1. satkhiranews24@yahoo.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
ধলবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রচারণায় জিএম ফজলুল হক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি – উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা মানবতার টানে ২৪ বছর ধরে নিবেদিতপ্রাণ: মৌতলা ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখের কাণ্ডারি শেখ জাহাঙ্গীর আলম তবুও আশার আলোয় ভাসছে চাঁচাই বৃক্ষমেলা! নার্শারী মালিকরা ক্ষতির মুখে! ঝুলে আছে ফিতা কাটা উদ্বোধন কালিগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসি সভা অনুষ্ঠিত অর্জুন-দেব মুখোমুখি, লাবনীর ‘ডিভোর্স’, ৮ দিনের মাথায় সাতপাকে নতুন বর কালিগঞ্জে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবায় গ্রাহকদের আস্থা বাড়াচ্ছে ‘দৌড়’ কালিগঞ্জে সাংবাদিকের প্রতিষ্ঠানে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ৭ লাখ টাকার ক্ষতি; প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন শ্যামনগরে কদবেল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে কালিগঞ্জের ব্যবসায়ীর মৃত্যু ধলবাড়িয়ায় গাজী পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ফের চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন শওকাত হোসেন কালিগঞ্জে জুয়েলার্সের শাটার-লকার ভেঙে চুরি, স্বর্ণ-রুপা ও নগদ টাকা খোয়া

কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলায় পরিকল্পিত চক্রান্ত: সরকারি কলোনি উচ্ছেদের বর্বরোচিত পায়তারায় দিশেহারা অসহায় পরিবারগুলো

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪১:২২ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ২৩৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইশারাত আলী :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি কলোনিতে বসবাসরত অসহায় ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করার জন্য এক গভীর ও বর্বরোচিত ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হচ্ছে। একটি প্রভাবশালী ও ভূমিগ্রাসী মহলের লোভের বলি হয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই জনপদে মাথাগোঁজে থাকা দরিদ্র মানুষগুলো আজ চরম মানবিক বিপর্যয় ও অস্তিত্বের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং সুদূরপ্রসারী নীল নকশার অংশ হিসেবে কৃত্রিম উপায়ে এই ভাঙন সৃষ্টি করা হয়েছে।

ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ১৯৭১ সাল থেকে এই সরকারি কলোনিতে বৈধভাবে বসবাস করে আসছে খেটে খাওয়া ও ভূমিহীন কিছু পরিবার। কিন্তু এই গরিব মানুষগুলোর বসতভিটা গ্রাস করার অশুভ উদ্দেশ্যে কলোনির পাশেই অবস্থিত ডা. মজিবুর রহমানের পরিবারের মালিকানাধীন পুকুরকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সম্প্রতি পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই পুকুর থেকে মেশিনের সাহায্যে অতিরিক্ত পানি সেচ দিয়ে মাছ শিকার করা হয়। এর ফলে পুকুরপাড়ের অভ্যন্তরীণ মাটি সম্পূর্ণ আলগা হয়ে চরম দুর্বলতার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে সামান্য বৃষ্টিপাত ও পানির কৃত্রিম চাপে সেই ভঙ্গুর পাড় ও সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ে।

এই ধ্বংসাত্মক চক্রান্তের ফলে মুহূর্তে ১০টিরও বেশি অসহায় পরিবারের মাথাগোঁজার ঠাঁই আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি বসতঘরের দেয়ালে দেখা দিয়েছে বিপজ্জনক ফাটল। শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে বা চরম ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা ঘরে অবর্ণনীয় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। ক্ষুধার্ত শিশু, অবলা নারী আর জীর্ণশীর্ণ বৃদ্ধদের আর্তনাদে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। প্রভাবশালী ওই চক্রটি যেকোনো মূল্যে এই জনপদ খালি করতে চায়, যার অংশ হিসেবেই এই পরিকল্পিত বিপর্যয় ডেকে আনা হয়েছে। দ্রুত এই জঘন্য চক্রান্ত প্রতিহত করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে প্রাণঘাতী কোনো দুর্ঘটনা।

এ বিষয়ে ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ নিজাম উদ্দীনের বক্তব্যেও প্রভাবশালী মহলের এই হীন মানসিকতার ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি জানান, ডা. মজিবুর রহমানের পরিবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুকুরের পানি সেচে মাছ ধরার কারণে এই বিপর্যয় নেমে এসেছে।

ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের পাশে সরকারী কলোনীপাড়ার ভুক্তভোগী বাসিন্দা আব্দুস সামাদ মিঠু, আবুবক্কার সিদ্দিক, রঙ্গিলা বেওয়া ও মোজাফফর শাহাজী ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “অতীতে আমাদের ওপর বহুবার অন্যায় জুলুম করা হয়েছে, নানা ফন্দিফিকিরে বিরোধ সৃষ্টি করা হলেও আমরা আইনি ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে টিকে ছিলাম। কিন্তু এবার সরাসরি আমাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য এই পুকুরপাড় ভাঙার নাটক সাজানো হয়েছে। আমাদের সাজানো সংসার গুঁড়িয়ে দিয়ে পরিবারগুলোকে রাস্তায় নামানোর এই পাঁয়তারা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তারা অবিলম্বে এই পরিকল্পিত উচ্ছেদ চেষ্টার নেপথ্য নায়কদের মুখোশ উন্মোচন, নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ নিজাম উদ্দীন বলেন, এই পুকুর পাড় ধ্বসের বিষয়টি নিয়ে আমি ডাঃ মুজিবর রহমানের সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন আমার কিছু করার নেই। বিষয়টি কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর কথা বললে তিনি বলেন তোমরা যা পারো তাই করো।

