হয়ে নিজের পরিবার, বিদ্যালয় ও এলাকার জন্য কিছু করতে চায় সে।

গুনজার বাবা-মায়ের প্রত্যাশা, মেয়ের এই সাফল্য তার ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের পথ আরও মসৃণ করবে। তারা মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তার স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকতে চান।

আরিজপুর গ্রামের মানুষের কাছেও গুনজার এই অর্জন আনন্দের খবর। প্রত্যন্ত এলাকার একটি পরিবারের ছোট্ট মেয়ের এমন সাফল্য অন্য শিশুদেরও পড়াশোনায় উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

একটি বৃত্তি হয়তো একটি শিশুর জীবনের পুরো গল্প নয়, কিন্তু সেই অর্জন তার স্বপ্নকে আরও বড় করে দেখতে শেখায়। গুনজা দত্তের এই সাফল্যও যেন তেমনই একটি স্বপ্নের শুরু।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে কাপড়ের দোকানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ, ২৩ বস্তা মালামাল উদ্ধার

সাধারণ পুলে বৃত্তি পেল গুনজা দত্ত, আরিজপুরে বইছে আনন্দের হাওয়া

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

শ্রীধরকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী গুনজা দত্তের সাফল্যে পরিবার ও শিক্ষকদের মুখে হাসি

ছোট্ট বয়সেই মেধা, অধ্যবসায় আর স্বপ্নকে সঙ্গী করে সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের আরিজপুর গ্রামের মেয়ে গুনজা দত্ত। ১০৬ নম্বর শ্রীধরকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই মেধাবী ছাত্রী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সাধারণ পুলে বৃত্তি অর্জন করেছে। তার এই সাফল্যে পরিবার, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।

গুনজা দত্ত আরিজপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা গোবিন্দ কুমার দত্ত এবং মা রজনী মন্ডল। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী গুনজা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা, শিক্ষকদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নিজের পড়া নিজে অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ভালো ফলাফলের দিকে এগিয়ে যায়।

বৃত্তির ফল প্রকাশের পর গুনজার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে অভিনন্দন জানাতে বাড়িতে ছুটে আসেন। মেয়ের এই অর্জনে বাবা-মায়ের চোখেমুখেও ফুটে ওঠে গর্ব ও আনন্দের ছাপ।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গুনজার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। সুযোগ পেলে বই নিয়ে বসে পড়া, বিদ্যালয়ের পড়া নিয়মিত শেষ করা এবং পরীক্ষার আগে বাড়তি মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল তার অভ্যাস। তার এই ধারাবাহিক পরিশ্রমই বৃত্তির ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

গুনজার পরিবারের সঙ্গে শিক্ষার একটি দীর্ঘ সম্পর্কও রয়েছে। তার দাদু বিমল কৃষ্ণ মন্ডল সাবেক উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন কাটিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে গুনজার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ প্রত্যাশাও রয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, গুনজা শান্ত, ভদ্র ও মনোযোগী ছাত্রী। শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণের পাশাপাশি বাড়ির কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করার চেষ্টা করে সে। তার এই অর্জন শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, বিদ্যালয়ের জন্যও আনন্দের ও গর্বের।

বৃত্তি পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে গুনজা জানায়, এই সাফল্যে সে খুবই আনন্দিত। ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করে বড় হয়ে নিজের পরিবার, বিদ্যালয় ও এলাকার জন্য কিছু করতে চায় সে।

গুনজার বাবা-মায়ের প্রত্যাশা, মেয়ের এই সাফল্য তার ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের পথ আরও মসৃণ করবে। তারা মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তার স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকতে চান।

আরিজপুর গ্রামের মানুষের কাছেও গুনজার এই অর্জন আনন্দের খবর। প্রত্যন্ত এলাকার একটি পরিবারের ছোট্ট মেয়ের এমন সাফল্য অন্য শিশুদেরও পড়াশোনায় উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

একটি বৃত্তি হয়তো একটি শিশুর জীবনের পুরো গল্প নয়, কিন্তু সেই অর্জন তার স্বপ্নকে আরও বড় করে দেখতে শেখায়। গুনজা দত্তের এই সাফল্যও যেন তেমনই একটি স্বপ্নের শুরু।