1. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে রথযাত্রা ঘিরে বিএনপির ‘কঠোর সতর্কতা’: নাশকতা রুখতে মাঠে থাকার নির্দেশ হাড়দ্দহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠিত কালিগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়: ফোন ধরেন না সাংবাদিকদের, ক্ষুব্ধ শিক্ষক-অভিভাবক সতেরো বছরের ছায়া : অনিয়মের উত্তরাধিকার ভাঙতে হলে জবাবদিহিই একমাত্র পথ কালিগঞ্জে সরকারি পুকুর সংলগ্ন ড্রেন সংস্কার কাজের উদ্বোধন, উপকৃত হবে ৪০০ পরিবার অবশেষে প্রত্যাহার কালিগঞ্জের সেই বিতর্কিত অধ্যক্ষ হুমায়ন কবীর: শিক্ষক বদলি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ? নাকি নতুন বানিজ্য! সম্পাদকীয়: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ও শিক্ষা খাতের সংকট কালিগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল হামলা মামলার আসামিসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার কালিগঞ্জ থানায় ককটেল বিষ্ফোরনে আহত শ্রমিক রফিকুলের পাশে দাঁড়ালেন ওসি শহিদুল ইসলাম ভদ্রখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, মোঃ জুলহক সরদার সভাপতি-সদস্য সচিব জেসমিন কাকুলী

মার্কিন-ইরান যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা: চীন কি হবে নতুন ‘গ্যারান্টর’?

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪০:২৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • ৭৬৫ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেক্স :

মধ্যপ্রাচ্যে মাসব্যাপী চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ থামাতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে তুলেছে পাকিস্তান। এরই ধারাবাহিকতায়, অসুস্থতা ও শারীরিক আঘাত উপেক্ষা করে জরুরি সফরে বেইজিং পৌঁছেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।

ইসলামাবাদে তুরস্ক, মিশর এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক চতুর্ভুজ (Quadrilateral) বৈঠকের পরপরই দারের এই চীন সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত ২৭ মার্চ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাথে ফোনালাপে পাকিস্তান ও চীন পাঁচটি মূল নীতির ভিত্তিতে কাজ করতে একমত হয়েছে। নীতিগুলো হলো অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, পুনরায় আলোচনা শুরু, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতিসংঘ সনদের অনুসরণ। বিশ্লেষকদের মতে, ইসহাক দারের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো চীনকে শুধু মৌখিক সমর্থনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আলোচনার টেবিলে একটি ‘শক্তিশালী পক্ষ’ হিসেবে হাজির করা।

সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও ইরান বিশেষজ্ঞ ভ্যালি নাসর-এর মতে, ইরান যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে শক্তিশালী কোনো দেশের পক্ষ থেকে ‘গ্যারান্টি’ বা নিশ্চয়তা চাইছে। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তান চীনকে সেই ‘গ্যারান্টর’ বা জামিনদার হিসেবে রাজি করানোর চেষ্টা করছে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, চীন সামরিক বা রাজনৈতিকভাবে এতটা ঝুঁকি নেবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।

চীনের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইরান থেকে। এছাড়া চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে যাতায়াত করে, যা বর্তমানে যুদ্ধবস্থায় চরম ঝুঁকির মুখে। ইরানে চীনের ২৫ বছর মেয়াদী কৌশলগত চুক্তির আওতায় প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই বিশাল বিনিয়োগ ভেস্তে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI) এবং ‘চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর’ (CPEC)-এর স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যেমন কূটনীতির কথা বলছেন, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকিও দিচ্ছেন। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠকই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে যে, পাকিস্তান-নেতৃত্বাধীন এই শান্তি প্রচেষ্টা সফল হবে কি না।

উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার কাঁধের চোট নিয়েও বেইজিংয়ে ওয়াং ই-র সাথে বৈঠকে বসেছেন। এখন দেখার বিষয়, চীন কি কেবল শান্তির বাণী শুনিয়েই ক্ষান্ত হবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং মার্কিন-ইরান সংকট নিরসনে সরাসরি কোনো বড় ভূমিকা পালন করবে।


ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে রথযাত্রা ঘিরে বিএনপির ‘কঠোর সতর্কতা’: নাশকতা রুখতে মাঠে থাকার নির্দেশ

মার্কিন-ইরান যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা: চীন কি হবে নতুন ‘গ্যারান্টর’?

আপডেট সময় : ০৯:৪০:২৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

নিউজ ডেক্স :

মধ্যপ্রাচ্যে মাসব্যাপী চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ থামাতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে তুলেছে পাকিস্তান। এরই ধারাবাহিকতায়, অসুস্থতা ও শারীরিক আঘাত উপেক্ষা করে জরুরি সফরে বেইজিং পৌঁছেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।

ইসলামাবাদে তুরস্ক, মিশর এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক চতুর্ভুজ (Quadrilateral) বৈঠকের পরপরই দারের এই চীন সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত ২৭ মার্চ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাথে ফোনালাপে পাকিস্তান ও চীন পাঁচটি মূল নীতির ভিত্তিতে কাজ করতে একমত হয়েছে। নীতিগুলো হলো অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, পুনরায় আলোচনা শুরু, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতিসংঘ সনদের অনুসরণ। বিশ্লেষকদের মতে, ইসহাক দারের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো চীনকে শুধু মৌখিক সমর্থনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আলোচনার টেবিলে একটি ‘শক্তিশালী পক্ষ’ হিসেবে হাজির করা।

সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও ইরান বিশেষজ্ঞ ভ্যালি নাসর-এর মতে, ইরান যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে শক্তিশালী কোনো দেশের পক্ষ থেকে ‘গ্যারান্টি’ বা নিশ্চয়তা চাইছে। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তান চীনকে সেই ‘গ্যারান্টর’ বা জামিনদার হিসেবে রাজি করানোর চেষ্টা করছে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, চীন সামরিক বা রাজনৈতিকভাবে এতটা ঝুঁকি নেবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।

চীনের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইরান থেকে। এছাড়া চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে যাতায়াত করে, যা বর্তমানে যুদ্ধবস্থায় চরম ঝুঁকির মুখে। ইরানে চীনের ২৫ বছর মেয়াদী কৌশলগত চুক্তির আওতায় প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই বিশাল বিনিয়োগ ভেস্তে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI) এবং ‘চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর’ (CPEC)-এর স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যেমন কূটনীতির কথা বলছেন, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকিও দিচ্ছেন। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠকই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে যে, পাকিস্তান-নেতৃত্বাধীন এই শান্তি প্রচেষ্টা সফল হবে কি না।

উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার কাঁধের চোট নিয়েও বেইজিংয়ে ওয়াং ই-র সাথে বৈঠকে বসেছেন। এখন দেখার বিষয়, চীন কি কেবল শান্তির বাণী শুনিয়েই ক্ষান্ত হবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং মার্কিন-ইরান সংকট নিরসনে সরাসরি কোনো বড় ভূমিকা পালন করবে।