অসহায় পরিবারগুলোর ওপর চলা এই নিষ্ঠুর নিপীড়ন ও উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ না এলে এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ধলবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রচারণায় জিএম ফজলুল হক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি – উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা

কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলায় পরিকল্পিত চক্রান্ত: সরকারি কলোনি উচ্ছেদের বর্বরোচিত পায়তারায় দিশেহারা অসহায় পরিবারগুলো

আপডেট সময় : ১০:৪১:২২ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি কলোনিতে বসবাসরত অসহায় ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করার জন্য এক গভীর ও বর্বরোচিত ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হচ্ছে। একটি প্রভাবশালী ও ভূমিগ্রাসী মহলের লোভের বলি হয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই জনপদে মাথাগোঁজে থাকা দরিদ্র মানুষগুলো আজ চরম মানবিক বিপর্যয় ও অস্তিত্বের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং সুদূরপ্রসারী নীল নকশার অংশ হিসেবে কৃত্রিম উপায়ে এই ভাঙন সৃষ্টি করা হয়েছে।

ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ১৯৭১ সাল থেকে এই সরকারি কলোনিতে বৈধভাবে বসবাস করে আসছে খেটে খাওয়া ও ভূমিহীন কিছু পরিবার। কিন্তু এই গরিব মানুষগুলোর বসতভিটা গ্রাস করার অশুভ উদ্দেশ্যে কলোনির পাশেই অবস্থিত ডা. মজিবুর রহমানের পরিবারের মালিকানাধীন পুকুরকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সম্প্রতি পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই পুকুর থেকে মেশিনের সাহায্যে অতিরিক্ত পানি সেচ দিয়ে মাছ শিকার করা হয়। এর ফলে পুকুরপাড়ের অভ্যন্তরীণ মাটি সম্পূর্ণ আলগা হয়ে চরম দুর্বলতার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে সামান্য বৃষ্টিপাত ও পানির কৃত্রিম চাপে সেই ভঙ্গুর পাড় ও সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ে।

এই ধ্বংসাত্মক চক্রান্তের ফলে মুহূর্তে ১০টিরও বেশি অসহায় পরিবারের মাথাগোঁজার ঠাঁই আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি বসতঘরের দেয়ালে দেখা দিয়েছে বিপজ্জনক ফাটল। শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে বা চরম ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা ঘরে অবর্ণনীয় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। ক্ষুধার্ত শিশু, অবলা নারী আর জীর্ণশীর্ণ বৃদ্ধদের আর্তনাদে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। প্রভাবশালী ওই চক্রটি যেকোনো মূল্যে এই জনপদ খালি করতে চায়, যার অংশ হিসেবেই এই পরিকল্পিত বিপর্যয় ডেকে আনা হয়েছে। দ্রুত এই জঘন্য চক্রান্ত প্রতিহত করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে প্রাণঘাতী কোনো দুর্ঘটনা।

এ বিষয়ে ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ নিজাম উদ্দীনের বক্তব্যেও প্রভাবশালী মহলের এই হীন মানসিকতার ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি জানান, ডা. মজিবুর রহমানের পরিবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুকুরের পানি সেচে মাছ ধরার কারণে এই বিপর্যয় নেমে এসেছে।

ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের পাশে সরকারী কলোনীপাড়ার ভুক্তভোগী বাসিন্দা আব্দুস সামাদ মিঠু, আবুবক্কার সিদ্দিক, রঙ্গিলা বেওয়া ও মোজাফফর শাহাজী ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “অতীতে আমাদের ওপর বহুবার অন্যায় জুলুম করা হয়েছে, নানা ফন্দিফিকিরে বিরোধ সৃষ্টি করা হলেও আমরা আইনি ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে টিকে ছিলাম। কিন্তু এবার সরাসরি আমাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য এই পুকুরপাড় ভাঙার নাটক সাজানো হয়েছে। আমাদের সাজানো সংসার গুঁড়িয়ে দিয়ে পরিবারগুলোকে রাস্তায় নামানোর এই পাঁয়তারা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তারা অবিলম্বে এই পরিকল্পিত উচ্ছেদ চেষ্টার নেপথ্য নায়কদের মুখোশ উন্মোচন, নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ নিজাম উদ্দীন বলেন, এই পুকুর পাড় ধ্বসের বিষয়টি নিয়ে আমি ডাঃ মুজিবর রহমানের সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন আমার কিছু করার নেই। বিষয়টি কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর কথা বললে তিনি বলেন তোমরা যা পারো তাই করো।

অসহায় পরিবারগুলোর ওপর চলা এই নিষ্ঠুর নিপীড়ন ও উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ না এলে এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।