আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও জানাজায় অংশ নিতে রাজধানী তেহরানে ঢল নেমেছে লাখো মানুষের। মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ কয়েক মাস বিলম্বের পর, শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, আগামী কয়েকদিনে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ এই শোকযাত্রায় অংশ নেবেন, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম হতে যাচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় সপরিবারে নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের দিনেই (৪ জুলাই) এই শোকযাত্রার সূচনা করেছে ইরান, যা পশ্চিমাদের প্রতি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জড়ো হওয়া লাখো জনতা লাল পতাকা হাতে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দিচ্ছেন। তেহরান, ক্বোম এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে আগামী ৯ জুলাই নিজ শহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে তাকে দাফন করা হবে।
শনিবার সকালে ধর্মীয় স্তোত্র ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় একটি কাঁচের আবরণে খামেনির কফিন রাখা হয়েছে, যা ইরানের জাতীয় পতাকা ও তার কালো পাগড়ি দিয়ে মোড়ানো। একই সাথে ওই হামলায় নিহত তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের (যাদের মধ্যে তার বড় মেয়ে, জামাতা ও ১৪ মাস বয়সী নাতনি রয়েছেন) কফিনও সেখানে রাখা হয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মাঝেও শোকাহত জনতা তাদের প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করছেন।
ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে প্রায় সাত দিনব্যাপী এই শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার পর্যন্ত তেহরানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কফিনটি ইরানের ধর্মীয় কেন্দ্র শিয়াদের পবিত্র শহর ক্বোমে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর প্রতিবেশী দেশ ইরাকের পবিত্র স্থানগুলোতে (নাজাফ ও কারবালা) নেয়ার পর বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হবে।
খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা তেহরানে পৌঁছেছেন। এদের মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ, রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ, তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এবং ভারতের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল (যার মধ্যে পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি ও সালমান খুরশিদ রয়েছেন) অন্যতম। এছাড়া হামাস এবং হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত রয়েছেন।
তবে খামেনির ছেলে এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি (যিনি নিজেও ওই হামলায় আহত হয়েছিলেন) নিরাপত্তার কারণে এই অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অংশ নিচ্ছেন না বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং খামেনির মৃত্যুর ঘটনা বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে, বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এই বিশাল জানাজা ও জনসমাগমের মাধ্যমে ইরান মূলত পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে তাদের জাতীয় ঐক্য, অটুট মনোবল এবং শক্তির প্রদর্শন করছে।
প্রতিনিধির নাম 















