1. satnews24@satkhiranews24.com : sat24admin :
সাতক্ষীরা ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো ইসলামাবাদ বৈঠক: অনড় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কালিগঞ্জে চেয়ারম্যানের বাড়ী অবৈধ ডিজেল, যৌথ বাহিনীর অভিযান, মুচেলকা শেষে জরিমানা পাকিস্তান সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দল: ইরান যুদ্ধ বিরতির লাইভ আপডেট কালিগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির কবলে শিক্ষক পরিবার: সর্বস্ব লুট কালিগঞ্জের মাঠ কাঁপানো সেই সোনালী দিন : ক্রীড়া দিবসের স্মৃতিচারণ ট্রাম্পের চরমসীমার মুখে পাকিস্তান-প্রণীত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব; পর্যালোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জ্বালানী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত একটি প্রস্তুতি থাকতে হবে কালিগঞ্জ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার : জনমনে আতঙ্ক, আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে প্রক্ষেপক হামলা: নিহত ১ সাতক্ষীরার তিন উপজেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা: জনজীবন ও কৃষিতে বিশেষ নির্দেশনা

কালিগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে জুতা পেটা খেলেন প্রধান শিক্ষক!

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ৪৩১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা):

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে  শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করতে গিয়ে জুতা পেটা খেলেন কালিগঞ্জ আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নাশকতা মামলার আসামি শফিকুল ইসলাম। গত ১৬ মার্চ সোমবার বিকেলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নিজের অপকর্ম ঢাকতে সংসদ সদস্যের কাছে গিয়েও মিথ্যাচার করে সেখান থেকে বিতাড়িত হয়েছেন অভিযুক্ত এই শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তিনি নাকি ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছিলেন শিক্ষা অফিসারকে।

উপজেলা মাধ্যমিক (ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম গত ১৬ মার্চ বেলা ৩টার দিকে কয়েকজন লোক নিয়ে তার অফিসে প্রবেশ করেন। তিনি তার বর্ধিত বকেয়া বেতনের ফাইলে সই করার জন্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। শিক্ষা কর্মকর্তা আইনি জটিলতার কথা বললে শফিকুল তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারতে উদ্যত হন। একপর্যায়ে ঘুষের প্রলোভন দেখিয়ে ফাইল ছাড়ানোর চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ শিক্ষা কর্মকর্তা ও অফিসের কর্মচারীরা তাকে জুতা পেটা করে অফিস থেকে বের করে দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের পাহাড়সম অভিযোগ রয়েছে। ২০০০ সাল থেকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগের নামে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের কাছ থেকে ডোনেশনের নামে ৮ লক্ষ এবং এমপিওভুক্তির জন্য ২ লক্ষ টাকা নিলেও আজও তার ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠাননি শফিকুল। উল্টো আরও ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করায় জালাল উদ্দিন গত ২৪ বছর ধরে বিনা বেতনে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

তথ্য বলছে, গত ১৩/০৬/২৫ তারিখে কালীগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত ৯ নং নাশকতা মামলায় শফিকুল ইসলাম গত ২১/১২/২৫ তারিখে গ্রেফতার হয়ে জেল খাটেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তাকে সাময়িক বরখাস্ত না করায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, একই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া নলতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনারুল ইসলামকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হলেও শফিকুলের ক্ষেত্রে রহস্যজনক নীরবতা পালন করা হচ্ছে।

শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে অপদস্থ হওয়ার পর শফিকুল ইসলাম স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের কার্যালয়ে গিয়ে কান্নাকাটি করে মিথ্যা অভিযোগ দেন। তবে নাশকতার মামলায় জেল খাটা এবং দুর্নীতির সব তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ সংসদ সদস্য তাকে তার কার্যালয় থেকে বের করে দেন।

এর আগে শফিকুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা শ্যামনগর-কালীগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছিল। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মইনুল হাসান খানের কাছে গিয়েও তিনি ফাইলে সই করাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো ইসলামাবাদ বৈঠক: অনড় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

কালিগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে জুতা পেটা খেলেন প্রধান শিক্ষক!

আপডেট সময় : ০৫:১৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা):

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে  শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করতে গিয়ে জুতা পেটা খেলেন কালিগঞ্জ আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নাশকতা মামলার আসামি শফিকুল ইসলাম। গত ১৬ মার্চ সোমবার বিকেলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নিজের অপকর্ম ঢাকতে সংসদ সদস্যের কাছে গিয়েও মিথ্যাচার করে সেখান থেকে বিতাড়িত হয়েছেন অভিযুক্ত এই শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তিনি নাকি ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছিলেন শিক্ষা অফিসারকে।

উপজেলা মাধ্যমিক (ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম গত ১৬ মার্চ বেলা ৩টার দিকে কয়েকজন লোক নিয়ে তার অফিসে প্রবেশ করেন। তিনি তার বর্ধিত বকেয়া বেতনের ফাইলে সই করার জন্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। শিক্ষা কর্মকর্তা আইনি জটিলতার কথা বললে শফিকুল তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারতে উদ্যত হন। একপর্যায়ে ঘুষের প্রলোভন দেখিয়ে ফাইল ছাড়ানোর চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ শিক্ষা কর্মকর্তা ও অফিসের কর্মচারীরা তাকে জুতা পেটা করে অফিস থেকে বের করে দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের পাহাড়সম অভিযোগ রয়েছে। ২০০০ সাল থেকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগের নামে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের কাছ থেকে ডোনেশনের নামে ৮ লক্ষ এবং এমপিওভুক্তির জন্য ২ লক্ষ টাকা নিলেও আজও তার ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠাননি শফিকুল। উল্টো আরও ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করায় জালাল উদ্দিন গত ২৪ বছর ধরে বিনা বেতনে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

তথ্য বলছে, গত ১৩/০৬/২৫ তারিখে কালীগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত ৯ নং নাশকতা মামলায় শফিকুল ইসলাম গত ২১/১২/২৫ তারিখে গ্রেফতার হয়ে জেল খাটেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তাকে সাময়িক বরখাস্ত না করায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, একই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া নলতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনারুল ইসলামকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হলেও শফিকুলের ক্ষেত্রে রহস্যজনক নীরবতা পালন করা হচ্ছে।

শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে অপদস্থ হওয়ার পর শফিকুল ইসলাম স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের কার্যালয়ে গিয়ে কান্নাকাটি করে মিথ্যা অভিযোগ দেন। তবে নাশকতার মামলায় জেল খাটা এবং দুর্নীতির সব তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ সংসদ সদস্য তাকে তার কার্যালয় থেকে বের করে দেন।

এর আগে শফিকুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা শ্যামনগর-কালীগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছিল। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মইনুল হাসান খানের কাছে গিয়েও তিনি ফাইলে সই করাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।