1. satkhiranews24@yahoo.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
খতিয়ানের মারপ্যাঁচ ও গ্রামীণ রাজনীতির শিকার: কালিগঞ্জের ভূমি বিরোধ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নেপথ্য চিত্র কালিগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে ছাত্রীর বাল্যবিয়েতে ৩২ সহপাঠী! প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পণ্ড, শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে জনসেবায় এক অতন্দ্র প্রহরীর নাম: মোঃ মারুফ বিল্লাহ সাধারণ পুলে বৃত্তি পেল গুনজা দত্ত, আরিজপুরে বইছে আনন্দের হাওয়া কালিগঞ্জে মন্দিরের দেয়ালে বাঁশ লাগাকে কেন্দ্র করে বাদানুবাদ ও থানায় অভিযোগ উদ্বোধকের অপেক্ষার অবসান, চাঁচাইয়ে শুরু হলো বৃক্ষমেলা ধলবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রচারণায় জিএম ফজলুল হক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি – উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা মানবতার টানে ২৪ বছর ধরে নিবেদিতপ্রাণ: মৌতলা ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখের কাণ্ডারি শেখ জাহাঙ্গীর আলম তবুও আশার আলোয় ভাসছে চাঁচাই বৃক্ষমেলা! নার্শারী মালিকরা ক্ষতির মুখে! ঝুলে আছে ফিতা কাটা উদ্বোধন কালিগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসি সভা অনুষ্ঠিত

কালিগঞ্জে সঞ্জিব হত্যা মামলায় নাটকীয় মোড় : ৪ আসামির ১জন গ্রেফতার, কর্তাদের কুটচালে আতঙ্কিত পরিবার

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৪:৩৪ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ১২৪১ বার পড়া হয়েছে
১৩১৫

মোঃ ইশারাত আলী :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মাছের ঘের ব্যবসায়ী সঞ্জিব কুমার সরকার (৩৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত ৪ আসামির মধ্যে একজনকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হলেও, মূল হোতাদের নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যার নেপথ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং জমিজমার বিরোধের পাশাপাশি এখন সামনে আসছে নতুন ‘নাটকীয় মোড়’। অভিযোগ উঠেছে, হত্যার মাস্টারমাইন্ড বা নাটের গুরুরা খোদ ভুক্তভোগীর আপনজন এবং তারা এখন মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরিয়া হয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে।

কালিগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত মামলা (নং- ১/১৪০) অনুযায়ী, এজাহারভুক্ত ৪ আসামির মধ্যে একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী তাপস সরকার ওরফে ডালিম সরকারসহ বাকি প্রধান আসামীরা গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং নানাবিধ প্রভাব খাটিয়ে মূল অপরাধীরা পার পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে—সঞ্জিবের পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা হয়েছে ঘরের ভেতর থেকেই। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে নিহতের নিকটাত্মীয়রা (কাকা ও আত্মীয়) জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসায় স্তম্ভিত এলাকাবাসী। এটি কি নিছক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নাকি সুপরিকল্পিত কোনো পারিবারিক ষড়যন্ত্র—তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। পরিবারের অভিযোগ, প্রকৃত খুনিদের আড়াল করতে একটি কুচক্রী মহল এখন ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে।

১০ মাস বয়সী কন্যাসন্তান ও স্ত্রীকে রেখে চিরবিদায় নেওয়া সঞ্জিবের পরিবারের সদস্যরা এখন অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। নিহতের পিতা গোপাল চন্দ্র সরকার এবং স্বজনরা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত মূল পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে মামলার আলামত ধ্বংস এবং সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই মামলাটি কেবল একটি ‘ঘের ব্যবসায়ী হত্যা’ হিসেবে দেখলে হবে না। এখানে যে ‘পারিবারিক ষড়যন্ত্রের’ গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, তার প্রতিটি সুতো উন্মোচন করতে হবে।

সঞ্জিব সরকারের পরিবার কেবল হত্যাকারীদের গ্রেফতারই নয়, বরং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশ প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষভাবে এই ‘হাড় হিম করা’ হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে পারে এবং প্রকৃত অপরাধীরা কি শেষ পর্যন্ত বিচারের মুখোমুখি হবে? নাকি প্রভাবে ধামাচাপা পড়বে সঞ্জিব হত্যার বিচার?

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খতিয়ানের মারপ্যাঁচ ও গ্রামীণ রাজনীতির শিকার: কালিগঞ্জের ভূমি বিরোধ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নেপথ্য চিত্র

কালিগঞ্জে সঞ্জিব হত্যা মামলায় নাটকীয় মোড় : ৪ আসামির ১জন গ্রেফতার, কর্তাদের কুটচালে আতঙ্কিত পরিবার

আপডেট সময় : ০১:৫৪:৩৪ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬






১৩১৫











মোঃ ইশারাত আলী :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মাছের ঘের ব্যবসায়ী সঞ্জিব কুমার সরকার (৩৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত ৪ আসামির মধ্যে একজনকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হলেও, মূল হোতাদের নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যার নেপথ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং জমিজমার বিরোধের পাশাপাশি এখন সামনে আসছে নতুন ‘নাটকীয় মোড়’। অভিযোগ উঠেছে, হত্যার মাস্টারমাইন্ড বা নাটের গুরুরা খোদ ভুক্তভোগীর আপনজন এবং তারা এখন মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরিয়া হয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে।

কালিগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত মামলা (নং- ১/১৪০) অনুযায়ী, এজাহারভুক্ত ৪ আসামির মধ্যে একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী তাপস সরকার ওরফে ডালিম সরকারসহ বাকি প্রধান আসামীরা গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং নানাবিধ প্রভাব খাটিয়ে মূল অপরাধীরা পার পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে—সঞ্জিবের পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা হয়েছে ঘরের ভেতর থেকেই। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে নিহতের নিকটাত্মীয়রা (কাকা ও আত্মীয়) জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসায় স্তম্ভিত এলাকাবাসী। এটি কি নিছক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নাকি সুপরিকল্পিত কোনো পারিবারিক ষড়যন্ত্র—তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। পরিবারের অভিযোগ, প্রকৃত খুনিদের আড়াল করতে একটি কুচক্রী মহল এখন ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে।

১০ মাস বয়সী কন্যাসন্তান ও স্ত্রীকে রেখে চিরবিদায় নেওয়া সঞ্জিবের পরিবারের সদস্যরা এখন অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। নিহতের পিতা গোপাল চন্দ্র সরকার এবং স্বজনরা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত মূল পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে মামলার আলামত ধ্বংস এবং সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই মামলাটি কেবল একটি ‘ঘের ব্যবসায়ী হত্যা’ হিসেবে দেখলে হবে না। এখানে যে ‘পারিবারিক ষড়যন্ত্রের’ গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, তার প্রতিটি সুতো উন্মোচন করতে হবে।

সঞ্জিব সরকারের পরিবার কেবল হত্যাকারীদের গ্রেফতারই নয়, বরং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশ প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষভাবে এই ‘হাড় হিম করা’ হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে পারে এবং প্রকৃত অপরাধীরা কি শেষ পর্যন্ত বিচারের মুখোমুখি হবে? নাকি প্রভাবে ধামাচাপা পড়বে সঞ্জিব হত্যার বিচার?