1. satkhiranews24@yahoo.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
ধলবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রচারণায় জিএম ফজলুল হক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি – উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা মানবতার টানে ২৪ বছর ধরে নিবেদিতপ্রাণ: মৌতলা ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখের কাণ্ডারি শেখ জাহাঙ্গীর আলম তবুও আশার আলোয় ভাসছে চাঁচাই বৃক্ষমেলা! নার্শারী মালিকরা ক্ষতির মুখে! ঝুলে আছে ফিতা কাটা উদ্বোধন কালিগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসি সভা অনুষ্ঠিত অর্জুন-দেব মুখোমুখি, লাবনীর ‘ডিভোর্স’, ৮ দিনের মাথায় সাতপাকে নতুন বর কালিগঞ্জে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবায় গ্রাহকদের আস্থা বাড়াচ্ছে ‘দৌড়’ কালিগঞ্জে সাংবাদিকের প্রতিষ্ঠানে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ৭ লাখ টাকার ক্ষতি; প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন শ্যামনগরে কদবেল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে কালিগঞ্জের ব্যবসায়ীর মৃত্যু ধলবাড়িয়ায় গাজী পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ফের চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন শওকাত হোসেন কালিগঞ্জে জুয়েলার্সের শাটার-লকার ভেঙে চুরি, স্বর্ণ-রুপা ও নগদ টাকা খোয়া

যুদ্ধের দাবদাহ ও কালিগঞ্জের জনজীবন-আর কতকাল এই নাভিশ্বাস?

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২৯:১৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • ১৩৪৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইশারাত আলী :

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোনের গর্জনে প্রকম্পিত, তখন তার উত্তাপ সুদূর সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের সাধারণ মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। বৈশ্বিক রাজনীতির মারপ্যাঁচে ‘জ্বালানি যুদ্ধ’ আজ আর কোনো তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন অস্তিত্বের সংকটে পরিণত হয়েছে।

ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের ব্যারেল যখন ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, তখন তার সরাসরি আঘাত এসে পড়ে আমাদের পাম্পগুলোতে। কালিগঞ্জের মোড়ে মোড়ে এখন তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন। ডিজেলের কৃত্রিম সংকট আর আকাশচুম্বী দামের কারণে ইরি-বোরো মৌসুমের এই ভরা সময়ে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। সেচ পাম্পগুলো যখন জ্বালানির অভাবে স্তব্ধ হয়ে পড়ে, তখন কেবল একটি ফসল নয়, বরং আগামী বছরের খাদ্য নিরাপত্তার ওপরই কুঠারাঘাত করা হয়।

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠছে আমাদের স্থানীয় পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থায়। জ্বালানি সংকটের অজুহাতে পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া এক লাফে দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে কালিগঞ্জ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ড্রোন হামলার সাথে এদেশের আলুর দাম বা ডালের দামের সম্পর্ক কী-তা সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে বলা কঠিন। কিন্তু নিষ্ঠুর সত্য হলো, বৈশ্বিক এই দাবার চালে সাধারণ মানুষই আজ কিস্তি মাত হওয়ার পথে।

বিদ্যুতের অবস্থাও তথৈবচ। জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের অভাবে যে লোডশেডিং শুরু হয়েছে, তার প্রভাব প্রান্তিক এই জনপদে অনেক বেশি প্রকট। সন্ধ্যার পর কালিগঞ্জের বাজারগুলো যখন অন্ধকারে ডুবে থাকে, তখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাহাকার আর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাঘাত আমাদের উন্নয়নের রঙিন স্বপ্নকে ফিকে করে দেয়।

কালিগঞ্জসহ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের জন্য সেচ মৌসুমে ডিজেলের বিশেষ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরাসরি কৃষকের কাছে জ্বালানি পৌঁছাতে হবে।

জ্বালানির দোহাই দিয়ে যে সিন্ডিকেট বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর অভিযান প্রয়োজন।

আমাদের আর কতদিন মধ্যপ্রাচ্যের খামখেয়ালিপনার ওপর নির্ভর করতে হবে? এখন সময় এসেছে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য শক্তির (সোলার সেচ পাম্প ইত্যাদি) দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ধলবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রচারণায় জিএম ফজলুল হক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি – উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা

যুদ্ধের দাবদাহ ও কালিগঞ্জের জনজীবন-আর কতকাল এই নাভিশ্বাস?

আপডেট সময় : ০৭:২৯:১৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী :

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোনের গর্জনে প্রকম্পিত, তখন তার উত্তাপ সুদূর সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের সাধারণ মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। বৈশ্বিক রাজনীতির মারপ্যাঁচে ‘জ্বালানি যুদ্ধ’ আজ আর কোনো তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন অস্তিত্বের সংকটে পরিণত হয়েছে।

ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের ব্যারেল যখন ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, তখন তার সরাসরি আঘাত এসে পড়ে আমাদের পাম্পগুলোতে। কালিগঞ্জের মোড়ে মোড়ে এখন তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন। ডিজেলের কৃত্রিম সংকট আর আকাশচুম্বী দামের কারণে ইরি-বোরো মৌসুমের এই ভরা সময়ে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। সেচ পাম্পগুলো যখন জ্বালানির অভাবে স্তব্ধ হয়ে পড়ে, তখন কেবল একটি ফসল নয়, বরং আগামী বছরের খাদ্য নিরাপত্তার ওপরই কুঠারাঘাত করা হয়।

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠছে আমাদের স্থানীয় পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থায়। জ্বালানি সংকটের অজুহাতে পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া এক লাফে দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে কালিগঞ্জ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ড্রোন হামলার সাথে এদেশের আলুর দাম বা ডালের দামের সম্পর্ক কী-তা সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে বলা কঠিন। কিন্তু নিষ্ঠুর সত্য হলো, বৈশ্বিক এই দাবার চালে সাধারণ মানুষই আজ কিস্তি মাত হওয়ার পথে।

বিদ্যুতের অবস্থাও তথৈবচ। জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের অভাবে যে লোডশেডিং শুরু হয়েছে, তার প্রভাব প্রান্তিক এই জনপদে অনেক বেশি প্রকট। সন্ধ্যার পর কালিগঞ্জের বাজারগুলো যখন অন্ধকারে ডুবে থাকে, তখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাহাকার আর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাঘাত আমাদের উন্নয়নের রঙিন স্বপ্নকে ফিকে করে দেয়।

কালিগঞ্জসহ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের জন্য সেচ মৌসুমে ডিজেলের বিশেষ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরাসরি কৃষকের কাছে জ্বালানি পৌঁছাতে হবে।

জ্বালানির দোহাই দিয়ে যে সিন্ডিকেট বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর অভিযান প্রয়োজন।

আমাদের আর কতদিন মধ্যপ্রাচ্যের খামখেয়ালিপনার ওপর নির্ভর করতে হবে? এখন সময় এসেছে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য শক্তির (সোলার সেচ পাম্প ইত্যাদি) দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার।