1. satnews24@satkhiranews24.com : sat24admin :
সাতক্ষীরা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে জমি বিক্রির সাড়ে ৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ: এবার খাস জমিতে থাকা বসতভিটা দখলের মরিয়া চেষ্টা, থানায় অভিযোগ কালিগঞ্জে ‘সু-সন্তান পুরস্কার’ প্রদান ও লাঠিখেলা অনুষ্ঠিত নাজিমগঞ্জ বাজারকে আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করতে চান সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী শেখ আমিনুর রহমান মুন্না কালিগঞ্জে বিদ্যুৎ সংকটে পানির ফিল্টারে উপচে পড়া ভিড়, চাহিদামতো পানি সরবরাহ বন্ধ কালিগঞ্জে সর্বোকালের সেরা লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ ডিজিএম-এর অপসারণ চেয়ে মানববন্ধন কালিগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যদায় শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উদযাপিত মেজর জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে সাতক্ষীরায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে দোয়া ও সমর্থন চাইলেন মহিলা মেম্বার পদপ্রার্থী দিলরুবা পারভীন (ডলি) কালিগঞ্জে সুবর্ণ নাগরিক উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ১০০ জন প্রতিবন্ধীর মাঝে কোরবানী মাংস বিতরণ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে স্টার নিউজের সাব-এডিটর গাজী কাইয়ুমের ঈদ শুভেচ্ছা

কালিগঞ্জে জমি বিক্রির সাড়ে ৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ: এবার খাস জমিতে থাকা বসতভিটা দখলের মরিয়া চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

মোঃ ইশারাত আলী, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) থেকে :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগরে জমি বিক্রির নামে সাড়ে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে জমি বুঝিয়ে না দেওয়া এবং টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো জবরদখল ও প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এই প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ভুক্তভোগী এক নারী কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে সরকারি খাস জমিতে ৩০ বছর ধরে বসবাসকারী একটি পরিবারের ঘর সংস্কারে বাধা ও বসতভিটা দখলের চেষ্টার ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে সরেজমিনে অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণনগর মৌজার ২৩৩ নম্বর সরকারি খাস জমিতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ঘর বেঁধে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন শহিদুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে আছাদুজ্জামানসহ পরিবারের সদস্যরা। ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এই অঞ্চলে তাদের দীর্ঘদিনের পুরোনো কাঁচা ঘরটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় দেয়াল ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় পরিবারটি ঘর সংস্কার ও নতুন ঘর নির্মাণের অনুমতি চেয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। সরকারি বিধি-বিধান মেনে ‘ডিসিআর’ (DCR) কেটে তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও একটি প্রভাবশালী মহল এখন তাদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই জমি ও সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে উপজেলার বেনাদনা গ্রামের শাহানারা পারভীন নামের এক নারী কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে মৃত আব্দুস সামাদ সরদারের ছেলে মো. তৌফিক রহমান জমি বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে শাহানারার কাছ থেকে অগ্রিম ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। জামানত হিসেবে তৌফিক একটি ব্যাংক চেকও প্রদান করেছিলেন।

কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তৌফিক রহমান জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি এবং টাকাও ফেরত দেননি। ভুক্তভোগী শাহানারা পারভীন পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তাকে চড়াও হয়ে হুমকি ও অশোভন আচরণ করা হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত তৌফিক রহমানের ‘ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল’ হিসেবে পরিচিত শংকরপুর গ্রামের দাউদ তরফদারের ছেলে আলমগীর তরফদার দীর্ঘদিন ধরে শহিদুল ইসলামের পরিবার ও শাহানারা পারভীনকে ভয়ভীতি, হুমকি-ধামকি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। আলমগীর তরফদার যেকোনো সময় বাড়িঘর ভাঙচুর করে জমি জবরদখল করার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছেন বলেও ভুক্তভোগীরা জানান। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আলমগীর তরফদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল ও সূত্র নিশ্চিত করেছে, কয়েক বছর আগে শহিদুল ইসলাম, আছাদুজ্জামান, শাহানারা পারভীন, আশারাফ গাইন ও তৌফিক রহমানের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে আর্থিক লেনদেন ও মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালতে মামলা চলমান থাকার পরও এলাকায় বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করে জমি দখল এবং ভুক্তভোগীদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত তৌফিক রহমান সাংবাদিকদের বলেন “এটি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত ও আইন যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমরা তা মেনে নেব।”

