1. satkhiranews24@yahoo.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
শিক্ষক দিবসে প্রশ্ন—শিক্ষককে কতটা শিক্ষক থাকতে দিচ্ছি? খতিয়ানের মারপ্যাঁচ ও গ্রামীণ রাজনীতির শিকার: কালিগঞ্জের ভূমি বিরোধ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নেপথ্য চিত্র কালিগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে ছাত্রীর বাল্যবিয়েতে ৩২ সহপাঠী! প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পণ্ড, শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে জনসেবায় এক অতন্দ্র প্রহরীর নাম: মোঃ মারুফ বিল্লাহ সাধারণ পুলে বৃত্তি পেল গুনজা দত্ত, আরিজপুরে বইছে আনন্দের হাওয়া কালিগঞ্জে মন্দিরের দেয়ালে বাঁশ লাগাকে কেন্দ্র করে বাদানুবাদ ও থানায় অভিযোগ উদ্বোধকের অপেক্ষার অবসান, চাঁচাইয়ে শুরু হলো বৃক্ষমেলা ধলবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রচারণায় জিএম ফজলুল হক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি – উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা মানবতার টানে ২৪ বছর ধরে নিবেদিতপ্রাণ: মৌতলা ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখের কাণ্ডারি শেখ জাহাঙ্গীর আলম তবুও আশার আলোয় ভাসছে চাঁচাই বৃক্ষমেলা! নার্শারী মালিকরা ক্ষতির মুখে! ঝুলে আছে ফিতা কাটা উদ্বোধন

কালিগঞ্জে জ্বালানি তেলের নামে প্রকাশ্য লুটপাট

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:৫৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ৯৬৪ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইশারাত আলী : 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় সরকার কাগজে-কলমে জ্বালানি তেলের দাম কমালেও তার কোনো প্রতিফলন নেই। বরং সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এখানে উল্টো বাড়তি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে-সরকারের সিদ্ধান্ত কি কালিগঞ্জে অকার্যকর? নাকি এখানে আলাদা আইন চলে?

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা করে কমানোর ঘোষণা দেয়। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও কালিগঞ্জ উপজেলার কোনো ইউনিয়নেই তার বাস্তব প্রভাব দেখা যায়নি।

বিশেষ করে উপজেলার পাউখালী, রতনপুর, মৌতলা, নলতা, বাঁশতলা, তারালী, উজিরপুর, চম্পাফুল, বালিয়াডাঙ্গা, চৌমুহনী ও কদমতলা বাজারে প্রকাশ্যে সরকারি দামের তোয়াক্কা না করেই জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জ্বালানি তেল বিক্রির নামে এখানে কার্যত প্রকাশ্য ডাকাতি চলছে।

সরকারি ঘোষণায় ডিজেল ১০২ টাকা থেকে কমে ১০০ টাকা, অকটেন ১২২ টাকা থেকে ১২০ টাকা, পেট্রল ১১৮ টাকা থেকে ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১৬ টাকা থেকে কমে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে পেট্রল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটারে ৪ টাকা বেশি, অকটেন ৫ টাকা, ডিজেল ৬ থেকে ৮ টাকা, কেরোসিন ৩ থেকে ৬ টাকা বেশি দরে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতি হাজার লিটার ডিজেলে অতিরিক্ত ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা, পেট্রল থেকে ৪ হাজার টাকা, অকটেন থেকে ৫ হাজার টাকা এবং কেরোসিন বিক্রি করে ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।

সেচ মৌসুমে ডিজেলের বাড়তি দামে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। পরিবহন ব্যয় না কমায় নিত্যপণ্যের দামও নিম্নমুখী হচ্ছে না। সরকার যে স্বস্তি দিতে চেয়েছিল, তা মাঝপথেই গিলে ফেলছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। প্রশ্ন উঠছে-এই বেপরোয়া সাহস তারা কোথা থেকে পাচ্ছে?

মটর সাইকেল চালক আমিরুল আমাদের এ প্রতিনিধির সামনে পেট্রোলের একজন ডিলারের দোকান থেকে বোতলে ১ লিটার তেল কিনেছে ১২০ টাকা দিয়ে। পেট্রোল ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে লিটারে ৪টাকা বেশী নিলে তাকে জিঙ্ঘাসা করা হয় আপনার কাছ থেকে ৪টাকা বেশী নিয়েছে। কেন দিলেন? তিনি বলেন আমি পেট্রোলের বাজার দর জানিনা।

দোকানদারকে জিঙ্ঘেস করলে তিনি বলেন ভাই আমি বুঝতে পারিনি। তার অর্থ তিনি গত তিনদিন যত লিটার তেল বিক্রি করেছেন তার প্রতি লিটারে ৫টাকা করে বেশী নিয়েছে। এভাবে সকল জ্বালানী তেলে তিনি বেশী নিচ্ছে।

কালিগঞ্জের নেঙ্গী গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “ডিজেলের দাম কমেছে কিনা জানি না। তবে আমি প্রতি লিটার ১০৫ টাকায় ডিজেল কিনেছি।”

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো-এই অনিয়ম দেখার মতো কার্যকর তদারকি নেই। প্রশাসন কি জানে না, নাকি জানার পরও নীরব? ভ্রাম্যমাণ আদালত কোথায়? নজরদারি কোথায়? স্থানীয়দের প্রশ্ন-কালিগঞ্জের মানুষ বলেই কি তাদের কষ্টের কোনো মূল্য নেই?

