
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নাজিমগঞ্জ বাজারে থানা সংস্কারের অজুহাতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গণহারে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫দিন ধরে বাজারের ‘নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’র সদস্যরা দোকানভেদে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন বলে ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে থানা প্রশাসন এই ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
সরেজমিনে তদন্তে জানা যায়, নাজিমগঞ্জ বাজারের এ এম ফ্যাশানের মালিক ইসমাইল হোসেন ও দাস ক্লথ স্টোরের মালিক বিধান চন্দ্র দাশসহ অসংখ্য ব্যবসায়ীর নিকট থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সহকারী অধ্যাপক আনিসুর রহমান, ডাঃ শেখ শরিফুল ইসলাম, মাওলানা মনিরুল ইসলাম, তারিকুশ সারাফাত, সাইদুর রহমান ও জহিরুল হুদা সরাসরি দোকানে গিয়ে এই অর্থ দাবি করেন।
ব্যবসায়ীরা যখন এই অর্থের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিজে থানা সংস্কারের জন্য অর্থ সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়েছেন। এই আশ্বাসে অনেক ব্যবসায়ী টাকা দিলেও বর্তমানে তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নাজিমগঞ্জ বাজারে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কোনো বৈধ ব্যবসায়ী কমিটি নেই। সর্বশেষ ২০১০ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বাজার কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৪ এপ্রিল একটি ৯ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু নির্বাচনের প্রস্তুতির বদলে এই কমিটির বিরুদ্ধে এখন অর্থ সংগ্রহের বিতর্কিত অভিযোগ উঠেছে।
চাঁদা আদায়ের বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সহকারী অধ্যাপক আনিসুর রহমান জানান, ওসি সাহেবের আহ্বানে তারা থানায় গিয়েছিলেন এবং থানা সংস্কারে সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে বলেই তারা ব্যবসায়ীদের কাছে গেছেন।
অন্যদিকে, কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন “থানা সংস্কারের নামে ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা আদায় করতে আমি বলিনি। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি এবং তাদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন শাহা কাছে জানার জন্য কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাকে হোয়াটস এ্যাপে ম্যাসেজ করলেও কোন উত্তর দেননি ।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, থানা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং এর সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিজস্ব সরকারি বরাদ্দ থাকে। সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তুলে সরকারি প্রতিষ্ঠান সংস্কার করা কেবল অযৌক্তিক নয়, বরং সম্পূর্ণ বেআইনি।
বর্তমানে ব্যবসায়ীরা এই অর্থ আদায়ের সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
প্রতিনিধির নাম 


















