1. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০২:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জ ধলবাড়িয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে গাজী মিজানুর রহমান মনোনীত কালিগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. শাহাজান সরদারকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ: বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা ৯ ঘণ্টা চলল বুলডোজার বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে বিস্ফোরণ, উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলা কালিগঞ্জে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ বিক্রেতা ও ক্রেতা আটক, ইউপি চেয়ারম্যানের তৎপরতায় পুলিশে সোপর্দ কালিগঞ্জের ছনকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন: সভাপতি লুৎফর, সহ-সভাপতি লিটন কালিগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৈতৃক জমি দখলে ‘ভেকু বাহিনীর’ তাণ্ডব: রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা কালিগঞ্জে বিষপানে বৃদ্ধের আত্মহত্যা কালিগঞ্জে প্রতিবন্ধী পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে ছাগল উপহার কালিগঞ্জের নলতা ইউনিয়নে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোশাররফ হোসেন (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে স্থবির কালিগঞ্জ: কোটি টাকার ক্ষতির দায় কার?

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:৩৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ৪১৩ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইশারাত আলী, কালিগঞ্জ থেকে :

সকাল থেকে রাত-কালিগঞ্জে এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ। আধুনিক জীবনযাত্রা, পেশাগত দক্ষতা আর ব্যবসায়িক লেনদেনের চাকা যখন ইন্টারনেটের গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলছে, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্থবির হয়ে পড়ছে জনজীবন। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত এক বছরে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

এলাকার ফ্রিল্যান্সার ও অনলাইন উদ্যোক্তাদের অবস্থা এখন সবচেয়ে শোচনীয়। পেশাদার গ্রাফিক ডিজাইনার রহিম আহমেদ বলেন, “গত সপ্তাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের মাঝপথে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। ইউপিএস ব্যাকআপ দেওয়ার আগেই পিসি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফাইলটি করাপ্ট হয়ে যায়। ক্লায়েন্টকে প্রজেক্ট জমা দিতে না পারায় আমার দীর্ঘদিনের কাজের সুযোগ হাতছাড়া হলো। এখন ভয়ে কাজ করতে বসলে মনে হয়, এই বুঝি বিদ্যুৎ চলে গেল!”

অফলাইন ব্যবসায়িক প্রতিকূলতা নিয়ে স্থানীয় উদ্যোক্তা আসিফজানান, “অনলাইন ডেলিভারির জন্য সারাদিন পিসি ও ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ অফিসের যে লুকোচুরি, তাতে ব্যবসার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিদ্যুৎহীনতায় ইন্টারনেটের মডেমগুলোও কাজ করে না, যা আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।”

হঠাৎ বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে কালিগঞ্জের অনেক কর্মজীবীর কম্পিউটার হার্ডওয়্যার স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি বিশেষজ্ঞ মো: ফয়সাল বলেন, “এলাকার অনেক তরুণ আমাকে পিসি নিয়ে আসেন। বেশিরভাগেরই অভিযোগ, ভোল্টেজ ফ্ল্যাকচুয়েশনের কারণে তাদের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট (PSU) পুড়ে গেছে অথবা এসএসডি ডেটা করাপ্ট হয়ে গেছে। বারবার এরকম শাটডাউনের ফলে সিস্টেমের সফটওয়্যার ফাইলগুলোও ক্র্যাশ করছে। এটি আসলে এক প্রকারের প্রযুক্তিগত নীরব ধ্বংসযজ্ঞ।”

প্রযুক্তিগত এই অনিশ্চয়তা কালিগঞ্জের কর্মজীবী মানুষের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ তৈরি করছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, অনিশ্চিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তাদের পড়াশোনা এবং অনলাইন ক্লাসের শিডিউল এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। তাড়াহুড়ো করে কাজ করার ফলে চোখের সমস্যা ও ঘাড়ের ব্যথায় ভোগা মানুষের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন-বিদ্যুৎ বিভাগের দায়বদ্ধতা নিয়ে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যদি নিয়মিত ও পরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো, তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হতো না। অধিকাংশ সময় ‘মেরামতের’ নামে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হলেও কার্যত সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

এখন জনমনে জোর প্রশ্ন উঠেছে-এই তথাকথিত মেরামতের নামে কাদের পকেট ভারী হচ্ছে? বিদ্যুৎ কেবল একটি সেবা নয়, এটি বর্তমান ডিজিটাল অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কালিগঞ্জের সাধারণ মানুষ ও পেশাজীবীরা এখন দ্রুত এই অরাজক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি এবং বিদ্যুৎ বিভাগের স্বচ্ছ জবাবদিহিতা দাবি করছেন।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জ ধলবাড়িয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে গাজী মিজানুর রহমান মনোনীত

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে স্থবির কালিগঞ্জ: কোটি টাকার ক্ষতির দায় কার?

