1. tusu0x1@gmail.com : :
  2. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে ঠেকরায় চলাচলের পথ কেটে মাটি পুকু‌রে ফেলার অভিযোগ। কালিগঞ্জ রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শ.ম মমতাজুর রহমানের ইন্তেকাল কালিগঞ্জে নবাগত ওসির সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় : মাদক-সন্ত্রাস ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা কালিগঞ্জের রেবতী সরকারের তাজা প্রাণ ঝরে গেল কোলকাতার অগ্নিকাণ্ডে কালিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রফুর মৃত্যু কলকাতায় হোটেলে আগুনে দগ্ধ হয়ে কালিগঞ্জের সাবেক আওয়ামী নেতা আলিমুজ্জামানের মৃত্যু- রেবতী সরকারের ঠিকানা পাওয়া যায়নি জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে সাতক্ষীরা পৌরসভাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে কালিগঞ্জ ‘খরচ বাড়ে, ভাড়া কমে’-কালিগঞ্জে ডেকোরেটর ব্যবসায় টিকে থাকার লড়াই, ‘ঐক্যবদ্ধ না হলে ডেকোরেটর ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন’-হেদায়েতুল ইসলাম কালিগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন কালিগঞ্জে বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল নিক্ষেপ: আহত ১, অবিস্ফোরিত দুটি বোমা উদ্ধার

কালিগঞ্জে বেওয়ারিশ ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার, নাজিমগঞ্জ-শ্যামনগর রুটে ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেট’?

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:১৪ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • ৮৫৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইশারাত আলী:

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় বেওয়ারিশ অবস্থায় ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধারের ঘটনায় কেবল একটি অভিযানের খবর নয়-বরং উঠে এসেছে একটি সম্ভাব্য অবৈধ সার সরবরাহ চক্রের অস্তিত্বের প্রশ্ন। বৈধ কাগজপত্রহীন সার, অজ্ঞাত ক্রেতা-বিক্রেতা এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এই ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার ওয়াসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে কালিগঞ্জ-শ্যামনগর সড়কের রতনপুর বাজার এলাকা থেকে ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়। সারগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকলেও আশ্চর্যের বিষয়-এত বড় চালানের কোনো মালিক সামনে আসেনি।

উদ্ধারকৃত সারগুলোর সঙ্গে কোনো বৈধ মেমো পাওয়া যায়নি। এমনকি সার ক্রেতার নাম-ঠিকানা বা পরিবহনের বৈধ কাগজপত্রও অনুপস্থিত। ফলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার।

তবে প্রশ্ন উঠছে-৩০ বস্তা ইউরিয়া সার কি হঠাৎ আকাশ থেকে পড়ে গেল? যদি চোরাই না হয়, তাহলে সারটি কার? আর যদি বৈধ হয়, তবে মেমো ও মালিকানা গোপন কেন?

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নাজিমগঞ্জ বাজার থেকে সারগুলো কেনা হয়েছিল। অভিযানের খবর পেয়ে বিপদের আঁচ পেয়ে সার ক্রেতা পালিয়ে যায়। এই তথ্য সত্য হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে-নাজিমগঞ্জ বাজারের কোন সার ডিলার বা ব্যবসায়ী এই অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত?

রতনপুর বাজারের মাতৃভাণ্ডার দোকানের মালিক সুকুমার খাঁ ও পলাশ খাঁ দাবি করেন, তাদের দোকান থেকে ৪০ বস্তা সার খড়মি গ্রামের মজিদ নামে এক ব্যক্তি কিনেছেন। ইউরিয়া সার আমাদের নয়। তবে তার এই সার লেনদেনের বিষয়টি ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউরিয়া সারটি নাজিমগঞ্জের এক সার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এসেছে। তবে সেই ব্যবসায়ীর নাম বা পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি-যা অনুসন্ধানকে আরও জটিল করে তুলেছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে সার পরিবহনের সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে আলাদা মেমো দেখানো হয়। ফলে একই সার বারবার কাগজ বদলে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে। এই পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি তাদের।

উদ্ধারকৃত ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসে সংরক্ষিত আছে। তবে এখনো খতিয়ে দেখা হয়নি-এই সার কোনো সরকারি ডিলারের গোডাউন থেকে কম-বেশি হয়েছে কি না, সরকারি বরাদ্দের সঙ্গে বাস্তব মজুদের কোনো অমিল আছে কি না।

প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে সারটি কোন ডিলারের কাছ থেকে এসেছে? নাজিমগঞ্জ-রতনপুর রুটে কি একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয়? কৃষি অফিস ও সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোর নজরদারিতে ঘাটতি আছে কি? কে দেবে তার উত্তর? কে বলবে সার পাচার হয়ে ভারতে যাচ্ছে কিনা? মেমো দেখিয়ে বৈধতার চেষ্টা?

