পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির দক্ষতা অর্জন, কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বিতার নতুন সম্ভাবনা
মোঃ ইশারাত আলী :
পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণ করে এবার উৎপাদনে নামছে কালিগঞ্জের একটি উদ্যোগ। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘সুবর্ণ গ্রিন গার্মেন্টস’ ও পাটজাত পণ্য উৎপাদন প্রকল্প। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্মকর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
সুবর্ণ নাগরিক উন্নয়ন সংস্থার (SNUS) উদ্যোগে এবং International Centre for Climate Change and Development (ICCCAD)-এর সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সুইডেন সরকারের সহায়তায় পরিচালিত এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য উপকূলীয় এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত SNUS-এর নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পণ্যের নকশা তৈরি এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করে আকর্ষণীয় ও বাজারোপযোগী পণ্য তৈরির বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার অংশ হিসেবে ‘সুবর্ণ গ্রিন গার্মেন্টস’ ও পাটজাত পণ্য উৎপাদন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

‘স্বাবলম্বী ভবিষ্যতের পথে আমাদের নতুন যাত্রা’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাকিল আহমেদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অর্ণা চক্রবর্তী এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ মো. নাজমুল হক, সাংবাদিক ইশারাত আলী, সুবর্ণ নাগরিক উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ রেজা, গ্রিন গার্মেন্টস’এর কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন ।
আয়োজকরা জানান, নতুন এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে অংশগ্রহণকারীরা আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
অতিথিরা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থাকেও উৎসাহিত করবে।
আয়োজকদের আশা, প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবেন।

প্রতিনিধির নাম 









