1. tusu0x1@gmail.com : :
  2. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে ঠেকরায় চলাচলের পথ কেটে মাটি পুকু‌রে ফেলার অভিযোগ। কালিগঞ্জ রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শ.ম মমতাজুর রহমানের ইন্তেকাল কালিগঞ্জে নবাগত ওসির সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় : মাদক-সন্ত্রাস ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা কালিগঞ্জের রেবতী সরকারের তাজা প্রাণ ঝরে গেল কোলকাতার অগ্নিকাণ্ডে কালিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রফুর মৃত্যু কলকাতায় হোটেলে আগুনে দগ্ধ হয়ে কালিগঞ্জের সাবেক আওয়ামী নেতা আলিমুজ্জামানের মৃত্যু- রেবতী সরকারের ঠিকানা পাওয়া যায়নি জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে সাতক্ষীরা পৌরসভাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে কালিগঞ্জ ‘খরচ বাড়ে, ভাড়া কমে’-কালিগঞ্জে ডেকোরেটর ব্যবসায় টিকে থাকার লড়াই, ‘ঐক্যবদ্ধ না হলে ডেকোরেটর ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন’-হেদায়েতুল ইসলাম কালিগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন কালিগঞ্জে বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল নিক্ষেপ: আহত ১, অবিস্ফোরিত দুটি বোমা উদ্ধার

কালিগঞ্জে সঞ্জিব হত্যা মামলায় নাটকীয় মোড় : ৪ আসামির ১জন গ্রেফতার, কর্তাদের কুটচালে আতঙ্কিত পরিবার

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৪:৩৪ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ১২০১ বার পড়া হয়েছে
১২৭১

মোঃ ইশারাত আলী :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মাছের ঘের ব্যবসায়ী সঞ্জিব কুমার সরকার (৩৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত ৪ আসামির মধ্যে একজনকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হলেও, মূল হোতাদের নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যার নেপথ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং জমিজমার বিরোধের পাশাপাশি এখন সামনে আসছে নতুন ‘নাটকীয় মোড়’। অভিযোগ উঠেছে, হত্যার মাস্টারমাইন্ড বা নাটের গুরুরা খোদ ভুক্তভোগীর আপনজন এবং তারা এখন মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরিয়া হয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে।

কালিগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত মামলা (নং- ১/১৪০) অনুযায়ী, এজাহারভুক্ত ৪ আসামির মধ্যে একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী তাপস সরকার ওরফে ডালিম সরকারসহ বাকি প্রধান আসামীরা গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং নানাবিধ প্রভাব খাটিয়ে মূল অপরাধীরা পার পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে—সঞ্জিবের পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা হয়েছে ঘরের ভেতর থেকেই। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে নিহতের নিকটাত্মীয়রা (কাকা ও আত্মীয়) জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসায় স্তম্ভিত এলাকাবাসী। এটি কি নিছক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নাকি সুপরিকল্পিত কোনো পারিবারিক ষড়যন্ত্র—তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। পরিবারের অভিযোগ, প্রকৃত খুনিদের আড়াল করতে একটি কুচক্রী মহল এখন ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে।

১০ মাস বয়সী কন্যাসন্তান ও স্ত্রীকে রেখে চিরবিদায় নেওয়া সঞ্জিবের পরিবারের সদস্যরা এখন অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। নিহতের পিতা গোপাল চন্দ্র সরকার এবং স্বজনরা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত মূল পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে মামলার আলামত ধ্বংস এবং সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই মামলাটি কেবল একটি ‘ঘের ব্যবসায়ী হত্যা’ হিসেবে দেখলে হবে না। এখানে যে ‘পারিবারিক ষড়যন্ত্রের’ গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, তার প্রতিটি সুতো উন্মোচন করতে হবে।

সঞ্জিব সরকারের পরিবার কেবল হত্যাকারীদের গ্রেফতারই নয়, বরং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশ প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষভাবে এই ‘হাড় হিম করা’ হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে পারে এবং প্রকৃত অপরাধীরা কি শেষ পর্যন্ত বিচারের মুখোমুখি হবে? নাকি প্রভাবে ধামাচাপা পড়বে সঞ্জিব হত্যার বিচার?

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে ঠেকরায় চলাচলের পথ কেটে মাটি পুকু‌রে ফেলার অভিযোগ।

কালিগঞ্জে সঞ্জিব হত্যা মামলায় নাটকীয় মোড় : ৪ আসামির ১জন গ্রেফতার, কর্তাদের কুটচালে আতঙ্কিত পরিবার

আপডেট সময় : ০১:৫৪:৩৪ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬






১২৭১











মোঃ ইশারাত আলী :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মাছের ঘের ব্যবসায়ী সঞ্জিব কুমার সরকার (৩৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত ৪ আসামির মধ্যে একজনকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হলেও, মূল হোতাদের নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যার নেপথ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং জমিজমার বিরোধের পাশাপাশি এখন সামনে আসছে নতুন ‘নাটকীয় মোড়’। অভিযোগ উঠেছে, হত্যার মাস্টারমাইন্ড বা নাটের গুরুরা খোদ ভুক্তভোগীর আপনজন এবং তারা এখন মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরিয়া হয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে।

কালিগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত মামলা (নং- ১/১৪০) অনুযায়ী, এজাহারভুক্ত ৪ আসামির মধ্যে একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী তাপস সরকার ওরফে ডালিম সরকারসহ বাকি প্রধান আসামীরা গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং নানাবিধ প্রভাব খাটিয়ে মূল অপরাধীরা পার পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে—সঞ্জিবের পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা হয়েছে ঘরের ভেতর থেকেই। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে নিহতের নিকটাত্মীয়রা (কাকা ও আত্মীয়) জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসায় স্তম্ভিত এলাকাবাসী। এটি কি নিছক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নাকি সুপরিকল্পিত কোনো পারিবারিক ষড়যন্ত্র—তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। পরিবারের অভিযোগ, প্রকৃত খুনিদের আড়াল করতে একটি কুচক্রী মহল এখন ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে।

১০ মাস বয়সী কন্যাসন্তান ও স্ত্রীকে রেখে চিরবিদায় নেওয়া সঞ্জিবের পরিবারের সদস্যরা এখন অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। নিহতের পিতা গোপাল চন্দ্র সরকার এবং স্বজনরা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত মূল পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে মামলার আলামত ধ্বংস এবং সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই মামলাটি কেবল একটি ‘ঘের ব্যবসায়ী হত্যা’ হিসেবে দেখলে হবে না। এখানে যে ‘পারিবারিক ষড়যন্ত্রের’ গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, তার প্রতিটি সুতো উন্মোচন করতে হবে।

সঞ্জিব সরকারের পরিবার কেবল হত্যাকারীদের গ্রেফতারই নয়, বরং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশ প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষভাবে এই ‘হাড় হিম করা’ হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে পারে এবং প্রকৃত অপরাধীরা কি শেষ পর্যন্ত বিচারের মুখোমুখি হবে? নাকি প্রভাবে ধামাচাপা পড়বে সঞ্জিব হত্যার বিচার?