নীরবতাই এখন সবচেয়ে বড় আশঙ্কা। কারণ নীরবতা মানেই প্রশ্রয়। আর প্রশ্রয় পেলে লুটেরা আরও বেপরোয়া হয়। আজ ৬ টাকা, কাল ১০ টাকা-তখন ঠেকাবে কে?

এ বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি শুনলাম, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এখন দেখার বিষয়-এই বক্তব্য কাগজে থাকবে, নাকি কালিগঞ্জের মানুষ অবশেষে বাস্তবে এর ফল পাবে।#

 

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষক দিবসে প্রশ্ন—শিক্ষককে কতটা শিক্ষক থাকতে দিচ্ছি?

কালিগঞ্জে জ্বালানি তেলের নামে প্রকাশ্য লুটপাট

আপডেট সময় : ০৯:২০:৫৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী : 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় সরকার কাগজে-কলমে জ্বালানি তেলের দাম কমালেও তার কোনো প্রতিফলন নেই। বরং সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এখানে উল্টো বাড়তি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে-সরকারের সিদ্ধান্ত কি কালিগঞ্জে অকার্যকর? নাকি এখানে আলাদা আইন চলে?

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা করে কমানোর ঘোষণা দেয়। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও কালিগঞ্জ উপজেলার কোনো ইউনিয়নেই তার বাস্তব প্রভাব দেখা যায়নি।

বিশেষ করে উপজেলার পাউখালী, রতনপুর, মৌতলা, নলতা, বাঁশতলা, তারালী, উজিরপুর, চম্পাফুল, বালিয়াডাঙ্গা, চৌমুহনী ও কদমতলা বাজারে প্রকাশ্যে সরকারি দামের তোয়াক্কা না করেই জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জ্বালানি তেল বিক্রির নামে এখানে কার্যত প্রকাশ্য ডাকাতি চলছে।

সরকারি ঘোষণায় ডিজেল ১০২ টাকা থেকে কমে ১০০ টাকা, অকটেন ১২২ টাকা থেকে ১২০ টাকা, পেট্রল ১১৮ টাকা থেকে ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১৬ টাকা থেকে কমে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে পেট্রল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটারে ৪ টাকা বেশি, অকটেন ৫ টাকা, ডিজেল ৬ থেকে ৮ টাকা, কেরোসিন ৩ থেকে ৬ টাকা বেশি দরে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতি হাজার লিটার ডিজেলে অতিরিক্ত ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা, পেট্রল থেকে ৪ হাজার টাকা, অকটেন থেকে ৫ হাজার টাকা এবং কেরোসিন বিক্রি করে ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।

সেচ মৌসুমে ডিজেলের বাড়তি দামে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। পরিবহন ব্যয় না কমায় নিত্যপণ্যের দামও নিম্নমুখী হচ্ছে না। সরকার যে স্বস্তি দিতে চেয়েছিল, তা মাঝপথেই গিলে ফেলছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। প্রশ্ন উঠছে-এই বেপরোয়া সাহস তারা কোথা থেকে পাচ্ছে?

মটর সাইকেল চালক আমিরুল আমাদের এ প্রতিনিধির সামনে পেট্রোলের একজন ডিলারের দোকান থেকে বোতলে ১ লিটার তেল কিনেছে ১২০ টাকা দিয়ে। পেট্রোল ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে লিটারে ৪টাকা বেশী নিলে তাকে জিঙ্ঘাসা করা হয় আপনার কাছ থেকে ৪টাকা বেশী নিয়েছে। কেন দিলেন? তিনি বলেন আমি পেট্রোলের বাজার দর জানিনা।

দোকানদারকে জিঙ্ঘেস করলে তিনি বলেন ভাই আমি বুঝতে পারিনি। তার অর্থ তিনি গত তিনদিন যত লিটার তেল বিক্রি করেছেন তার প্রতি লিটারে ৫টাকা করে বেশী নিয়েছে। এভাবে সকল জ্বালানী তেলে তিনি বেশী নিচ্ছে।

কালিগঞ্জের নেঙ্গী গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “ডিজেলের দাম কমেছে কিনা জানি না। তবে আমি প্রতি লিটার ১০৫ টাকায় ডিজেল কিনেছি।”

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো-এই অনিয়ম দেখার মতো কার্যকর তদারকি নেই। প্রশাসন কি জানে না, নাকি জানার পরও নীরব? ভ্রাম্যমাণ আদালত কোথায়? নজরদারি কোথায়? স্থানীয়দের প্রশ্ন-কালিগঞ্জের মানুষ বলেই কি তাদের কষ্টের কোনো মূল্য নেই?

নীরবতাই এখন সবচেয়ে বড় আশঙ্কা। কারণ নীরবতা মানেই প্রশ্রয়। আর প্রশ্রয় পেলে লুটেরা আরও বেপরোয়া হয়। আজ ৬ টাকা, কাল ১০ টাকা-তখন ঠেকাবে কে?

এ বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি শুনলাম, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এখন দেখার বিষয়-এই বক্তব্য কাগজে থাকবে, নাকি কালিগঞ্জের মানুষ অবশেষে বাস্তবে এর ফল পাবে।#