মোঃ ইশারাত আলী:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে পূর্বনির্ধারিত পৃথক কর্মসূচি পালন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বর এবং থানার আশপাশের এলাকায় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়। বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি এবং উপজেলা কৃষকদলের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি বিক্ষোভ কর্মসূচি আহ্বান করা হয়। একই দিন ও সময়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কালিগঞ্জ উপজেলাজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়।
অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এড়াতে দুপক্ষকে আলাদা রুট ও নির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণ করে দেয় পুলিশ প্রশাসন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকনের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত এবং প্রতিপক্ষ কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ হাসানুর রহমান ও শেখ নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে ফুলতলা থেকে বিএনপি অফিস পর্যন্ত কর্মসূচি পালনের কথা ছিল।
নির্ধারিত কর্মসূচি চলাকালে কৃষকদলের মিছিলে বাধা দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়। বিকেল ৫টার দিকে কৃষকদলের নেতাকর্মীরা থানার সামনে এসে বিক্ষোভ দেখানোর একপর্যায়ে সামনের দিকে অগ্রসর হন।
ঠিক একই সময়ে প্রতিপক্ষের মিছিলটি উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে সোহরাওয়ার্দী মাঠ সংলগ্ন প্রধান সড়কে এসে পৌঁছালে উভয় গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। মুহূর্তেই উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী জখম হন। আহতদের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকন অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মসূচিতে প্রতিপক্ষ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে রতনপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের নেতা আবুল কালাম সবুজ, আরিফুর রহমান ছোটন এবং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের রমিজ উদ্দীনসহ অন্তত ৪৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের হাত ভেঙে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ হাসানুর রহমান দাবি করেন, তারা জেলা বিএনপির নির্দেশনা মেনে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। বিপরীতে রোকনুজ্জামানের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে আল ইমরান হোসেন, বিপুল হোসেন ও আজমির হোসেনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আল ইমরানকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান শেখ এবাদুল ইসলাম জানান, কৃষকদলকে মূল দলের ব্যানারে যৌথ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হলেও তা মানা হয়নি। এছাড়া সকালে আলোচনা চলাকালে রোকনুজ্জামান সমর্থিতদের হাতে স্থানীয় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনি মারধরের শিকার হন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অপরদিকে সাবেক সদস্য সচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু এটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অতর্কিত হামলা পালটা হামলার ঘটনায় কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষকদলের বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষকদলের আহবায়ক সালাউদ্দীন লিটন, এর চাইতে দু”খজনক ঘটনা আর কিছু হতে পারেনা। এর সমোচিত জবাব প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা দেব। সাথে সাথে সাংগঠনিক ভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালিগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ঘোষ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।
প্রতিনিধির নাম 









