
মোঃ ইশারাত আলী :
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোনের গর্জনে প্রকম্পিত, তখন তার উত্তাপ সুদূর সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের সাধারণ মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। বৈশ্বিক রাজনীতির মারপ্যাঁচে ‘জ্বালানি যুদ্ধ’ আজ আর কোনো তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন অস্তিত্বের সংকটে পরিণত হয়েছে।
ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের ব্যারেল যখন ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, তখন তার সরাসরি আঘাত এসে পড়ে আমাদের পাম্পগুলোতে। কালিগঞ্জের মোড়ে মোড়ে এখন তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন। ডিজেলের কৃত্রিম সংকট আর আকাশচুম্বী দামের কারণে ইরি-বোরো মৌসুমের এই ভরা সময়ে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। সেচ পাম্পগুলো যখন জ্বালানির অভাবে স্তব্ধ হয়ে পড়ে, তখন কেবল একটি ফসল নয়, বরং আগামী বছরের খাদ্য নিরাপত্তার ওপরই কুঠারাঘাত করা হয়।
সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠছে আমাদের স্থানীয় পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থায়। জ্বালানি সংকটের অজুহাতে পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া এক লাফে দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে কালিগঞ্জ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ড্রোন হামলার সাথে এদেশের আলুর দাম বা ডালের দামের সম্পর্ক কী-তা সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে বলা কঠিন। কিন্তু নিষ্ঠুর সত্য হলো, বৈশ্বিক এই দাবার চালে সাধারণ মানুষই আজ কিস্তি মাত হওয়ার পথে।
বিদ্যুতের অবস্থাও তথৈবচ। জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের অভাবে যে লোডশেডিং শুরু হয়েছে, তার প্রভাব প্রান্তিক এই জনপদে অনেক বেশি প্রকট। সন্ধ্যার পর কালিগঞ্জের বাজারগুলো যখন অন্ধকারে ডুবে থাকে, তখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাহাকার আর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাঘাত আমাদের উন্নয়নের রঙিন স্বপ্নকে ফিকে করে দেয়।
কালিগঞ্জসহ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের জন্য সেচ মৌসুমে ডিজেলের বিশেষ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরাসরি কৃষকের কাছে জ্বালানি পৌঁছাতে হবে।
জ্বালানির দোহাই দিয়ে যে সিন্ডিকেট বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর অভিযান প্রয়োজন।
আমাদের আর কতদিন মধ্যপ্রাচ্যের খামখেয়ালিপনার ওপর নির্ভর করতে হবে? এখন সময় এসেছে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য শক্তির (সোলার সেচ পাম্প ইত্যাদি) দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার।
প্রতিনিধির নাম 