স্থানীয়দের জোর দাবি, নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্ত ছাড়া এই রহস্য উদঘাটন সম্ভব নয়। দ্রুত তদন্ত না হলে অবৈধ সার বাণিজ্য আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে-এমন আশঙ্কাই এখন কালিগঞ্জবাসীর।

 

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে ঠেকরায় চলাচলের পথ কেটে মাটি পুকু‌রে ফেলার অভিযোগ।

কালিগঞ্জে বেওয়ারিশ ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার, নাজিমগঞ্জ-শ্যামনগর রুটে ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেট’?

আপডেট সময় : ০৯:০৮:১৪ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী:

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় বেওয়ারিশ অবস্থায় ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধারের ঘটনায় কেবল একটি অভিযানের খবর নয়-বরং উঠে এসেছে একটি সম্ভাব্য অবৈধ সার সরবরাহ চক্রের অস্তিত্বের প্রশ্ন। বৈধ কাগজপত্রহীন সার, অজ্ঞাত ক্রেতা-বিক্রেতা এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এই ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার ওয়াসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে কালিগঞ্জ-শ্যামনগর সড়কের রতনপুর বাজার এলাকা থেকে ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়। সারগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকলেও আশ্চর্যের বিষয়-এত বড় চালানের কোনো মালিক সামনে আসেনি।

উদ্ধারকৃত সারগুলোর সঙ্গে কোনো বৈধ মেমো পাওয়া যায়নি। এমনকি সার ক্রেতার নাম-ঠিকানা বা পরিবহনের বৈধ কাগজপত্রও অনুপস্থিত। ফলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার।

তবে প্রশ্ন উঠছে-৩০ বস্তা ইউরিয়া সার কি হঠাৎ আকাশ থেকে পড়ে গেল? যদি চোরাই না হয়, তাহলে সারটি কার? আর যদি বৈধ হয়, তবে মেমো ও মালিকানা গোপন কেন?

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নাজিমগঞ্জ বাজার থেকে সারগুলো কেনা হয়েছিল। অভিযানের খবর পেয়ে বিপদের আঁচ পেয়ে সার ক্রেতা পালিয়ে যায়। এই তথ্য সত্য হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে-নাজিমগঞ্জ বাজারের কোন সার ডিলার বা ব্যবসায়ী এই অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত?

রতনপুর বাজারের মাতৃভাণ্ডার দোকানের মালিক সুকুমার খাঁ ও পলাশ খাঁ দাবি করেন, তাদের দোকান থেকে ৪০ বস্তা সার খড়মি গ্রামের মজিদ নামে এক ব্যক্তি কিনেছেন। ইউরিয়া সার আমাদের নয়। তবে তার এই সার লেনদেনের বিষয়টি ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউরিয়া সারটি নাজিমগঞ্জের এক সার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এসেছে। তবে সেই ব্যবসায়ীর নাম বা পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি-যা অনুসন্ধানকে আরও জটিল করে তুলেছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে সার পরিবহনের সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে আলাদা মেমো দেখানো হয়। ফলে একই সার বারবার কাগজ বদলে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে। এই পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি তাদের।

উদ্ধারকৃত ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসে সংরক্ষিত আছে। তবে এখনো খতিয়ে দেখা হয়নি-এই সার কোনো সরকারি ডিলারের গোডাউন থেকে কম-বেশি হয়েছে কি না, সরকারি বরাদ্দের সঙ্গে বাস্তব মজুদের কোনো অমিল আছে কি না।

প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে সারটি কোন ডিলারের কাছ থেকে এসেছে? নাজিমগঞ্জ-রতনপুর রুটে কি একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয়? কৃষি অফিস ও সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোর নজরদারিতে ঘাটতি আছে কি? কে দেবে তার উত্তর? কে বলবে সার পাচার হয়ে ভারতে যাচ্ছে কিনা? মেমো দেখিয়ে বৈধতার চেষ্টা?

স্থানীয়দের জোর দাবি, নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্ত ছাড়া এই রহস্য উদঘাটন সম্ভব নয়। দ্রুত তদন্ত না হলে অবৈধ সার বাণিজ্য আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে-এমন আশঙ্কাই এখন কালিগঞ্জবাসীর।