1. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে রথযাত্রা ঘিরে বিএনপির ‘কঠোর সতর্কতা’: নাশকতা রুখতে মাঠে থাকার নির্দেশ হাড়দ্দহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠিত কালিগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়: ফোন ধরেন না সাংবাদিকদের, ক্ষুব্ধ শিক্ষক-অভিভাবক সতেরো বছরের ছায়া : অনিয়মের উত্তরাধিকার ভাঙতে হলে জবাবদিহিই একমাত্র পথ কালিগঞ্জে সরকারি পুকুর সংলগ্ন ড্রেন সংস্কার কাজের উদ্বোধন, উপকৃত হবে ৪০০ পরিবার অবশেষে প্রত্যাহার কালিগঞ্জের সেই বিতর্কিত অধ্যক্ষ হুমায়ন কবীর: শিক্ষক বদলি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ? নাকি নতুন বানিজ্য! সম্পাদকীয়: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ও শিক্ষা খাতের সংকট কালিগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল হামলা মামলার আসামিসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার কালিগঞ্জ থানায় ককটেল বিষ্ফোরনে আহত শ্রমিক রফিকুলের পাশে দাঁড়ালেন ওসি শহিদুল ইসলাম ভদ্রখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, মোঃ জুলহক সরদার সভাপতি-সদস্য সচিব জেসমিন কাকুলী

কালিগঞ্জে জ্বালানি সংকটে বিপাকে সাংবাদিকরা : পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, ব্যাহত হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৪৯ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ৬৭১ বার পড়া হয়েছে

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে সাংবাদিকদের ওপর। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ এবং সরেজমিনে তদন্তের জন্য যখন নিয়মিত যাতায়াত প্রয়োজন, তখন তেলের তীব্র অভাব সাংবাদিকদের জন্য এক বিশাল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তেল না পাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কালিগঞ্জের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার চলছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংবাদকর্মীরাও মোটরসাইকেল নিয়ে দীর্ঘ ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। অভিযোগ উঠেছে, কিছু পাম্প কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে সাংবাদিকদের জন্য আলাদা কোনো অগ্রাধিকার বা বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে না। পেশাগত পরিচয়পত্র দেখানোর পরও অনেক ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে সংবাদকর্মীদের।

পাম্প কর্তৃপক্ষের এমন অবস্থানের ফলে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের খবর এবং জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জরুরি কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় তেলের অভাবে ভাড়া করা যানবাহনে যাতায়াত করতে গিয়ে যাতায়াত খরচও তিনগুণ বেড়ে গেছে, যা ব্যক্তিগত বাজেটে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

সাংবাদিক ইশারাত আলী বলেন “সাংবাদিকতা একটি জরুরি সেবা। যখন কোনো অগ্নিকাণ্ড, চুরি বা জনদুর্ভোগের ঘটনা ঘটে, তখন সাংবাদিককে সবার আগে সেখানে পৌঁছাতে হয়। কিন্তু তেলের পাম্পে ৬-৭ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের পেশাগত মর্যাদার জন্য চরম অপমানজনক। পাম্প কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের জন্য কোনো অগ্রাধিকার না রাখায় আমরা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারছি না। এটি প্রকারান্তরে সত্য গোপন করার একটি পায়তারা। আমরা অবিলম্বে সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ কোটা বা আলাদা লাইনের দাবি জানাচ্ছি।”

ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী কালিগঞ্জ উপজেলা সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি হাফিজুর রহমান শিমুল বলেন সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন কাজে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের জন্য ছুটে বেড়ায়। যাতায়াতের ক্ষেত্রে আমাদের একমাত্র মাধ্যম মটর বাইক। আমাদের পক্ষে পেট্রোল পাম্পে গিয়ে ৬/৭ ঘন্টা দাঁড়িয়ে পেট্রোল নেওয়া সম্ভব নয়। আমি আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করেছি।

এসময় কালিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মঈনুল ইসলাম খান বলেন “জ্বালানি সংকট একটি বৈশ্বিক ও জাতীয় সমস্যা। তবে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব আমরা অনুধাবন করি। পাম্পগুলোতে সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আমরা স্থানীয় পাম্প মালিক সমিতির সাথে কথা বলব। জরুরি সেবার আওতায় তারা যেন দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকতা একটি জরুরি পরিষেবা। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের যাতায়াতে অগ্রাধিকার দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাম্প কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতা প্রকারান্তরে সাধারণ মানুষের তথ্য পাওয়ার অধিকারকেই সংকুচিত করছে।

