1. satkhiranews24@yahoo.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
ধলবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রচারণায় জিএম ফজলুল হক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি – উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা মানবতার টানে ২৪ বছর ধরে নিবেদিতপ্রাণ: মৌতলা ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখের কাণ্ডারি শেখ জাহাঙ্গীর আলম তবুও আশার আলোয় ভাসছে চাঁচাই বৃক্ষমেলা! নার্শারী মালিকরা ক্ষতির মুখে! ঝুলে আছে ফিতা কাটা উদ্বোধন কালিগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসি সভা অনুষ্ঠিত অর্জুন-দেব মুখোমুখি, লাবনীর ‘ডিভোর্স’, ৮ দিনের মাথায় সাতপাকে নতুন বর কালিগঞ্জে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবায় গ্রাহকদের আস্থা বাড়াচ্ছে ‘দৌড়’ কালিগঞ্জে সাংবাদিকের প্রতিষ্ঠানে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ৭ লাখ টাকার ক্ষতি; প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন শ্যামনগরে কদবেল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে কালিগঞ্জের ব্যবসায়ীর মৃত্যু ধলবাড়িয়ায় গাজী পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ফের চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন শওকাত হোসেন কালিগঞ্জে জুয়েলার্সের শাটার-লকার ভেঙে চুরি, স্বর্ণ-রুপা ও নগদ টাকা খোয়া

কালিগঞ্জে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে শত বছরের রাস্তায় বেড়া: ওসির চাঞ্চল্যকর মন্তব্য ও ভুক্তভোগীদের চরম দুর্ভোগ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৩:২৭ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইশারাত আলী :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মানপুর গ্রামে শত বছরের পুরোনো চলাচলের রাস্তায় বাঁশ ও নেটের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে তীব্র গোলমাল সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও থানা পুলিশের নিস্পৃহতা এবং এক পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষ।

মানপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম,আমিনুর রহমান, আরিফুল ইসলাম, নিলুফা ইয়াসমিন ও মনিরা বেগমের মতো ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাস্তা বন্ধ থাকায় তাদের মুরগির খামার ও ব্যবসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খামারে খাদ্য, বালু ও অন্যান্য মালামাল নেওয়া তো দূরের কথা, ইঞ্জিনভ্যান বা মোটরভ্যান পর্যন্ত বাড়িতে নিতে পারছেন না তারা। প্রায় আড়াই মাস ধরে এই অবরুদ্ধ অবস্থা চলছে।

প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে অভিযোগ দিয়েও সুরাহা না পেয়ে ভুক্তভোগীরা সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পি-১১৩৯/২৬ নম্বর মামলা করেন। আদালত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং রাস্তা থেকে বাধা সরাতে কালিগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দেয়।

আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার বদলে কালিগঞ্জ থানার ওসি শাহিনুর রহমান মন্তব্য করে বলেছেন, “এজমালি সম্পত্তির মধ্যে ঘেরা-বেড়া সরাতে গেলে মামলা খাবো। প্রয়োজনে আদালত যদি আমাকে ডাকে আমি আদালতে জবাব দেব।” পুলিশ প্রশাসনের এমন শৈথিল্য ও টালবাহানায় ভুক্তভোগীরা আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, জন্মকাল থেকেই এটি উন্মুক্ত চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদালতের রায় ও স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, উল্টো প্রভাবশালী পক্ষ মারমুখী আচরণ করছে।
অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম ও নাজমুল হুদার দাবি, জায়গাটি তাদের পারিবারিক কবরস্থানের অংশ এবং জমির মালিকানা নিয়ে দেওয়ানি মামলা চলছে। নিরাপত্তার জন্য বেড়া দেওয়া হলেও চলাচলের কিছু জায়গা রাখা হয়েছে বলে তাদের দাবি। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল ফারুক জানিয়েছেন, মাপজরিপ করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও হঠাৎ শফিকুল ইসলাম পক্ষ আলোচনায় অস্বীকৃতি জানায়।

