1. satnews24@satkhiranews24.com : sat24admin :
সাতক্ষীরা ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
নলতার ইছাপুর বায়তুল মামুর মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি মুহাদ্দিস রবিউল বাশার কালিগঞ্জে কালভার্ট নির্মাণে বাইপাসের বেহাল দশা: জনদুর্ভোগ চরমে, সংস্কারের দাবি হরমুজ প্রণালী নিয়ে সংঘাতের অবসান? চুক্তির খুব কাছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: চুক্তিতে না এলে ইরানে হবে ‘ভয়াবহ ও উচ্চপর্যায়ের’ হামলা কালিগঞ্জে অবরুদ্ধ এক পরিবার: চলাচলের পথ বন্ধ করে প্রাচীর, কয়েক বছর ধরে মানবেতর জীবন ইরান বলছে-যুক্তরাষ্ট্র সামনে মাত্র দুটি পথ খোলা আছে কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস পালিত : সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান কালিগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে মহান মে দিবস পালিত: শ্রমিক ঐক্যের বিকল্প নেই কালিগঞ্জের খাজাবাড়িয়ায় চলাচ‌লের রাস্তা নি‌য়ে বিরোধে কোদালের কোপে নারীসহ ৫ জন রক্তাক্ত জখম কালিগঞ্জে থানা সংস্কারের নামে নাজিমগঞ্জ বাজারে ‘চাঁদা’ আদায় : তোলপাড়

কালিগঞ্জে খোলা তেলের বাজারে ‘আগুন’: লিটারপ্রতি ৩০০ টাকা হাঁকাচ্ছে সিন্ডিকেট!

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • ৯৫১ বার পড়া হয়েছে

এসএম শাহাদাত, কালিগঞ্জ থেকে :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাঁশতলা বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে একটি সংঘবদ্ধ কালোবাজারি চক্র। নির্ধারিত ফিলিং স্টেশন বা বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই প্রকাশ্য দিবালোকে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। বর্তমানে এই বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে বাঁশতলা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘হাবি’ নামক একটি মোটরসাইকেল মেরামতের দোকানে কোনো লুকোছাপা ছাড়াই এই অবৈধ কারবার চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ খুচরা মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে এখানে তেল বিক্রি হচ্ছে। তবে এই সিন্ডিকেট অত্যন্ত সতর্ক; তারা অপরিচিত কাউকে তেল না দিয়ে কেবল পরিচিতদের কাছেই উচ্চমূল্যে পণ্যটি সরবরাহ করছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে এই তেলের উৎস নিয়ে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রতিদিন রাতের আঁধারে মোটরসাইকেলে করে বড় বড় ড্রামে ভরে তেল আনা হয়। এরপর ফতেপুর এলাকার একটি নির্জন বাগানবাড়িতে সেই তেল মজুত করা হয়। চাহিদা বাড়লে সেখান থেকে ছোট ছোট কন্টেইনারে করে বাজারে এনে চড়া দামে বিক্রি করে এই চক্র।

খোলা অবস্থায় জনাকীর্ণ বাজারে এভাবে দাহ্য পদার্থ মজুত ও বিক্রি যেকোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ হতে পারে। এছাড়া এভাবে তেল কেনাবেচায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দিকেও একই বাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। প্রশাসনের এই নীরবতাকে কালোবাজারি চক্রের জন্য ‘সবুজ সংকেত’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ তেলের আস্তানা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নলতার ইছাপুর বায়তুল মামুর মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি মুহাদ্দিস রবিউল বাশার

কালিগঞ্জে খোলা তেলের বাজারে ‘আগুন’: লিটারপ্রতি ৩০০ টাকা হাঁকাচ্ছে সিন্ডিকেট!

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

এসএম শাহাদাত, কালিগঞ্জ থেকে :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাঁশতলা বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে একটি সংঘবদ্ধ কালোবাজারি চক্র। নির্ধারিত ফিলিং স্টেশন বা বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই প্রকাশ্য দিবালোকে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। বর্তমানে এই বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে বাঁশতলা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘হাবি’ নামক একটি মোটরসাইকেল মেরামতের দোকানে কোনো লুকোছাপা ছাড়াই এই অবৈধ কারবার চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ খুচরা মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে এখানে তেল বিক্রি হচ্ছে। তবে এই সিন্ডিকেট অত্যন্ত সতর্ক; তারা অপরিচিত কাউকে তেল না দিয়ে কেবল পরিচিতদের কাছেই উচ্চমূল্যে পণ্যটি সরবরাহ করছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে এই তেলের উৎস নিয়ে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রতিদিন রাতের আঁধারে মোটরসাইকেলে করে বড় বড় ড্রামে ভরে তেল আনা হয়। এরপর ফতেপুর এলাকার একটি নির্জন বাগানবাড়িতে সেই তেল মজুত করা হয়। চাহিদা বাড়লে সেখান থেকে ছোট ছোট কন্টেইনারে করে বাজারে এনে চড়া দামে বিক্রি করে এই চক্র।

খোলা অবস্থায় জনাকীর্ণ বাজারে এভাবে দাহ্য পদার্থ মজুত ও বিক্রি যেকোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ হতে পারে। এছাড়া এভাবে তেল কেনাবেচায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দিকেও একই বাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। প্রশাসনের এই নীরবতাকে কালোবাজারি চক্রের জন্য ‘সবুজ সংকেত’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ তেলের আস্তানা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।