কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাঁশতলা বাজারে ‘ভিআইপি ইমরান ফ্যাশন’ নামের একটি কাপড়ের দোকানে গভীর রাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া ২৩ বস্তা মালামাল উদ্ধার করলেও মামলা দায়ের না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা বাজারে অবস্থিত ‘ভিআইপি ইমরান ফ্যাশন’-এর মালিক মো. ইমরান হোসেনের (২৩) সাথে পাওনা টাকা নিয়ে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হতো।
দোকানমালিকের লিখিত এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত লোহার রড, বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দোকানে প্রবেশ করে ইমরানকে মারধর শুরু করে। এ সময় তাকে রক্ষায় তার বাবা মো. শওকাত কারিকর, মা ফতেমা খাতুন ও মেজ চাচি শাহানারা খাতুন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁদের ওপরও চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধর করে। এজাহারে ইমরান হোসেন তাঁর মা ও মেজ চাচির ওপর শারীরিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এবং শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছেন।
এজাহারে আরও দাবি করা হয়, হামলাকারীরা দোকান থেকে দেশি-বিদেশি শাড়ি, শার্ট-প্যান্ট, সালোয়ার, লুঙ্গি, পাঞ্জাবি ও জুাতাসহ আনুমানিক ৮০ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া ক্যাশ ড্রয়ার থেকে নগদ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ইমরানের মায়ের গলার ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের এক ভরি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং দোকানের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়।
ঘটনার পরপরই বাঁশতলা বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রজব আলী বাবু পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং অভিযান চালিয়ে ২৩ বস্তা মালামাল উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মালামাল বর্তমানে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড়ের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় দোকানমালিক ইমরান হোসেন ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৬৫ জনকে অভিযুক্ত করে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—১. আলমগীর হোসেন (৪০), ২. মো. শাকিল হোসেন (২৮), ৩. মো. হামিদ গাজী (৬৫), ৪. মো. মোস্তফা (৪০), ৫. মো. সালাম সরদার (৪২), ৬. মো. নূর হোসেন মিলন (৪২), ৭. মো. মনিরুল ইসলাম (৪০), ৮. মো. মজনু (৫৫), ৯. মো. রাকিব (২২), ১০. মো. ইদ্রিস আলী (৫৫), ১১. মো. নজিবর (৪৬), ১২. হাসেম গাজী (৫৪), ১৩. মো. ইদ্রিস আলী (৬৫), ১৪. মো. মহিদুল (৩৮), ১৫. মো. ইয়াছিন (২২), ১৬. মো. নুর আলম (২২), ১৭. মো. রহিদ (২০), ১৮. মো. তামিম (২২), ১৯. মো. রাফিক (২২), ২০. মো. মুন্না (২১), ২১. মো. পারভেস (২৩), ২২. রসুল মোড়ল (৫৬) এবং ২৩. মো. কাইসেদ সরদার (৫২)।
হামলায় গুরুতর আহত ইমরানের বাবা, মা ও মেজ চাচিকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং ইমরান প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
রাতের পাহারাদার থাকা সত্ত্বেও জনবহুল বাজারে এমন নৃশংস ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে এবং পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিনিধির নাম 