স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন তো দূরে থাক, উল্টো বিবাদীদের মারমুখী আচরণ ও হুমকির মুখে জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগীরা। এই অচলাবস্থার মধ্যে সাতক্ষীরা জজকোর্ট আগের রায় বহাল রেখে আগামী ৮ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বিচার বিভাগের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে থানা পুলিশের এমন নির্বিকার ভূমিকা আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আদালতের নির্দেশ এবং পুলিশের অনীহার এই দ্বন্দ্বে প্রান্তিক খামারি ও সাধারণ মানুষের জীবিকা আজ ধ্বংসের মুখে।

এ পরিস্থিতিতে দ্রুত আদালতের আদেশ কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা পুলিশ সুপার বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ধলবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রচারণায় জিএম ফজলুল হক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি – উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা

কালিগঞ্জে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে শত বছরের রাস্তায় বেড়া: ওসির চাঞ্চল্যকর মন্তব্য ও ভুক্তভোগীদের চরম দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ১১:৫৩:২৭ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মানপুর গ্রামে শত বছরের পুরোনো চলাচলের রাস্তায় বাঁশ ও নেটের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে তীব্র গোলমাল সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও থানা পুলিশের নিস্পৃহতা এবং এক পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষ।

মানপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম,আমিনুর রহমান, আরিফুল ইসলাম, নিলুফা ইয়াসমিন ও মনিরা বেগমের মতো ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাস্তা বন্ধ থাকায় তাদের মুরগির খামার ও ব্যবসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খামারে খাদ্য, বালু ও অন্যান্য মালামাল নেওয়া তো দূরের কথা, ইঞ্জিনভ্যান বা মোটরভ্যান পর্যন্ত বাড়িতে নিতে পারছেন না তারা। প্রায় আড়াই মাস ধরে এই অবরুদ্ধ অবস্থা চলছে।

প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে অভিযোগ দিয়েও সুরাহা না পেয়ে ভুক্তভোগীরা সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পি-১১৩৯/২৬ নম্বর মামলা করেন। আদালত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং রাস্তা থেকে বাধা সরাতে কালিগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দেয়।

আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার বদলে কালিগঞ্জ থানার ওসি শাহিনুর রহমান মন্তব্য করে বলেছেন, “এজমালি সম্পত্তির মধ্যে ঘেরা-বেড়া সরাতে গেলে মামলা খাবো। প্রয়োজনে আদালত যদি আমাকে ডাকে আমি আদালতে জবাব দেব।” পুলিশ প্রশাসনের এমন শৈথিল্য ও টালবাহানায় ভুক্তভোগীরা আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, জন্মকাল থেকেই এটি উন্মুক্ত চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদালতের রায় ও স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, উল্টো প্রভাবশালী পক্ষ মারমুখী আচরণ করছে।
অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম ও নাজমুল হুদার দাবি, জায়গাটি তাদের পারিবারিক কবরস্থানের অংশ এবং জমির মালিকানা নিয়ে দেওয়ানি মামলা চলছে। নিরাপত্তার জন্য বেড়া দেওয়া হলেও চলাচলের কিছু জায়গা রাখা হয়েছে বলে তাদের দাবি। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল ফারুক জানিয়েছেন, মাপজরিপ করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও হঠাৎ শফিকুল ইসলাম পক্ষ আলোচনায় অস্বীকৃতি জানায়।

স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন তো দূরে থাক, উল্টো বিবাদীদের মারমুখী আচরণ ও হুমকির মুখে জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগীরা। এই অচলাবস্থার মধ্যে সাতক্ষীরা জজকোর্ট আগের রায় বহাল রেখে আগামী ৮ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বিচার বিভাগের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে থানা পুলিশের এমন নির্বিকার ভূমিকা আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আদালতের নির্দেশ এবং পুলিশের অনীহার এই দ্বন্দ্বে প্রান্তিক খামারি ও সাধারণ মানুষের জীবিকা আজ ধ্বংসের মুখে।

এ পরিস্থিতিতে দ্রুত আদালতের আদেশ কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা পুলিশ সুপার বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।