1. tusu0x1@gmail.com : :
  2. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে ঠেকরায় চলাচলের পথ কেটে মাটি পুকু‌রে ফেলার অভিযোগ। কালিগঞ্জ রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শ.ম মমতাজুর রহমানের ইন্তেকাল কালিগঞ্জে নবাগত ওসির সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় : মাদক-সন্ত্রাস ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা কালিগঞ্জের রেবতী সরকারের তাজা প্রাণ ঝরে গেল কোলকাতার অগ্নিকাণ্ডে কালিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রফুর মৃত্যু কলকাতায় হোটেলে আগুনে দগ্ধ হয়ে কালিগঞ্জের সাবেক আওয়ামী নেতা আলিমুজ্জামানের মৃত্যু- রেবতী সরকারের ঠিকানা পাওয়া যায়নি জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে সাতক্ষীরা পৌরসভাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে কালিগঞ্জ ‘খরচ বাড়ে, ভাড়া কমে’-কালিগঞ্জে ডেকোরেটর ব্যবসায় টিকে থাকার লড়াই, ‘ঐক্যবদ্ধ না হলে ডেকোরেটর ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন’-হেদায়েতুল ইসলাম কালিগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন কালিগঞ্জে বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল নিক্ষেপ: আহত ১, অবিস্ফোরিত দুটি বোমা উদ্ধার

ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতে থমকে কৃষি ও মৎস্য অর্থনীতি: কালিগঞ্জের দুর্গাপুর মৌজায় আধুনিক রাস্তা ও কালভাটের দাবি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:০৭ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ৩৪৪ বার পড়া হয়েছে

সোলায়মান মামুন, কালিগঞ্জ থেকে :

কালিগঞ্জের কুশলিয়া ইউনিয়নের কুলিয়া দুর্গাপুর মৌজার ঘোজাডাঙ্গা এলাকায় বিস্তীর্ণ বিল অঞ্চলের ফসলি জমি ও মাছের ঘেরগুলোর ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে শত শত কৃষক ও মৎস্যজীবী পরিবার। উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ এগিয়ে গেলেও, এই এলাকার কৃষকদের যাতায়াতের প্রধান ভরসা এখনও সেই আদিম আমলের নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। শুধু মানুষ নয়, প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে কয়েকশ ঘের মালিক ও তাদের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘেরে যাতায়াত করেন।

তপ্ত রোদ কিংবা বৃষ্টির দিনে নড়বড়ে এই সাঁকোটিই তাদের চলাচলের একমাত্র পথ। তবে এই সাঁকো দিয়ে মানুষ কোনোমতে চলাচল করতে পারলেও, পণ্য পরিবহনের কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় ঘের মালিকরা জানান, মাছ কিংবা ফসলের বড় কোনো চালান নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে পার হওয়া মানেই নিশ্চিত দুর্ঘটনা। ফলে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে পৌঁছাতে না পেরে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় ঘের মালিক মো. রহমত আলী আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ এই সাঁকো দিয়ে ঘেরে যাতায়াত করি। মাছের পোনা আনা বা বড় মাছ নিয়ে শহরে যাওয়া আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একটি স্থায়ী রাস্তার অভাবে আমরা প্রতি বছর আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।”

দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নিয়ে স্থানীয় কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক সময় মাথায় করে নেওয়া মালামাল খালে পড়ে যায়। পাইকাররা এখানে আসতে চায় না কারণ তাদের মালামাল আনার মতো রাস্তা নেই। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার বলেছি, কিন্তু একটি স্থায়ী রাস্তার স্বপ্ন আজও অধরা রয়ে গেছে।”

ঘেরের কর্মচারী উৎপল বৈদ্য বলেন, “সকাল-বিকাল জীবন হাতে নিয়ে এই পিচ্ছিল বাঁশের ওপর দিয়ে চলতে হয়। কোনো অসুস্থ রোগী বা জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স আসার পথও এখানে নেই। আমরা চাই, দ্রুত এখানে একটি টেকসই রাস্তা তৈরি করা হোক।”

কুশলিয়া ইউনিয়নের কুলিয়া দুর্গাপুর, ঘোজাডাঙ্গা, মদিনার দর্গা এলাকার কৃষক ও মৎস্য চাষীরা এখন আর বাঁশের সাঁকোয় সন্তুষ্ট নন। বিলের সাথে যুক্ত একটি স্থায়ী রাস্তার দাবি এখন সময়ের দাবি। তারা মনে করেন, একটি টেকসই রাস্তা নির্মিত হলে যেমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ কমবে, তেমনি গ্রামটির অর্থনৈতিক চেহারাও পাল্টে যাবে। এটি কেবল যাতায়াত ব্যবস্থা নয়, বরং কয়েকশ ঘের মালিক ও কর্মচারীর জীবনমান পরিবর্তনের একমাত্র চাবিকাঠি।