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই জমি ও বসতভিটা সংক্রান্ত বিরোধ এবং প্রকাশ্য অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তি না হলে এলাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। ভূমিদস্যুতা ও প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের জরুরি ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে জমি বিক্রির সাড়ে ৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ: এবার খাস জমিতে থাকা বসতভিটা দখলের মরিয়া চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

কালিগঞ্জে জমি বিক্রির সাড়ে ৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ: এবার খাস জমিতে থাকা বসতভিটা দখলের মরিয়া চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৪৫:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) থেকে :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগরে জমি বিক্রির নামে সাড়ে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে জমি বুঝিয়ে না দেওয়া এবং টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো জবরদখল ও প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এই প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ভুক্তভোগী এক নারী কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে সরকারি খাস জমিতে ৩০ বছর ধরে বসবাসকারী একটি পরিবারের ঘর সংস্কারে বাধা ও বসতভিটা দখলের চেষ্টার ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে সরেজমিনে অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণনগর মৌজার ২৩৩ নম্বর সরকারি খাস জমিতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ঘর বেঁধে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন শহিদুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে আছাদুজ্জামানসহ পরিবারের সদস্যরা। ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এই অঞ্চলে তাদের দীর্ঘদিনের পুরোনো কাঁচা ঘরটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় দেয়াল ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় পরিবারটি ঘর সংস্কার ও নতুন ঘর নির্মাণের অনুমতি চেয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। সরকারি বিধি-বিধান মেনে ‘ডিসিআর’ (DCR) কেটে তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও একটি প্রভাবশালী মহল এখন তাদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই জমি ও সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে উপজেলার বেনাদনা গ্রামের শাহানারা পারভীন নামের এক নারী কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে মৃত আব্দুস সামাদ সরদারের ছেলে মো. তৌফিক রহমান জমি বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে শাহানারার কাছ থেকে অগ্রিম ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। জামানত হিসেবে তৌফিক একটি ব্যাংক চেকও প্রদান করেছিলেন।

কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তৌফিক রহমান জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি এবং টাকাও ফেরত দেননি। ভুক্তভোগী শাহানারা পারভীন পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তাকে চড়াও হয়ে হুমকি ও অশোভন আচরণ করা হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত তৌফিক রহমানের ‘ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল’ হিসেবে পরিচিত শংকরপুর গ্রামের দাউদ তরফদারের ছেলে আলমগীর তরফদার দীর্ঘদিন ধরে শহিদুল ইসলামের পরিবার ও শাহানারা পারভীনকে ভয়ভীতি, হুমকি-ধামকি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। আলমগীর তরফদার যেকোনো সময় বাড়িঘর ভাঙচুর করে জমি জবরদখল করার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছেন বলেও ভুক্তভোগীরা জানান। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আলমগীর তরফদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল ও সূত্র নিশ্চিত করেছে, কয়েক বছর আগে শহিদুল ইসলাম, আছাদুজ্জামান, শাহানারা পারভীন, আশারাফ গাইন ও তৌফিক রহমানের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে আর্থিক লেনদেন ও মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালতে মামলা চলমান থাকার পরও এলাকায় বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করে জমি দখল এবং ভুক্তভোগীদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত তৌফিক রহমান সাংবাদিকদের বলেন “এটি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত ও আইন যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমরা তা মেনে নেব।”

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই জমি ও বসতভিটা সংক্রান্ত বিরোধ এবং প্রকাশ্য অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তি না হলে এলাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। ভূমিদস্যুতা ও প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের জরুরি ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।