আপডেট সময় : ১০:১৩:৩৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী, কালিগঞ্জ থেকে :

সকাল থেকে রাত-কালিগঞ্জে এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ। আধুনিক জীবনযাত্রা, পেশাগত দক্ষতা আর ব্যবসায়িক লেনদেনের চাকা যখন ইন্টারনেটের গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলছে, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্থবির হয়ে পড়ছে জনজীবন। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত এক বছরে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

এলাকার ফ্রিল্যান্সার ও অনলাইন উদ্যোক্তাদের অবস্থা এখন সবচেয়ে শোচনীয়। পেশাদার গ্রাফিক ডিজাইনার রহিম আহমেদ বলেন, “গত সপ্তাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের মাঝপথে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। ইউপিএস ব্যাকআপ দেওয়ার আগেই পিসি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফাইলটি করাপ্ট হয়ে যায়। ক্লায়েন্টকে প্রজেক্ট জমা দিতে না পারায় আমার দীর্ঘদিনের কাজের সুযোগ হাতছাড়া হলো। এখন ভয়ে কাজ করতে বসলে মনে হয়, এই বুঝি বিদ্যুৎ চলে গেল!”

অফলাইন ব্যবসায়িক প্রতিকূলতা নিয়ে স্থানীয় উদ্যোক্তা আসিফজানান, “অনলাইন ডেলিভারির জন্য সারাদিন পিসি ও ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ অফিসের যে লুকোচুরি, তাতে ব্যবসার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিদ্যুৎহীনতায় ইন্টারনেটের মডেমগুলোও কাজ করে না, যা আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।”

হঠাৎ বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে কালিগঞ্জের অনেক কর্মজীবীর কম্পিউটার হার্ডওয়্যার স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি বিশেষজ্ঞ মো: ফয়সাল বলেন, “এলাকার অনেক তরুণ আমাকে পিসি নিয়ে আসেন। বেশিরভাগেরই অভিযোগ, ভোল্টেজ ফ্ল্যাকচুয়েশনের কারণে তাদের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট (PSU) পুড়ে গেছে অথবা এসএসডি ডেটা করাপ্ট হয়ে গেছে। বারবার এরকম শাটডাউনের ফলে সিস্টেমের সফটওয়্যার ফাইলগুলোও ক্র্যাশ করছে। এটি আসলে এক প্রকারের প্রযুক্তিগত নীরব ধ্বংসযজ্ঞ।”

প্রযুক্তিগত এই অনিশ্চয়তা কালিগঞ্জের কর্মজীবী মানুষের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ তৈরি করছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, অনিশ্চিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তাদের পড়াশোনা এবং অনলাইন ক্লাসের শিডিউল এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। তাড়াহুড়ো করে কাজ করার ফলে চোখের সমস্যা ও ঘাড়ের ব্যথায় ভোগা মানুষের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন-বিদ্যুৎ বিভাগের দায়বদ্ধতা নিয়ে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যদি নিয়মিত ও পরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো, তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হতো না। অধিকাংশ সময় ‘মেরামতের’ নামে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হলেও কার্যত সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

এখন জনমনে জোর প্রশ্ন উঠেছে-এই তথাকথিত মেরামতের নামে কাদের পকেট ভারী হচ্ছে? বিদ্যুৎ কেবল একটি সেবা নয়, এটি বর্তমান ডিজিটাল অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কালিগঞ্জের সাধারণ মানুষ ও পেশাজীবীরা এখন দ্রুত এই অরাজক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি এবং বিদ্যুৎ বিভাগের স্বচ্ছ জবাবদিহিতা দাবি করছেন।