কালিগঞ্জের ঘোজাডাঙ্গা বৈদ্যপাড়ার এই বাঁশের সাঁকোটি কেবল একটি কাঠামোগত দুর্বলতা নয়, এটি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির এক বিশাল সীমাবদ্ধতা। কুশলিয়া ইউনিয়ন তথা প্রশাসনের সুদৃষ্টিই পারে এই অবহেলিত জনপদের কৃষকদের দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণে দ্রুত উদ্যোগ নিতে। কৃষকের জীবন বদলে দিতে এখন একটি মজবুত রাস্তার অপেক্ষায় পুরো এলাকা।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে ঠেকরায় চলাচলের পথ কেটে মাটি পুকু‌রে ফেলার অভিযোগ।

ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতে থমকে কৃষি ও মৎস্য অর্থনীতি: কালিগঞ্জের দুর্গাপুর মৌজায় আধুনিক রাস্তা ও কালভাটের দাবি

আপডেট সময় : ০৩:৫২:০৭ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

সোলায়মান মামুন, কালিগঞ্জ থেকে :

কালিগঞ্জের কুশলিয়া ইউনিয়নের কুলিয়া দুর্গাপুর মৌজার ঘোজাডাঙ্গা এলাকায় বিস্তীর্ণ বিল অঞ্চলের ফসলি জমি ও মাছের ঘেরগুলোর ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে শত শত কৃষক ও মৎস্যজীবী পরিবার। উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ এগিয়ে গেলেও, এই এলাকার কৃষকদের যাতায়াতের প্রধান ভরসা এখনও সেই আদিম আমলের নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। শুধু মানুষ নয়, প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে কয়েকশ ঘের মালিক ও তাদের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘেরে যাতায়াত করেন।

তপ্ত রোদ কিংবা বৃষ্টির দিনে নড়বড়ে এই সাঁকোটিই তাদের চলাচলের একমাত্র পথ। তবে এই সাঁকো দিয়ে মানুষ কোনোমতে চলাচল করতে পারলেও, পণ্য পরিবহনের কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় ঘের মালিকরা জানান, মাছ কিংবা ফসলের বড় কোনো চালান নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে পার হওয়া মানেই নিশ্চিত দুর্ঘটনা। ফলে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে পৌঁছাতে না পেরে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় ঘের মালিক মো. রহমত আলী আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ এই সাঁকো দিয়ে ঘেরে যাতায়াত করি। মাছের পোনা আনা বা বড় মাছ নিয়ে শহরে যাওয়া আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একটি স্থায়ী রাস্তার অভাবে আমরা প্রতি বছর আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।”

দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নিয়ে স্থানীয় কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক সময় মাথায় করে নেওয়া মালামাল খালে পড়ে যায়। পাইকাররা এখানে আসতে চায় না কারণ তাদের মালামাল আনার মতো রাস্তা নেই। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার বলেছি, কিন্তু একটি স্থায়ী রাস্তার স্বপ্ন আজও অধরা রয়ে গেছে।”

ঘেরের কর্মচারী উৎপল বৈদ্য বলেন, “সকাল-বিকাল জীবন হাতে নিয়ে এই পিচ্ছিল বাঁশের ওপর দিয়ে চলতে হয়। কোনো অসুস্থ রোগী বা জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স আসার পথও এখানে নেই। আমরা চাই, দ্রুত এখানে একটি টেকসই রাস্তা তৈরি করা হোক।”

কুশলিয়া ইউনিয়নের কুলিয়া দুর্গাপুর, ঘোজাডাঙ্গা, মদিনার দর্গা এলাকার কৃষক ও মৎস্য চাষীরা এখন আর বাঁশের সাঁকোয় সন্তুষ্ট নন। বিলের সাথে যুক্ত একটি স্থায়ী রাস্তার দাবি এখন সময়ের দাবি। তারা মনে করেন, একটি টেকসই রাস্তা নির্মিত হলে যেমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ কমবে, তেমনি গ্রামটির অর্থনৈতিক চেহারাও পাল্টে যাবে। এটি কেবল যাতায়াত ব্যবস্থা নয়, বরং কয়েকশ ঘের মালিক ও কর্মচারীর জীবনমান পরিবর্তনের একমাত্র চাবিকাঠি।

কালিগঞ্জের ঘোজাডাঙ্গা বৈদ্যপাড়ার এই বাঁশের সাঁকোটি কেবল একটি কাঠামোগত দুর্বলতা নয়, এটি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির এক বিশাল সীমাবদ্ধতা। কুশলিয়া ইউনিয়ন তথা প্রশাসনের সুদৃষ্টিই পারে এই অবহেলিত জনপদের কৃষকদের দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণে দ্রুত উদ্যোগ নিতে। কৃষকের জীবন বদলে দিতে এখন একটি মজবুত রাস্তার অপেক্ষায় পুরো এলাকা।