1. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে রথযাত্রা ঘিরে বিএনপির ‘কঠোর সতর্কতা’: নাশকতা রুখতে মাঠে থাকার নির্দেশ হাড়দ্দহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠিত কালিগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়: ফোন ধরেন না সাংবাদিকদের, ক্ষুব্ধ শিক্ষক-অভিভাবক সতেরো বছরের ছায়া : অনিয়মের উত্তরাধিকার ভাঙতে হলে জবাবদিহিই একমাত্র পথ কালিগঞ্জে সরকারি পুকুর সংলগ্ন ড্রেন সংস্কার কাজের উদ্বোধন, উপকৃত হবে ৪০০ পরিবার অবশেষে প্রত্যাহার কালিগঞ্জের সেই বিতর্কিত অধ্যক্ষ হুমায়ন কবীর: শিক্ষক বদলি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ? নাকি নতুন বানিজ্য! সম্পাদকীয়: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ও শিক্ষা খাতের সংকট কালিগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল হামলা মামলার আসামিসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার কালিগঞ্জ থানায় ককটেল বিষ্ফোরনে আহত শ্রমিক রফিকুলের পাশে দাঁড়ালেন ওসি শহিদুল ইসলাম ভদ্রখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, মোঃ জুলহক সরদার সভাপতি-সদস্য সচিব জেসমিন কাকুলী

সৌদি আরব ও কুয়েতে আবারও ইরানের ড্রোন হামলা; যুদ্ধের নতুন সমিকরণ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:০৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • ৯৭৬ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: 

গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। বুধবার সকালে সৌদি আরব এবং কুয়েতের ওপর ইরানের ড্রোন হামলার পর এই অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং বাহরাইন—আরব উপদ্বীপের প্রায় প্রতিটি দেশই এখন ইরানের সরাসরি সামরিক নিশানায়।

বুধবার ভোরের দিকে সৌদি আরব ও কুয়েতের জ্বালানি অবকাঠামো এবং কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে দুই দেশের পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও ইসরায়েলের সরাসরি সংঘাতের সময় প্রতিবেশীদের ওপর হামলার জন্য তেহরান দুঃখ প্রকাশ করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আবারও সেই আগ্রাসী পথ বেছে নিয়েছে। শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, বেসামরিক এলাকা ও মার্কিন স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, বিশেষ করে ইউএই ও কাতার আজ বিশ্বজুড়ে নিরাপদ পর্যটন ও বিনিয়োগের প্রতীক। ইরান এই ‘নিরাপদ’ ভাবমূর্তিকে আঘাত করে ওই দেশগুলোর পর্যটন ও অর্থব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে চাইছে। বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হলো মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস। এই শিল্পকে বিঘ্নিত করে ইরান বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিতে চায়, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা তৈরি করতে পারে। এটি মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। ইরান তাদের ওপর হামলা চালিয়ে এই দেশগুলোকে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় অতিষ্ঠ হয়ে যুদ্ধ বন্ধের জন্য ওয়াশিংটনের ওপর সর্বোচ্চ কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে।

মজার বিষয় হলো, একদিকে আকাশজুড়ে ড্রোনের গর্জন, অন্যদিকে টেবিলের নিচে চলছে কূটনীতি। পাকিস্তানের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘১৫-দফা শান্তি পরিকল্পনা’র একটি খসড়া ইতিমধ্যে ইরানের কাছে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই হামলার মাধ্যমে আলোচনার টেবিলে নিজেদের দরকষাকষির ক্ষমতা (Bargaining Power) কয়েক গুণ বাড়িয়ে নিতে চাইছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ যখন ইরানের ওপর ১৫ হাজারের বেশি বোমা নিক্ষেপের দাবি করছেন এবং নতুন হামলার অনুমোদন দিচ্ছেন, ঠিক তখনই ইরান প্রতিবেশীদের ওপর আঘাত হেনে যুদ্ধের পরিধিকে আঞ্চলিক রূপ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতির ফলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে কয়েক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও আইএইএ (IAEA)।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে রথযাত্রা ঘিরে বিএনপির ‘কঠোর সতর্কতা’: নাশকতা রুখতে মাঠে থাকার নির্দেশ

সৌদি আরব ও কুয়েতে আবারও ইরানের ড্রোন হামলা; যুদ্ধের নতুন সমিকরণ

আপডেট সময় : ০৯:২৪:০৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: 

গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। বুধবার সকালে সৌদি আরব এবং কুয়েতের ওপর ইরানের ড্রোন হামলার পর এই অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং বাহরাইন—আরব উপদ্বীপের প্রায় প্রতিটি দেশই এখন ইরানের সরাসরি সামরিক নিশানায়।

বুধবার ভোরের দিকে সৌদি আরব ও কুয়েতের জ্বালানি অবকাঠামো এবং কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে দুই দেশের পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও ইসরায়েলের সরাসরি সংঘাতের সময় প্রতিবেশীদের ওপর হামলার জন্য তেহরান দুঃখ প্রকাশ করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আবারও সেই আগ্রাসী পথ বেছে নিয়েছে। শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, বেসামরিক এলাকা ও মার্কিন স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, বিশেষ করে ইউএই ও কাতার আজ বিশ্বজুড়ে নিরাপদ পর্যটন ও বিনিয়োগের প্রতীক। ইরান এই ‘নিরাপদ’ ভাবমূর্তিকে আঘাত করে ওই দেশগুলোর পর্যটন ও অর্থব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে চাইছে। বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হলো মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস। এই শিল্পকে বিঘ্নিত করে ইরান বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিতে চায়, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা তৈরি করতে পারে। এটি মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। ইরান তাদের ওপর হামলা চালিয়ে এই দেশগুলোকে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় অতিষ্ঠ হয়ে যুদ্ধ বন্ধের জন্য ওয়াশিংটনের ওপর সর্বোচ্চ কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে।

মজার বিষয় হলো, একদিকে আকাশজুড়ে ড্রোনের গর্জন, অন্যদিকে টেবিলের নিচে চলছে কূটনীতি। পাকিস্তানের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘১৫-দফা শান্তি পরিকল্পনা’র একটি খসড়া ইতিমধ্যে ইরানের কাছে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই হামলার মাধ্যমে আলোচনার টেবিলে নিজেদের দরকষাকষির ক্ষমতা (Bargaining Power) কয়েক গুণ বাড়িয়ে নিতে চাইছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ যখন ইরানের ওপর ১৫ হাজারের বেশি বোমা নিক্ষেপের দাবি করছেন এবং নতুন হামলার অনুমোদন দিচ্ছেন, ঠিক তখনই ইরান প্রতিবেশীদের ওপর আঘাত হেনে যুদ্ধের পরিধিকে আঞ্চলিক রূপ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতির ফলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে কয়েক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও আইএইএ (IAEA)।