1. satkhiranews24@yahoo.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
ধলবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রচারণায় জিএম ফজলুল হক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি – উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা মানবতার টানে ২৪ বছর ধরে নিবেদিতপ্রাণ: মৌতলা ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখের কাণ্ডারি শেখ জাহাঙ্গীর আলম তবুও আশার আলোয় ভাসছে চাঁচাই বৃক্ষমেলা! নার্শারী মালিকরা ক্ষতির মুখে! ঝুলে আছে ফিতা কাটা উদ্বোধন কালিগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসি সভা অনুষ্ঠিত অর্জুন-দেব মুখোমুখি, লাবনীর ‘ডিভোর্স’, ৮ দিনের মাথায় সাতপাকে নতুন বর কালিগঞ্জে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবায় গ্রাহকদের আস্থা বাড়াচ্ছে ‘দৌড়’ কালিগঞ্জে সাংবাদিকের প্রতিষ্ঠানে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ৭ লাখ টাকার ক্ষতি; প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন শ্যামনগরে কদবেল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে কালিগঞ্জের ব্যবসায়ীর মৃত্যু ধলবাড়িয়ায় গাজী পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ফের চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন শওকাত হোসেন কালিগঞ্জে জুয়েলার্সের শাটার-লকার ভেঙে চুরি, স্বর্ণ-রুপা ও নগদ টাকা খোয়া

‎সঞ্জীব সরকার হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মায়ের আকুতি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
  • ৪২৯ বার পড়া হয়েছে

‎নিজস্ব প্রতিনিধি,

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের যুবক সঞ্জীব সরকার হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের মা মায়া রানী সরকার।
‎সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। এ সময় পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
‎লিখিত বক্তব্যে মায়া রানী সরকার বলেন, তার একমাত্র ছেলে সঞ্জীব সরকার (৩০) অত্যন্ত শান্ত, নিরীহ ও সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি পরিবারের মাছের ঘের দেখাশোনা করতেন। গত ৩০ জুন বিকেল ৪টার দিকে প্রতিদিনের মতো ঘেরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘেরের একটি গই থেকে সঞ্জীবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
‎তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ ও শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তার দাবি, ঘটনার আগে থেকেই স্বামীর আত্মীয়দের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল এবং বিভিন্ন সময় তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস আগে অভিযুক্তদের কয়েকজন তাদের বাড়িতে গিয়ে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
‎মায়া রানী সরকার আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতে অভিযুক্তরা তার ছেলেকে ঘের থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করে। পরে মরদেহ ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এলেও মামলার অধিকাংশ আসামি এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। ইতোমধ্যে একজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও অন্যরা পলাতক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
‎সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার ছেলের বয়স মাত্র ৩০ বছর ছিল। তার ১০ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্বামীকে হারিয়ে ছেলের স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে আমরাও আজ নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়েছি। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই।”
‎তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের প্রতি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি—ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানান।
‎সংবাদ সম্মেলনের শেষে মায়া রানী সরকার বলেন, “আমি একজন অসহায় মা হিসেবে দেশের বিবেকবান মানুষ, প্রশাসন ও সরকারের কাছে আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই। এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়, কোনো স্ত্রী স্বামীহারা না হয় এবং কোনো শিশু তার বাবাকে হারিয়ে এতিম না হয়।
‎সংবাদ সম্মেলনে নিহত সঞ্জীবের পিতা, শশুর, স্ত্রী ও শিশুসন্তান সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ধলবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রচারণায় জিএম ফজলুল হক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি – উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা

‎সঞ্জীব সরকার হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মায়ের আকুতি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬

‎নিজস্ব প্রতিনিধি,

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের যুবক সঞ্জীব সরকার হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের মা মায়া রানী সরকার।
‎সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। এ সময় পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
‎লিখিত বক্তব্যে মায়া রানী সরকার বলেন, তার একমাত্র ছেলে সঞ্জীব সরকার (৩০) অত্যন্ত শান্ত, নিরীহ ও সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি পরিবারের মাছের ঘের দেখাশোনা করতেন। গত ৩০ জুন বিকেল ৪টার দিকে প্রতিদিনের মতো ঘেরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘেরের একটি গই থেকে সঞ্জীবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
‎তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ ও শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তার দাবি, ঘটনার আগে থেকেই স্বামীর আত্মীয়দের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল এবং বিভিন্ন সময় তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস আগে অভিযুক্তদের কয়েকজন তাদের বাড়িতে গিয়ে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
‎মায়া রানী সরকার আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতে অভিযুক্তরা তার ছেলেকে ঘের থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করে। পরে মরদেহ ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এলেও মামলার অধিকাংশ আসামি এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। ইতোমধ্যে একজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও অন্যরা পলাতক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
‎সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার ছেলের বয়স মাত্র ৩০ বছর ছিল। তার ১০ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্বামীকে হারিয়ে ছেলের স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে আমরাও আজ নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়েছি। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই।”
‎তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের প্রতি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি—ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানান।
‎সংবাদ সম্মেলনের শেষে মায়া রানী সরকার বলেন, “আমি একজন অসহায় মা হিসেবে দেশের বিবেকবান মানুষ, প্রশাসন ও সরকারের কাছে আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই। এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়, কোনো স্ত্রী স্বামীহারা না হয় এবং কোনো শিশু তার বাবাকে হারিয়ে এতিম না হয়।
‎সংবাদ সম্মেলনে নিহত সঞ্জীবের পিতা, শশুর, স্ত্রী ও শিশুসন্তান সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।