1. satkhiranews24@yahoo.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ১২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
ধলবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রচারণায় জিএম ফজলুল হক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি – উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা মানবতার টানে ২৪ বছর ধরে নিবেদিতপ্রাণ: মৌতলা ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখের কাণ্ডারি শেখ জাহাঙ্গীর আলম তবুও আশার আলোয় ভাসছে চাঁচাই বৃক্ষমেলা! নার্শারী মালিকরা ক্ষতির মুখে! ঝুলে আছে ফিতা কাটা উদ্বোধন কালিগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসি সভা অনুষ্ঠিত অর্জুন-দেব মুখোমুখি, লাবনীর ‘ডিভোর্স’, ৮ দিনের মাথায় সাতপাকে নতুন বর কালিগঞ্জে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবায় গ্রাহকদের আস্থা বাড়াচ্ছে ‘দৌড়’ কালিগঞ্জে সাংবাদিকের প্রতিষ্ঠানে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ৭ লাখ টাকার ক্ষতি; প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন শ্যামনগরে কদবেল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে কালিগঞ্জের ব্যবসায়ীর মৃত্যু ধলবাড়িয়ায় গাজী পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ফের চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন শওকাত হোসেন কালিগঞ্জে জুয়েলার্সের শাটার-লকার ভেঙে চুরি, স্বর্ণ-রুপা ও নগদ টাকা খোয়া

মাদ্রাসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: কালিগঞ্জে তোলপাড়, ২৬ ছাত্রীকে নিয়ে গেলেন অভিভাবকরা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৪:২২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ১১৫৪ বার পড়া হয়েছে
১২৩০

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে একটি মহিলা মাদ্রাসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্থানীয় অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত দুই দিনে ২৬ জন শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন আতঙ্কিত অভিভাবকরা। ঘটনাটি উপজেলার ধলবাড়িয়া হাটখোলা সংলগ্ন ‘ধলবাড়িয়া দারুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’-এর।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ৫১ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত এবং তাদের তত্ত্বাবধানে একজন মুহতামিম ও ৪ জন শিক্ষিকা (আলেমা) রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গভীর রাতে মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদ এক ছাত্রীকে নির্জনে ডেকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। ওই সময় আরও কয়েকজন ছাত্রী ঘটনাটি দেখে ফেললে মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি পুরো এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক আল মামুন, আবুল হোসেন, মনিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ও কাইয়ুমসহ অন্তত ২০-২৫ জন জানান, এই মাদ্রাসার আড়ালে অতীতেও বিভিন্ন সময় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুঞ্জন শোনা গেছে। সন্তানদের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত মুহতামিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়ভাবে বৈঠক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অন্তত ৩০ জন ছাত্রীকে তাদের অভিভাবকরা মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি এটিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে বলেন, “মাদ্রাসা-বিরোধী একটি চক্র আমার ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার জন্য মিথ্যা রটনা ছড়াচ্ছে।” তবে গত দুই দিনে ২৬ জন শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন এবং মাদ্রাসাটিকে টিকিয়ে রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

বর্তমানে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার স্থানীয় সচেতন মহল। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ধলবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রচারণায় জিএম ফজলুল হক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি – উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা

মাদ্রাসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: কালিগঞ্জে তোলপাড়, ২৬ ছাত্রীকে নিয়ে গেলেন অভিভাবকরা

আপডেট সময় : ১১:১৪:২২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬






১২৩০











কালিগঞ্জ প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে একটি মহিলা মাদ্রাসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্থানীয় অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত দুই দিনে ২৬ জন শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন আতঙ্কিত অভিভাবকরা। ঘটনাটি উপজেলার ধলবাড়িয়া হাটখোলা সংলগ্ন ‘ধলবাড়িয়া দারুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’-এর।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ৫১ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত এবং তাদের তত্ত্বাবধানে একজন মুহতামিম ও ৪ জন শিক্ষিকা (আলেমা) রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গভীর রাতে মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদ এক ছাত্রীকে নির্জনে ডেকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। ওই সময় আরও কয়েকজন ছাত্রী ঘটনাটি দেখে ফেললে মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি পুরো এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক আল মামুন, আবুল হোসেন, মনিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ও কাইয়ুমসহ অন্তত ২০-২৫ জন জানান, এই মাদ্রাসার আড়ালে অতীতেও বিভিন্ন সময় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুঞ্জন শোনা গেছে। সন্তানদের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত মুহতামিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়ভাবে বৈঠক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অন্তত ৩০ জন ছাত্রীকে তাদের অভিভাবকরা মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি এটিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে বলেন, “মাদ্রাসা-বিরোধী একটি চক্র আমার ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার জন্য মিথ্যা রটনা ছড়াচ্ছে।” তবে গত দুই দিনে ২৬ জন শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন এবং মাদ্রাসাটিকে টিকিয়ে রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

বর্তমানে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার স্থানীয় সচেতন মহল। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।