1. satkhiranews24@yahoo.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
ধলবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রচারণায় জিএম ফজলুল হক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি – উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা মানবতার টানে ২৪ বছর ধরে নিবেদিতপ্রাণ: মৌতলা ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখের কাণ্ডারি শেখ জাহাঙ্গীর আলম তবুও আশার আলোয় ভাসছে চাঁচাই বৃক্ষমেলা! নার্শারী মালিকরা ক্ষতির মুখে! ঝুলে আছে ফিতা কাটা উদ্বোধন কালিগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসি সভা অনুষ্ঠিত অর্জুন-দেব মুখোমুখি, লাবনীর ‘ডিভোর্স’, ৮ দিনের মাথায় সাতপাকে নতুন বর কালিগঞ্জে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবায় গ্রাহকদের আস্থা বাড়াচ্ছে ‘দৌড়’ কালিগঞ্জে সাংবাদিকের প্রতিষ্ঠানে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ৭ লাখ টাকার ক্ষতি; প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন শ্যামনগরে কদবেল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে কালিগঞ্জের ব্যবসায়ীর মৃত্যু ধলবাড়িয়ায় গাজী পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ফের চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন শওকাত হোসেন কালিগঞ্জে জুয়েলার্সের শাটার-লকার ভেঙে চুরি, স্বর্ণ-রুপা ও নগদ টাকা খোয়া

ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতে থমকে কৃষি ও মৎস্য অর্থনীতি: কালিগঞ্জের দুর্গাপুর মৌজায় আধুনিক রাস্তা ও কালভাটের দাবি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:০৭ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ৩৯১ বার পড়া হয়েছে

সোলায়মান মামুন, কালিগঞ্জ থেকে :

কালিগঞ্জের কুশলিয়া ইউনিয়নের কুলিয়া দুর্গাপুর মৌজার ঘোজাডাঙ্গা এলাকায় বিস্তীর্ণ বিল অঞ্চলের ফসলি জমি ও মাছের ঘেরগুলোর ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে শত শত কৃষক ও মৎস্যজীবী পরিবার। উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ এগিয়ে গেলেও, এই এলাকার কৃষকদের যাতায়াতের প্রধান ভরসা এখনও সেই আদিম আমলের নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। শুধু মানুষ নয়, প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে কয়েকশ ঘের মালিক ও তাদের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘেরে যাতায়াত করেন।

তপ্ত রোদ কিংবা বৃষ্টির দিনে নড়বড়ে এই সাঁকোটিই তাদের চলাচলের একমাত্র পথ। তবে এই সাঁকো দিয়ে মানুষ কোনোমতে চলাচল করতে পারলেও, পণ্য পরিবহনের কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় ঘের মালিকরা জানান, মাছ কিংবা ফসলের বড় কোনো চালান নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে পার হওয়া মানেই নিশ্চিত দুর্ঘটনা। ফলে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে পৌঁছাতে না পেরে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় ঘের মালিক মো. রহমত আলী আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ এই সাঁকো দিয়ে ঘেরে যাতায়াত করি। মাছের পোনা আনা বা বড় মাছ নিয়ে শহরে যাওয়া আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একটি স্থায়ী রাস্তার অভাবে আমরা প্রতি বছর আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।”

দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নিয়ে স্থানীয় কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক সময় মাথায় করে নেওয়া মালামাল খালে পড়ে যায়। পাইকাররা এখানে আসতে চায় না কারণ তাদের মালামাল আনার মতো রাস্তা নেই। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার বলেছি, কিন্তু একটি স্থায়ী রাস্তার স্বপ্ন আজও অধরা রয়ে গেছে।”

ঘেরের কর্মচারী উৎপল বৈদ্য বলেন, “সকাল-বিকাল জীবন হাতে নিয়ে এই পিচ্ছিল বাঁশের ওপর দিয়ে চলতে হয়। কোনো অসুস্থ রোগী বা জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স আসার পথও এখানে নেই। আমরা চাই, দ্রুত এখানে একটি টেকসই রাস্তা তৈরি করা হোক।”

কুশলিয়া ইউনিয়নের কুলিয়া দুর্গাপুর, ঘোজাডাঙ্গা, মদিনার দর্গা এলাকার কৃষক ও মৎস্য চাষীরা এখন আর বাঁশের সাঁকোয় সন্তুষ্ট নন। বিলের সাথে যুক্ত একটি স্থায়ী রাস্তার দাবি এখন সময়ের দাবি। তারা মনে করেন, একটি টেকসই রাস্তা নির্মিত হলে যেমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ কমবে, তেমনি গ্রামটির অর্থনৈতিক চেহারাও পাল্টে যাবে। এটি কেবল যাতায়াত ব্যবস্থা নয়, বরং কয়েকশ ঘের মালিক ও কর্মচারীর জীবনমান পরিবর্তনের একমাত্র চাবিকাঠি।