কালীগঞ্জের কর্মরত সাংবাদিকরা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, পরিচয়পত্র প্রদর্শনের সাপেক্ষে প্রতিটি পাম্পে সাংবাদিকদের জন্য সীমিত আকারে হলেও দ্রুত তেল সংগ্রহের একটি বিশেষ বুথ বা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায়, মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকতা পুরোপুরি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে রথযাত্রা ঘিরে বিএনপির ‘কঠোর সতর্কতা’: নাশকতা রুখতে মাঠে থাকার নির্দেশ

কালিগঞ্জে জ্বালানি সংকটে বিপাকে সাংবাদিকরা : পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, ব্যাহত হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৪৯ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে সাংবাদিকদের ওপর। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ এবং সরেজমিনে তদন্তের জন্য যখন নিয়মিত যাতায়াত প্রয়োজন, তখন তেলের তীব্র অভাব সাংবাদিকদের জন্য এক বিশাল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তেল না পাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কালিগঞ্জের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার চলছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংবাদকর্মীরাও মোটরসাইকেল নিয়ে দীর্ঘ ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। অভিযোগ উঠেছে, কিছু পাম্প কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে সাংবাদিকদের জন্য আলাদা কোনো অগ্রাধিকার বা বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে না। পেশাগত পরিচয়পত্র দেখানোর পরও অনেক ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে সংবাদকর্মীদের।

পাম্প কর্তৃপক্ষের এমন অবস্থানের ফলে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের খবর এবং জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জরুরি কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় তেলের অভাবে ভাড়া করা যানবাহনে যাতায়াত করতে গিয়ে যাতায়াত খরচও তিনগুণ বেড়ে গেছে, যা ব্যক্তিগত বাজেটে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

সাংবাদিক ইশারাত আলী বলেন “সাংবাদিকতা একটি জরুরি সেবা। যখন কোনো অগ্নিকাণ্ড, চুরি বা জনদুর্ভোগের ঘটনা ঘটে, তখন সাংবাদিককে সবার আগে সেখানে পৌঁছাতে হয়। কিন্তু তেলের পাম্পে ৬-৭ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের পেশাগত মর্যাদার জন্য চরম অপমানজনক। পাম্প কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের জন্য কোনো অগ্রাধিকার না রাখায় আমরা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারছি না। এটি প্রকারান্তরে সত্য গোপন করার একটি পায়তারা। আমরা অবিলম্বে সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ কোটা বা আলাদা লাইনের দাবি জানাচ্ছি।”

ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী কালিগঞ্জ উপজেলা সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি হাফিজুর রহমান শিমুল বলেন সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন কাজে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের জন্য ছুটে বেড়ায়। যাতায়াতের ক্ষেত্রে আমাদের একমাত্র মাধ্যম মটর বাইক। আমাদের পক্ষে পেট্রোল পাম্পে গিয়ে ৬/৭ ঘন্টা দাঁড়িয়ে পেট্রোল নেওয়া সম্ভব নয়। আমি আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করেছি।

এসময় কালিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মঈনুল ইসলাম খান বলেন “জ্বালানি সংকট একটি বৈশ্বিক ও জাতীয় সমস্যা। তবে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব আমরা অনুধাবন করি। পাম্পগুলোতে সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আমরা স্থানীয় পাম্প মালিক সমিতির সাথে কথা বলব। জরুরি সেবার আওতায় তারা যেন দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকতা একটি জরুরি পরিষেবা। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের যাতায়াতে অগ্রাধিকার দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাম্প কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতা প্রকারান্তরে সাধারণ মানুষের তথ্য পাওয়ার অধিকারকেই সংকুচিত করছে।

কালীগঞ্জের কর্মরত সাংবাদিকরা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, পরিচয়পত্র প্রদর্শনের সাপেক্ষে প্রতিটি পাম্পে সাংবাদিকদের জন্য সীমিত আকারে হলেও দ্রুত তেল সংগ্রহের একটি বিশেষ বুথ বা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায়, মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকতা পুরোপুরি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।