1. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়: ফোন ধরেন না সাংবাদিকদের, ক্ষুব্ধ শিক্ষক-অভিভাবক সতেরো বছরের ছায়া : অনিয়মের উত্তরাধিকার ভাঙতে হলে জবাবদিহিই একমাত্র পথ কালিগঞ্জে সরকারি পুকুর সংলগ্ন ড্রেন সংস্কার কাজের উদ্বোধন, উপকৃত হবে ৪০০ পরিবার অবশেষে প্রত্যাহার কালিগঞ্জের সেই বিতর্কিত অধ্যক্ষ হুমায়ন কবীর: শিক্ষক বদলি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ? নাকি নতুন বানিজ্য! সম্পাদকীয়: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ও শিক্ষা খাতের সংকট কালিগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল হামলা মামলার আসামিসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার কালিগঞ্জ থানায় ককটেল বিষ্ফোরনে আহত শ্রমিক রফিকুলের পাশে দাঁড়ালেন ওসি শহিদুল ইসলাম ভদ্রখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, মোঃ জুলহক সরদার সভাপতি-সদস্য সচিব জেসমিন কাকুলী কালিগঞ্জে ৩৫০ পরিবারের জলাবদ্ধতা নিরসনে নাজমুল হোসেনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ: এলাকাবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী কালিগঞ্জে গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন : হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সভাপতি নির্বাচিত মোঃ শহিদুল ইসলাম

কালিগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়: ফোন ধরেন না সাংবাদিকদের, ক্ষুব্ধ শিক্ষক-অভিভাবক

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৮:১৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ১২৮ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইশারাত আলী :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কার্যক্রমকে ঘিরে নানা অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে গড়িমসির কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলীপ কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ফোন রিসিভ না করে তথ্যপ্রাপ্তি ব্যাহত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন অনুসন্ধান ও একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠন, বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত, দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং শিক্ষা-সংক্রান্ত নানা বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন উঠছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দিলীপ কুমার বিশ্বাসের কাছ থেকে এসব বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা বক্তব্য পাওয়া যায় না।

স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য প্রদান এবং গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেওয়া তাঁর আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার যোগাযোগ করা হলেও অধিকাংশ সময় তিনি ফোন রিসিভ করেন না কিংবা মন্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। এতে সরকারি সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমে স্বেচ্ছাচারিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জানা গেছে, বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ‘দৈনিক দে‌শের কন্ঠ, দৈ‌নিক রানার, দৈ‌নিক ইন‌কিলাব’ সহ স্থানীয় একঝাঁক গণমাধ্যমকর্মী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাঁর ফোন না ধরার কারণ জানতে চান। এ সময় সাংবাদিকদের অতর্কিত প্রশ্নের মুখে পড়ে দায় এড়াতে তিনি বিভিন্ন ধরণের অসংলগ্ন ও হাস্যকর অজুহাত দেখান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি কখনো দাবি করেন— তিনি ওয়াশরুমে ছিলেন, কখনো লাঞ্চে ছিলেন, কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “ফোন আমার কাছে সবসময় থাকে না। তাছাড়া সেভ করা নম্বর ছাড়া সাধারণত আমি অপরিচিত কোনো নম্বর থেকে ফোন রিসিভ করি না।”
প্রজাতন্ত্রের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর এমন আচরণে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে শিক্ষা অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন মূল অভিযোগ ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং দাবি করেন, “বিষয়টি আসলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়, কাকতালীয়ভাবে ঘটে গেছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু সংবাদকর্মীরাই নন, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষকরাও জরুরি প্রয়োজনে এই কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও কমিটি গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত ও নিষ্পত্তি না করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। সঠিক তদারকির অভাব এবং দায়িত্ব অবহেলার কারণে ইতিমধ্যে তিনি স্থানীয় অভিভাবক এবং শিক্ষকদের বিরাগভাজনে পরিণত হয়েছেন।
এ অবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কার্যক্রমে অধিকতর জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়: ফোন ধরেন না সাংবাদিকদের, ক্ষুব্ধ শিক্ষক-অভিভাবক

কালিগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়: ফোন ধরেন না সাংবাদিকদের, ক্ষুব্ধ শিক্ষক-অভিভাবক

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:১৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কার্যক্রমকে ঘিরে নানা অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে গড়িমসির কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলীপ কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ফোন রিসিভ না করে তথ্যপ্রাপ্তি ব্যাহত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন অনুসন্ধান ও একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠন, বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত, দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং শিক্ষা-সংক্রান্ত নানা বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন উঠছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দিলীপ কুমার বিশ্বাসের কাছ থেকে এসব বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা বক্তব্য পাওয়া যায় না।

স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য প্রদান এবং গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেওয়া তাঁর আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার যোগাযোগ করা হলেও অধিকাংশ সময় তিনি ফোন রিসিভ করেন না কিংবা মন্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। এতে সরকারি সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমে স্বেচ্ছাচারিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জানা গেছে, বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ‘দৈনিক দে‌শের কন্ঠ, দৈ‌নিক রানার, দৈ‌নিক ইন‌কিলাব’ সহ স্থানীয় একঝাঁক গণমাধ্যমকর্মী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাঁর ফোন না ধরার কারণ জানতে চান। এ সময় সাংবাদিকদের অতর্কিত প্রশ্নের মুখে পড়ে দায় এড়াতে তিনি বিভিন্ন ধরণের অসংলগ্ন ও হাস্যকর অজুহাত দেখান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি কখনো দাবি করেন— তিনি ওয়াশরুমে ছিলেন, কখনো লাঞ্চে ছিলেন, কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “ফোন আমার কাছে সবসময় থাকে না। তাছাড়া সেভ করা নম্বর ছাড়া সাধারণত আমি অপরিচিত কোনো নম্বর থেকে ফোন রিসিভ করি না।”
প্রজাতন্ত্রের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর এমন আচরণে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে শিক্ষা অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন মূল অভিযোগ ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং দাবি করেন, “বিষয়টি আসলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়, কাকতালীয়ভাবে ঘটে গেছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু সংবাদকর্মীরাই নন, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষকরাও জরুরি প্রয়োজনে এই কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও কমিটি গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত ও নিষ্পত্তি না করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। সঠিক তদারকির অভাব এবং দায়িত্ব অবহেলার কারণে ইতিমধ্যে তিনি স্থানীয় অভিভাবক এবং শিক্ষকদের বিরাগভাজনে পরিণত হয়েছেন।
এ অবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কার্যক্রমে অধিকতর জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।