কালিগঞ্জের ঘোজাডাঙ্গা বৈদ্যপাড়ার এই বাঁশের সাঁকোটি কেবল একটি কাঠামোগত দুর্বলতা নয়, এটি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির এক বিশাল সীমাবদ্ধতা। কুশলিয়া ইউনিয়ন তথা প্রশাসনের সুদৃষ্টিই পারে এই অবহেলিত জনপদের কৃষকদের দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণে দ্রুত উদ্যোগ নিতে। কৃষকের জীবন বদলে দিতে এখন একটি মজবুত রাস্তার অপেক্ষায় পুরো এলাকা।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ধলবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রচারণায় জিএম ফজলুল হক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি – উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা

ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতে থমকে কৃষি ও মৎস্য অর্থনীতি: কালিগঞ্জের দুর্গাপুর মৌজায় আধুনিক রাস্তা ও কালভাটের দাবি

আপডেট সময় : ০৩:৫২:০৭ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

সোলায়মান মামুন, কালিগঞ্জ থেকে :

কালিগঞ্জের কুশলিয়া ইউনিয়নের কুলিয়া দুর্গাপুর মৌজার ঘোজাডাঙ্গা এলাকায় বিস্তীর্ণ বিল অঞ্চলের ফসলি জমি ও মাছের ঘেরগুলোর ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে শত শত কৃষক ও মৎস্যজীবী পরিবার। উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ এগিয়ে গেলেও, এই এলাকার কৃষকদের যাতায়াতের প্রধান ভরসা এখনও সেই আদিম আমলের নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। শুধু মানুষ নয়, প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে কয়েকশ ঘের মালিক ও তাদের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘেরে যাতায়াত করেন।

তপ্ত রোদ কিংবা বৃষ্টির দিনে নড়বড়ে এই সাঁকোটিই তাদের চলাচলের একমাত্র পথ। তবে এই সাঁকো দিয়ে মানুষ কোনোমতে চলাচল করতে পারলেও, পণ্য পরিবহনের কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় ঘের মালিকরা জানান, মাছ কিংবা ফসলের বড় কোনো চালান নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে পার হওয়া মানেই নিশ্চিত দুর্ঘটনা। ফলে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে পৌঁছাতে না পেরে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় ঘের মালিক মো. রহমত আলী আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ এই সাঁকো দিয়ে ঘেরে যাতায়াত করি। মাছের পোনা আনা বা বড় মাছ নিয়ে শহরে যাওয়া আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একটি স্থায়ী রাস্তার অভাবে আমরা প্রতি বছর আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।”

দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নিয়ে স্থানীয় কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক সময় মাথায় করে নেওয়া মালামাল খালে পড়ে যায়। পাইকাররা এখানে আসতে চায় না কারণ তাদের মালামাল আনার মতো রাস্তা নেই। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার বলেছি, কিন্তু একটি স্থায়ী রাস্তার স্বপ্ন আজও অধরা রয়ে গেছে।”

ঘেরের কর্মচারী উৎপল বৈদ্য বলেন, “সকাল-বিকাল জীবন হাতে নিয়ে এই পিচ্ছিল বাঁশের ওপর দিয়ে চলতে হয়। কোনো অসুস্থ রোগী বা জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স আসার পথও এখানে নেই। আমরা চাই, দ্রুত এখানে একটি টেকসই রাস্তা তৈরি করা হোক।”

কুশলিয়া ইউনিয়নের কুলিয়া দুর্গাপুর, ঘোজাডাঙ্গা, মদিনার দর্গা এলাকার কৃষক ও মৎস্য চাষীরা এখন আর বাঁশের সাঁকোয় সন্তুষ্ট নন। বিলের সাথে যুক্ত একটি স্থায়ী রাস্তার দাবি এখন সময়ের দাবি। তারা মনে করেন, একটি টেকসই রাস্তা নির্মিত হলে যেমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ কমবে, তেমনি গ্রামটির অর্থনৈতিক চেহারাও পাল্টে যাবে। এটি কেবল যাতায়াত ব্যবস্থা নয়, বরং কয়েকশ ঘের মালিক ও কর্মচারীর জীবনমান পরিবর্তনের একমাত্র চাবিকাঠি।

কালিগঞ্জের ঘোজাডাঙ্গা বৈদ্যপাড়ার এই বাঁশের সাঁকোটি কেবল একটি কাঠামোগত দুর্বলতা নয়, এটি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির এক বিশাল সীমাবদ্ধতা। কুশলিয়া ইউনিয়ন তথা প্রশাসনের সুদৃষ্টিই পারে এই অবহেলিত জনপদের কৃষকদের দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণে দ্রুত উদ্যোগ নিতে। কৃষকের জীবন বদলে দিতে এখন একটি মজবুত রাস্তার অপেক্ষায় পুরো এলাকা।